শিরোনাম

ঢাকা, ২৩ জুন ২০২৬ (বাসস) : ২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপের আয়োজক তো নয়ই, অংশগ্রহণও করছে না বাংলাদেশ। তারপরও বিশ্বকাপ ঘিরে বাংলাদেশ জুড়ে সর্বত্র এখন উন্মাদনা বিরাজ করছে।
প্রতিবার বিশ্বকাপ যখনই ঘনিয়ে আসে, পুরো বাংলাদেশ জুড়ে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়। হাজার হাজার মাইল দূরে বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হলেও বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, স্পেন, জার্মানি এবং পর্তুগালকে সমর্থন জানাতে বিশাল পতাকা, প্রিয় দলের জার্সি, গ্রাফিতি এবং রাস্তায় খেলা দেখাসহ বিভিন্ন উৎসবে মেতে উঠে ফুটবলপ্রেমিরা।
বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক মামুনুল ইসলাম মামুনও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নন। ২০০৯ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করা এবং ২০১৩ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করা এই সাবেক মিডফিল্ডার মনে করেন, ফিফা বিশ্বকাপ বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ক্রীড়া আয়োজন। কারণ ফুটবল বিশ্বকাপ জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে পুরো বিশ্বকে এক মঞ্চে নিয়ে আসে।
বাসসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিশ্বকাপ নিয়ে নিজের ভাবনা তুলে ধরেছেন মামুনুল।
বাসস : বিশ্বকাপে কোন দলকে সমর্থন করছেন? ছোটবেলা থেকে একই দলের সমর্থন কিনা?
মামুনুল : বিশ্বকাপে আমি আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করছি। ছোটবেলা থেকেই আমি আর্জেন্টিনার সমর্থক।
বাসস : সাবেক পেশাদার ফুটবলার হিসেবে, একজন ভক্ত হিসেবে আবেগ দিয়ে ম্যাচ দেখেন, নাকি প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে বিশ্লেষণ করেন?
মামুনুল : আমি ফুটবল সত্যিই উপভোগ করি। খেলার দিনগুলোতে আমি দারুণ আবেগ নিয়ে খেলতাম এবং এখনও আমি ফুটবল ম্যাচ দেখাটা দারুন উপভোগ করি। অবশ্যই আমার ফুটবল অভিজ্ঞতা আমাকে ম্যাচের কৌশলগত দিকগুলো উপলব্ধি করতেও সাহায্য করে।
বাসস : ফিফা বিশ্বকাপে দলসংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮-এ উন্নীত করা হয়েছে। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?
মামুনুল : আমি মনে করি এটি অত্যন্ত ইতিবাচক সিদ্ধান্ত। দলসংখ্যা ৩২ থেকে ৪৮ দলে উত্তীর্ণ করায় প্রতিযোগিতাটি আরও উত্তেজনাপূর্ণ হবে এবং আরও অনেক দেশকে ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সুযোগ করে দেবে।
বাসস : ফুটবলে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) এবং অন্যান্য প্রযুক্তির ব্যবহার সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
মামুনুল : আমি মনে করি এটি একটি ইতিবাচক অগ্রগতি। রেফারিরা ভুল করতে পারেন, কিন্তু ভিএআর এবং অন্যান্য প্রযুক্তি তাদেরকে ম্যাচের সময় আরও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
বাসস : আপনি প্রথম বিশ্বকাপ কবে দেখেছিলেন? সেই টুর্নামেন্টের স্মৃতি কি আপনার মনে আছে?
মামুনুল : আমার এখনও মনে আছে ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিল চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। আমি রোমারিও এবং বেবেতোর মতো কিংবদন্তি খেলোয়াড়দের খেলা উপভোগ করেছি।
বাসস : আপনার মতে কোন দল এই বিশ্বকাপ জিতবে?
মামুনুল : আমার মনে হয়, বিশ্বকাপ জয়ের ভালো সুযোগ আছে আর্জেন্টিনার।
বাসস : কোন খেলোয়াড়ের পারফরমেন্স দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন?
মামুনুল : লিওনেল মেসি। বিশ্ব ফুটবলে এখন তার মতো আর কেউ নেই। তিনি আমার প্রিয় খেলোয়াড় এবং আমি সবসময় তার খেলা দেখার জন্য অধীর আগ্রহে থাকি।
বাসস : প্রতিটি বিশ্বকাপ বাংলাদেশের ফুটবল ভক্তদের মধ্যে এক অবিশ্বাস্য পরিবর্তন নিয়ে আসে। মানুষ তাদের প্রিয় দলের পতাকা ওড়ায়, জার্সি পরে আবেগের সাথে উদযাপন করে। এই উৎসাহকে কিভাবে মূল্যায়ন করেন?
মামুনুল : আমি বিশ্বকাপকে বিশেষ কিছু হিসেবে দেখি। ফিফা বিশ্বকাপ সারা বিশ্বের মানুষকে একত্রিত করে। এটি আনন্দ, ঐক্য এবং ফুটবলের প্রতি একটি অভিন্ন আবেগ তৈরি করে।
এগুলোই এই টুর্নামেন্টকে এত বিশেষ এক মাত্রা দেয়।