বাসস
  ১৯ জুন ২০২৬, ১৬:০৩
আপডেট : ১৯ জুন ২০২৬, ১৮:১৬

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল : ছবি- সংগৃহীত


ঢাকা, ১৯ জুন ২০২৬ (বাসস) : টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচ সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে আজ অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে হারিয়েছে বাংলাদেশকে। সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি ৪ উইকেটে জিতেছিল অসিরা। ফলে এক ম্যাচ বাকী থাকতে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ জয় নিশ্চিত করল অস্ট্রেলিয়া।

এর আগে একবার খেলা দ্বিপাক্ষিক সিরিজে বাংলাদেশের কাছে ৪-১ ব্যবধানে হেরেছিল অসিরা।

চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়ে উদ্বোধনী জুটিতে ১৭ বলে ৩০ রান তুলে বিচ্ছিন্ন হন জশ ইংলিশ ও অধিনায়ক মিচেল মার্শ।

১টি করে চার-ছক্কায় ৬ বলে ১১ রান করে বাংলাদেশ স্পিনার নাসুম আহমেদের বলে লেগ বিফোর আউট হন ইংলিশ।

তিন নম্বরে ১ রানের বেশি করতে পারেনি কুপার কনোলি। বাংলাদেশ পেসার নাহিদ রানার বলে সাইফ হাসানের দুর্দান্ত ক্যাচে বিদায় নেন তিনি।

পাওয়ার প্লের শেষ বলে সাজঘরের পথ ধরেন ৩টি চারে ১৯ বলে ২০ রান করা মার্শ। বাংলাদেশ পেসার মুস্তাফিজুর রহমানের বলে সাইফের দ্বিতীয় ক্যাচে পরিণত হন অসি দলনেতা।

৪৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। এ অবস্থায় বাংলাদেশ বোলারদের সামনে চড়াও হন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। ২৭ বলে জুটিতে পঞ্চাশ পূর্ণ করে অস্ট্রেলিয়াকে চাপমুক্ত করেন তারা।

মারমুখী মেজাজ ধরে রেখে ২৯ বলে টি-টোয়েন্টিতে দ্বিতীয় হাফ-সেঞ্চুরি করেন রেনশ।

হাফ-সেঞ্চুরির সম্ভাবনা জাগিয়ে বাংলাদেশ পেসার আব্দুল গাফফার সাকলাইনের প্রথম শিকার হন ডেভিড। ২ চার ও ৪ ছক্কায় ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন তিনি। রেনশর সাথে ৫০ বলে ৯৭ রানের জুটি গড়েন ডেভিড।

দলীয় ১৪১ রানে ডেভিড ফেরার পর ক্রিজে আসেন নিখিল চৌধুরি। ৮ রান করে নাসুমের বলে লেগ বিফোর আউট হন তিনি।

এরপর ষষ্ঠ উইকেটে ২৪ বলে ৪২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রানের বড় সংগ্রহ এনে দেন রেনশ ও জোয়েল ডেভিস।

৪টি চার ও ৫টি ছক্কায় ৫২ বলে ক্যারিয়ার সেরা ৮৯ রান তুলে অপরাজিত থাকেন রেনশ। ১ ছক্কায় ৮ বলে ১৩ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ডেভিস।

বাংলাদেশের নাসুম ২টি, সাকলাইন-রানা ও মুস্তাফিজুর ১টি করে উইকেট নেন।

সিরিজে টিকে থাকতে ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশকে ২২ বলে ৪৮ রানের সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান ও সাইফ হাসান। জুটিতে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে থামেন তানজিদ।

রানের গতি ধরে রেখে তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকারের সাথে ১৯ বলে ২৯ রান যোগ করেন সাইফ। দলীয় ৭৭ রানে সৌম্য আউট হলে দ্বিতীয় উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ৩টি চারে ৯ বলে ১৫ রান করেন সৌম্য।

তৃতীয় উইকেটে ৩৬ বলে ৫৩ রানের ঝড়ো জুটিতে বাংলাদেশকে জয়ের লড়াইয়ে রাখেন সাইফ ও পারভেজ হোসেন ইমন। তাদের জুটির কল্যাণে এক পর্যায়ে জয়ের জন্য ৮ উইকেট হাতে নিয়ে ৪৪ বলে ৬৭ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের।

১৩তম ওভারের পঞ্চম বলে দলীয় ১৩০ রানে ইমনকে শিকার করে অস্ট্রেলিয়াকে ব্রেক-থ্রু এনে দেন পেসার অ্যারন হার্ডি। এরপরই পথ হারায় বাংলাদেশ।

দলীয় ১৩৪ রানে সাইফ ও ১৫৩ রানে শামিম হোসেন আউট হওয়ার পর বাংলাদেশের জয়ের পথ কঠিন হয়ে পড়ে। শেষ ৩ ওভারে ৪২ রান দরকার পড়ে টাইগারদের। ১৮তম ওভারে ৮ ও ১৯তম ওভারে ১১ রানে এলে, ম্যাচের শেষ ওভারে ২৩ রানের দরকারে ১ উইকেটের বিনিময়ে ১৫ রান তুলতে সক্ষম হয় বাংলাদেশ। ফলে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৮৯ রান করে ম্যাচ ও সিরিজ হারে টাইগাররা।

ইমন ২২ বলে ২ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৬, সাইফ ৩৩ বলে ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ৪২ এবং শামীম ৭ রান করেন। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে ৩টি বাউন্ডারি ও ২টি ওভার বাউন্ডারিতে ২২ বলে ৩৫ রান করেন অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়। ১১ বলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন সাকলাইন। ষষ্ঠ উইকেটে ২১ বলে ৩৬ রানের জুটি গড়েও বাংলাদেশের হার এড়াতে পারেননি হৃদয় ও সাকলাইন।

অস্ট্রেলিয়ার হার্ডি ২ উইকেট নেন। ম্যাচ সেরা হন অস্ট্রেলিয়ার রেনশ।

আগামী ২১ জুন একই ভেন্যুতে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া।

সংক্ষিপ্ত স্কোর :

অস্ট্রেলিয়া : ১৯৬/৫, ২০ ওভার (রেনশ ৮৯*, ডেভিড ৪৫, নাসুম ২/২৭)।

বাংলাদেশ : ১৮৯/৬, ২০ ওভার (সাইফ ৪২, ইমন ৩৬, হার্ডি ২/৪০)।

ফল : অস্ট্রেলিয়া ৭ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা : ম্যাট রেনশ (অস্ট্রেলিয়া)।

সিরিজ : তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।