শিরোনাম

ঢাকা, ১৩ জুন, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকায় চলমান বয়সভিত্তিক পুরুষ আইএইচএফ (আন্তর্জাতিক হ্যান্ডবল ফেডারেশন) ট্রফিতে আজ শনিবার রোমাঞ্চকর এক ম্যাচের স্বাক্ষী হয়েছে পল্টনস্থ শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী জাতীয় হ্যান্ডবল স্টেডিয়ামের হাজারখানেক দর্শক।
এ দিন অনূর্ধ্ব-২০ বিভাগের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ইয়েমেন। স্নায়ুক্ষয়ী লড়াইয়ে নির্ধারিত ৬০ মিনিটে ৩৩-৩৩ গোলে সমতায় ছিল ম্যাচ। এরপর ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। সেই দশ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জয় পায় বাংলাদেশ। ইয়েমেনকে ৩৮-৩৭ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে স্বাগতিকরা।
দিনের অন্য সেমিফাইনালে ভারত ৫৮-২৩ গোলে মালদ্বীপকে হারায়। আগামীকাল রোববার বিকেল ৫টায় ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
ইয়েমেনের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়রা উচ্চতায় ও ফিটনেসে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে। কিন্তু পুরো ম্যাচে ইয়েমেনের সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে খেলেছে বাংলাদেশ। ম্যাচের স্কোর লাইনে কেউ কাউকে ছাড়িয়ে যেতে পারেনি। কখনও ১০:১০ তো কখনও ১১:১১। এভাবেই এগিয়েছে পুরোটা সময়। শেষ মিনিট পর্যন্ত বারবার রং বদলেছে ম্যাচের আবহ। ম্যাচ দেখে মনে হচ্ছিল একটা রোলার কোস্টারের জার্নি! একবার বাংলাদেশ এগিয়েছে তো পরক্ষণেই ইয়েমেন। শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ জয় করেই মাঠ ছেড়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা।
ম্যাচ শেষ হতেই তাই কোচ, কর্মকর্তারা খেলোয়াড়দের সঙ্গে উচ্ছ্বাসে ভেসে গেছেন। দলের প্রায় সব খেলোয়াড়ই ম্যাচের পর আবেগে কান্নায় সতীর্থদের জড়িয়ে ধরেছেন।
বাম কনুইয়ে চোট পেয়েও দুর্দান্ত খেলেছেন অধিনায়ক রাতুল উদ্দিন। সর্বোচ্চ ৯ গোল করে হয়েছেন ম্যাচ সেরা।
এমন স্নায়ুর লড়াই শেষে ম্যাচ জিততে পেরেই খুশি রাতুল, “আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল ম্যাচ জিতব।
কিন্তু কিছু সমস্যার কারণে এত কঠিন হয়ে যায় ম্যাচ। নিজের সেরা দিয়েই খেলেছি। জানতাম প্রতিপক্ষ অনেক শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের ভাবনার চেয়ে ভালো ওরা। প্রচন্ড কঠিন এক লড়াই হয়েছে।”
অতিরিক্ত সময়ে শেষ পাঁচ মিনিটে সুমল তঞ্চঙ্গ্যা লাল কার্ড পেলে দুই মিনিট বাংলাদেশকে ৫ জন নিয়ে খেলতে হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৫ জন হয়েও মনোবল ভাঙেনি বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের। ওই সময় কোচের পরামর্শ মেনে খেলেছেন বলে জানালেন রাতুল, “কোচ অনুশীলনে ৫ জনের ম্যাচও খেলিয়েছে।
যখন কেউ লাল কার্ড দেখবে তখন কেমন খেলব, সেটা জানতাম। তাই আমরা সেই কৌশল কাজে লাগিয়ে জিতেছি। ভারত কঠিন প্রতিপক্ষ হলেও আমরা তাদের হারিয়ে ঘরের মাঠে ইনশাআল্লাহ চ্যাম্পিয়ন হতে চাই।”
ফাইনালে প্রধান অতিথি থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেবেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম, এমপি।