BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ৩০ নভেম্বর ২০২১, ২০:২০

তুরস্ক-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে: তুর্কি প্রতিনিধি দল

চট্টগ্রাম, ৩০ নভেম্বর, ২০২১ (বাসস) : তুরস্ক-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এক বিলিয়ন ডলার হলেও এক্ষেত্রে বাণিজ্য বৃদ্ধির অনেক সুযোগ রয়েছে। বাংলাদেশ সরকার বিদেশি বিনিয়োগের জন্য ট্যাক্স হলিডেসহ নানা সুবিধা প্রদান করছে। অবকাঠামো উন্নয়নের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বিনিয়োগের জন্য আদর্শ স্থান হিসেবে গড়ে উঠছে। চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে দেশের ৯২ শতাংশ রপ্তানি ও ৮৫ শতাংশ আমদানি কর্মকান্ড পরিচালিত হচ্ছে। 
তুরস্ক বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিকের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট বাণিজ্য প্রতিনিধিদল চিটাগাং চেম্বারে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ বঙ্গবন্ধু কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে আজ সকালে এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা একথা বলেন।
চেম্বার প্রেসিডেন্ট মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, তুরস্ক বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান পোলাট এরকুমেন্ট এবং ওজদেন হিদায়েত ওনুর, তুরস্কের অনারারি কনসাল জেনারেল সালাহ্উদ্দীন কাসেম খান বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যদের মধ্যে চেম্বার পরিচালক একেএম আকতার হোসেন, জহিরুল ইসলাম চৌধুরী (আলমগীর), অঞ্জন শেখর দাশ, নাজমুল করিম চৌধুরী শারুন, সাজির আহমেদ, মো. ইফতেখার ফয়সাল, এসএম তাহসিন জোনায়েদ ও মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, বিএসআরএম’র চেয়ারম্যান আলীহুসেইন আকবর আলী, দক্ষিণ আফ্রিকার অনারারি কনসাল সোলায়মান শেঠ, পেডরোলোর চেয়ারম্যান নাদের খান, চেম্বারের প্রাক্তন পরিচালক মাহফুজুল হক শাহ, জিপিএইচ ইস্পাতের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আলমাস শিমুল, প্রান্তিক গ্রুপের এমডি ইঞ্জিনিয়ার গোলাম সরওয়ার, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড’র এমডি ক্যাপ্টেন সোহেল হোসেন, বিকেএমইএ’র পরিচালক গাজী মো. শহিদ উল্যাহ, রিহ্যাব’র কো-চেয়ারম্যান-২ মাহবুব সোবহান জালাল তানভীর, জিপিএইচ’র মিডিয়া এডভাইজার ও  চেম্বারের প্রাক্তন সচিব ওসমান গণি চৌধুরী, বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন সেক্টরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 
চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, মিরসরাই ইকোনমিক জোনে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ শিল্পাঞ্চলে জাপান, ভারতসহ বিভিন্ন দেশ বিনিয়োগের জন্য বিশেষ জোন নির্মাণ করছে। কাজেই তুর্কির উদ্যোক্তারা বঙ্গবন্ধু শিল্প নগরে শিল্প কারখানা স্থাপন করে ১৭ কোটি মানুষের দেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদাপূরণের পাশাপাশি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানির সুযোগ গ্রহণ করতে পারে। তিনি বেসরকারি খাতে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইস্তাম্বুল-ঢাকা-চট্টগ্রাম ফ্লাইট চালু করার অনুরোধ জানান এবং পরবর্তী চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় পার্টনার কান্ট্রি হিসেবে তুরস্ক অংশগ্রহণ করবে বলে তথ্য প্রকাশ করেন।       
তুরস্ক বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল’র চেয়ারপারসন হুলিয়া জেডিক বলেন, বন্দরনগরী চট্টগ্রাম শুধুমাত্র বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য নয় বরং এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের দেশসমূহের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা  পালন করতে পারে। তিনি তুরস্ক এবং বাংলাদেশের মধ্যে ঐতিহাসিক ও সাদৃশ্যপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে উভয় দেশের মধ্যে বর্তমান ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যকে ২ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করেন। হুলিয়া জেডিক বাংলাদেশের অমিত সম্ভাবনার প্রসংগ তুলে ধরে বলেন, তুরস্ক যেসব পণ্য নিজে উৎপাদন করে না সেসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে আমদানি করতে পারে। তিনি বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি, স্টিল, প্রকৌশল, শিক্ষা ইত্যাদি খাতে তুর্কি বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক আগ্রহের কথা জানান। তিনি ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্কোন্নয়নের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন এবং ইস্তাম্বুল ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ে চট্টগ্রামের ১০ জন ছাত্র-ছাত্রীকে স্কলারশিপ প্রদানের ঘোষণা দেন।      

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়
বেটা ভার্সন