বাসস
  ১৬ জুন ২০২৬, ১৯:৪০

পুরো বিশ্বকাপে ইরানই সবচেয়ে নিপীড়িত দল

ঢাকা, ১৬ জুন ২০২৬ (বাসস) : কোচ আমির গালেনোয়ি বলেছেন, বিশ্বকাপে ইরানই সবচেয়ে নিপীড়িত দল। কারণ তার খেলোয়াড়দের হঠাৎ জানানো হয়েছে যে লস অ্যাঞ্জেলেসে সোমবার রাতে উদ্বোধনী ম্যাচ শেষ হওয়ার পরপরই তাদের মেক্সিকোতে ফিরে যেতে হবে।

এটি ইরান দলের জন্য আরেকটি বড় লজিস্টিক দুর্ভোগ। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপে অংশ নিতে আসার সময় থেকেই তেহরান ও ওয়াশিংটনের তিক্ত কূটনৈতিক বিরোধের প্রভাব তাদের ওপর পড়েছিল।

ইরানের সঙ্গে কয়েক মাস ধরে চলমান সামরিক সংঘাতের কারনে দলের কিছু সাপোর্ট স্টাফকে ভিসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। এমনকি খেলোয়াড়দের ভ্রমণসংক্রান্ত নথিও শেষ মুহূর্তে সরবরাহ করে।

নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে ২-২ গোলে ড্র করার পর সাংবাদিকদের গালেনোয়ি বলেন, “তারা আমাদের আগমন বিলম্বিত করেছে, আর এখন পর্যাপ্ত বিশ্রামের সময় না দিয়েই আগেভাগে ফিরে যেতে বাধ্য করছে।”

তিনি আরও বলেন, “তারা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে, আমাদের সামনে একের পর এক বাঁধা তৈরি করছে। কিন্তু আমরা এটাকে আমাদের সেরাটা দেওয়ার পথে বাধা হতে দেব না।”

গালেনোয়ির মতে, আগে তাদের জানানো হয়েছিল যে প্রথম ম্যাচের পর বিশ্রামের জন্য মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রে থাকতে পারবে। কিন্তু আবারও তারা আমাদের সেই অনুমতি দেয়নি। সত্যি বলতে, কেন তারা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা আমার জানা নেই।

কোচের দাবি, গুরত্বপূর্ণ কয়েকজন সাপোর্ট স্টাফ অনুপস্থিত থাকায় দলের কারিগরি স্টাফদের অতিরিক্ত প্রশাসনিক দায়িত্বও পালন করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, “এই কারণেই আমি মনে করি, বিশ্বকাপে আমরাই সবচেয়ে নিপীড়িত দল”। 

সোমবার লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ইরানের প্রথম ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ম্যাচ শেষে ইরানের তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমি টুর্নামেন্টে তাদের প্রতি আচরণকে বিপর্যযয় বলে আখ্যা দেন।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “এটি খেলোয়াড়, স্টাফ এবং সবার জন্যই প্রচন্ড চাপের বিষয়। কিন্তু আমরা প্রয়োজনীয় সমর্থন পাচ্ছি না। আমার মনে হয় ফিফার আমাদের আরও বেশি সহায়তা করা উচিত। আসলে আমাদের জন্য সবকিছুই যেন এক ধরনের বিপর্যয়।”

তারেমি জানান, খেলোয়াড়দের যে সোমবারই যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে হবে, সে বিষয়টি তারা ম্যাচের দিনই প্রথম জানতে পারে।

তিনি বলেন, “আমরা এই পরিস্থিতিতে ক্লান্ত। কারণ গত দুই মাস ধরে, এমনকি গত মাসেও, আমরা অনেক সমস্যার মধ্য দিযয়ে যাচ্ছি। পরিস্থিতি খুবই খারাপ এবং এটি আমাদের দলের ওপর প্রভাব ফেলছে। আমরা শুধু শান্তি চাই- যা ফিফার মূল মূল্যবোধের একটি, ‘শান্তি, আনন্দ’ এবং এ ধরনের বিষয়।”

তারেমি আরও জানান, ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ইরানের ড্রেসিংরুমে এসে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন, “তিনি আমাদের সাহায্য করার চেষ্টা করতে চান। তবে বিষয়টি আরও অনেক কিছুর সঙ্গে জড়িত।”