বাসস
  ১৩ জুন ২০২৬, ২২:০২

বড় দল হতে হলে আইসিসি টুর্নামেন্টে সাফল্য পেতেই হবে : সৌম্য

ঢাকা, ১৩ জুন ২০২৬ (বাসস) : অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ওয়ানডে সিরিজ জয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে আইসিসি ইভেন্টে সাফল্য পাওয়াই দলের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন টাইগার ওপেনার সৌম্য সরকার।

প্রথম দুই ম্যাচ দাপটের সাথে জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেও বড় উদযাপনে মেতে ওঠেনি বাংলাদেশ দল। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কর্তৃক প্রকাশিত ভিডিওতে পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে সতীর্থদের মনে করিয়ে দিতে দেখা যায় যে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে দলের চূড়ান্ত লক্ষ্য হওয়া উচিত বিশ্বকাপ জয় করা।

মুস্তাফিজের সাথে এক মত সৌম্যও। তার মতে, বিশ্ব ক্রিকেটে বড় শক্তি হতে হলে বাংলাদেশকে অবশ্যই সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। 

সৌম্য বলেন, ‘একটি বিশ্বকাপ শেষ হলে, আপনাকে পরের বিশ্বকাপ এবং কীভাবে আরও ভালো করা যায় সেটি নিয়ে ভাবতে শুরু করতে হবে। মুস্তাফিজুর যা বলেছে তা একদম ঠিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘বড় দল হতে হলে এই কাজগুলো করতে হবে। আইসিসি ইভেন্ট বা বড় টুর্নামেন্টে ভালো না করলে কোনো মূল্য নেই। আমরা এমন একটি দল হতে চাই, যারা যেকোনো বড় টুর্নামেন্টে সাফল্য অর্জন করতে পারবে এবং বাংলাদেশ ক্রিকেটকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পারবে।’

একই সাথে সৌম্য জানান, অস্ট্রেলিয়াকে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করা বাংলাদেশের ওয়ানডে ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন হিসেবে বিবেচিত হবে। 

২০০৫ সালে কার্ডিফ অঘটনের পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডে জয়ের জন্য ২১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে বাংলাদেশকে। চলমান সিরিজের প্রথম ম্যাচে বৃষ্টি আইনে ৮৬ রানের জয়ে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটে। দ্বিতীয় ওয়ানডে বৃষ্টি আইনে ৫ উইকেটে জিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

সিরিজ জয়ের পর এখন আরেকটি ঐতিহাসিক অর্জনের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। নিজেদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশের সুযোগ টাইগারদের। সৌম্য বলেন, ‘এটা অনেক বড় কিছু হবে। আমাদের সিরিজ জয় করাটাও অনেক বড় অর্জন। আমাদের এটা আরও বড় করে উদযাপন করা উচিত ছিল। আমরা ৩-০ ব্যবধানে জিততে পারলে সেটি আমাদের জন্য আরও বড় অর্জন হবে। আমাদের সবার ইতিবাচক ক্রিকেট খেলাই মূল লক্ষ্য।’

এর আগে দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজে কেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করেছে বাংলাদেশ। এই সিরিজের আগে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে খেলা আগের দুটি দ্বিপাক্ষিক ওয়ানডে সিরিজের কোনোটিতেই একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি টাইগাররা।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ হলো- তাসকিন আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান এবং নাহিদ রানার নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী পেস বোলিং ইউনিট গড়ে উঠা। 

দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তাসকিনের সাথে জুটি বেঁধে অস্ট্রেলিয়াকে ইনিংসের শুরুতে খাদের কিনারায় ফেলে দেয় বাংলাদেশ। কোনো রান তোলার আগেই ৩ উইকেট হারায় অসিরা। 

বর্তমান পেস আক্রমণকে বাংলাদেশের অন্যতম শক্তিশালী আক্রমণ হিসেবে মনে করেন সৌম্য। তিনি বলেন, ‘আমি যতগুলো পেস বোলিং বিভাগ দেখেছি, তার মধ্যে এটি অন্যতম সেরা। আমরা কোন পরিস্থিতিতে বা কোন দেশে খেলি, তা কোনো বিষয় না। আমাদের বিপক্ষে খেলতে নামা যেকোনো দলই আমাদের পেস আক্রমণ নিয়ে অবশ্যই ভাববে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এমনকি আমরা যখন বিদেশে খেলি, তখনও প্রতিপক্ষকে ভাবতে হয় যে, তারা পেস বোলিং-বান্ধব উইকেট তৈরি করবে কি না। আমরা এখন পেস বোলিংয়ে খুব ভালো সময়ে মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’