বাসস
  ০৯ জুন ২০২৬, ১২:০৬

বিশ্বকাপ ২০২৬ : ৪৮ দল সর্ম্পকে যা জানা দরকার (প্রথম ৪টি গ্রুপ)

ঢাকা, ৯ জুন ২০২৬ (বাসস) : অপেক্ষার প্রহর প্রায় শেষ, কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিব্য ২০২৬ বিশ^কাপ এখন শুরুর দ্বারপ্রান্তে। এখন প্রাক-টুর্নামেন্ট নানা প্রশ্ন নিয়ে সমর্থকদের মনে প্রশ্নের পাল্লাটা প্রতিনিয়ত ভারী হচ্ছে।

২০২২ কাতার বিশ^কাপে লিওনেল মেসির নেতৃত্বাধীন আর্জেন্টিনা শিরোপা জয় করেছিল। আর সেই শিরোপা পাশাপাশি মেসির গায়েও লেগে গিয়েছিল সর্বকালের সেরা ফুটবলারের তকমা। মেসির দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী পর্তুগীজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডো এবার রেকর্ড ষষ্ঠ বিশ^কাপ খেলতে মাঠে নামছে। তার হাতে এখনও শোভা পায়নি বিশ^কাপের ঝকঝকে ট্রফিটি। 

তারকা সমৃদ্ধ অন্য দলগুলোকে নিয়েও আগ্রহ কম নয়। সেরা দলটির হাতেই উঠবে ১৯ জুলাই ফাইনালের বিজয়ী শিরোপা। স্পেনের ওয়ান্ডারবয় লামি ইয়ামাল কি পারবেন ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশীপের পাশে দেশকে বিশ^কাপের শিরোপাও উপহার দিকে? দুইবারের চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স চার বছর আগে রানার্স-আপ হওয়ার হতাশা কাটিয়ে আবারও কি ফাইনালে খেলতে পারবে? হ্যারি কেনের ইংল্যান্ডের জন্যই বা কি অপেক্ষা করছে? ভিনিসিয়াস জুনিয়রের ব্রাজিল কি পারবে ২৪ বছরের খরা কাটাতে? ফেবারিটের তালিকা থেকে জার্মানীও কি পারবে এবার শেষ পর্যন্ত টিকে থাকতে? এবারের আসওে অভিষিক্ত চার দল কেপ ভার্দে, কুরাসাও, জর্ডান, উজবেকিস্তানই বা নিজেদেও প্রমান করতে পারবেন কিনা? 

তিনটি সহ-আয়োজক কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ভিন্ন কিছু আশা করা হচ্ছে। 
গ্রুপ-এ : মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র

মেক্সিকো ১১ জুন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে। জয় দিয়ে তাদের নকআউট পর্বের পথে যাত্রা শুরু করার লক্ষ্য রাখবে। তাদের আশা থাকবে অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর, যা অর্জন করতে পারলে তারা নিজেদের সেরা বিশ্বকাপ সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করবে। এর আগে বিশ্বকাপ আয়োজক হিসেবে দুইবার অংশ নিয়ে মেক্সিকো কোয়ার্টার-ফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছেছিল।

তবে উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের সামনে থাকবে দক্ষিণ আফ্রিকা। কোচ হুগো ব্রুসের অধীনে দলটির স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের কারণে এবার প্রথমবারের মতো নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্ন তাদের জন্য বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠেছে।

গ্রুপ থেকে অন্তত তৃতীয় স্থান অর্জন করে পরবর্তী পর্বে ওঠাই অভিজ্ঞ ও পরিণত চেক প্রজাতন্ত্রের দলের ন্যূনতম লক্ষ্য হওয়া উচিত। গ্রুপ ‘এ’-এর দলগুলোর শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় নিলে দ্বিতীয় স্থান অর্জনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায়না। 

অন্যদিকে, দক্ষিণ কোরিয়ান ক্ষেত্রে সবসয়়ই প্রত্যাশা থাকে যে তারা গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে যাবে। তবে ইতিহাস বলে কাজটি সব সময় সহজ হয়নি। চার বছর আগে শেষ ষোলোতে ওঠার সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করাও একটি ভালো অর্জন হবে, কিন্তু সন হেয়াং-মিন ও তার সতীর্থরা অন্তত কোয়ার্টার-ফাইনালে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখছেন।

সূচী :
১১ জুন : মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, দক্ষিণ কোরিয়া বনাম চেক প্রজাতন্ত্র
১৮ জুন : চেক প্রজাতন্ত্র বনাম দক্ষিণ আফ্রিকা, মেক্সিকো বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
২৪ জুন : চেক প্রজাতন্ত্র বনাম মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম দক্ষিণ কোরিয়া
গ্রুপ-বি : কানাডা, বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কাতার-সুইজারল্যান্ড

কাগজে-কলমে গ্রুপ ‘বি’-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দল সুইজারল্যান্ড। তারা যদি গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করতে পারে, তাহলে শেষ ষোলো পর্যন্ত কোনো ঐতিহ্যবাহী ফুটবল পরাশক্তির মুখোমুখি না হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। পরিকল্পনাটি সফল করতে পারলে এটি তাদের জন্য অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক পথ হতে পারে।

তবে কানাডা ও বসনিয়া-হার্জেগোভিনাকে কোনোভাবেই হালকাভাবে নেওয়া যাবে না। কোচ জেসি মার্শেল অধীনে সহ-আয়োজক কানাডা এখনো বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। কিন্তু ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার সেমিফাইনালিস্টদের কাছ থেকে অন্তত নকআউট পর্বে ওঠার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা প্লে-অফে ইতালিকে হারিয়ে বিশ্বকাপে জায়গা করে নিয়েছে। ফলে তাদের অবহেলা করার সুযোগ নেই। কানাডার চোট-সমস্যা যদি তাদের পারফরম্যান্সে প্রভাব ফেলে, তাহলে বসনিয়া গ্রুপে দ্বিতীয় স্থানও ছিনিয়ে নিতে পারে।

গ্রুপ ‘বি’-এর আরেক দল হলো কাতার। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ আয়োজন করে স্বাগতিক দেশ হিসেবে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ার পর, ‘দ্য ম্যারুনস’ এবার এমন একটি গ্রুপে সুযোগ কাজে লাগাতে চাইবে যেখানে কোনো প্রকৃত বিশ্ব ফুটবল পরাশক্তি নেই। তাই তারা এক-দুটি অঘটন ঘটানোর আশা করতেই পারে।

সূচী :
১২ জুন : কানাডা বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা 
১৩ জুন : কাতার বনাম সুইজারল্যান্ড
১৮ জুন : সুইজারল্যান্ড বনাম বসনিয়া-হার্জেগোভিনা, কানাডা বনাম কাতার
২৪ জুন : সুইজারল্যান্ড বনাম কানাডা, বনসিয়া-হার্জেগোভিনা বনাম কাতার
গ্রুপ-সি : ব্রাজিল, মরক্কো, হাইতি, স্কটল্যান্ড

ব্রাজিলের লক্ষ্য সবসময়ই বিশ্বকাপ জয় করা। তাদের সর্বশেষ শিরোপা জয়ের পর ২৪ বছর কেটে গেছে, যা পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন একমাত্র দেশের জন্য অত্যন্ত দীর্ঘ ও হতাশাজনক অপেক্ষা। যদিও বর্তমান দলে অতীতের মতো অসংখ্য ব্যক্তিগত তারকার ছড়াছড়ি নেই, তবুও ‘সেলেসাও’ সবসময়ই এমন একটি দল গড়ে তোলে, যারা যেকোনো বাঁধা অতিক্রম করার সামর্থ্য রাখে।

ঐতিহাসিক ২০২২ বিশ্বকাপ অভিযান এবং বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ দশে অবস্থানের পর মরক্কোর প্রত্যাশা থাকবে গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে অন্তত কোয়র্টার-ফাইনালে পৌঁছানো। আগের প্রধান কোচ ওয়ালিদ রেগ্রারুইয়ের রক্ষণাত্মক কৌশল নিয়ে সমর্থকদের একাংশের সমালোচনার পর, এবার আরও আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ফুটবল দেখার আশা থাকবে।

স্কটল্যান্ড ও হাইতি শুধু অংশগ্রহণের জন্য গ্রুপ ‘সি’-তে আসেনি, তবে নকআউট পর্বে পৌঁছানো তাদের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হবে। কোচ স্টিভ ক্লার্কেওর এবারের দলটি অনেকটাই ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে হতাশাজনক পারফরম্যান্স করা স্কটল্যান্ড দলের মতোই। তাই শেষ ৩২-এ ওঠাই তাদের সর্বোচ্চ অর্জন হতে পারে।

অন্যদিকে হাইতি অন্তত গ্রুপ পর্বে প্রতিপক্ষদের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে চায়। আর হয়তো প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করে তারা নিজেদের বিশ্বকাপ যাত্রায় প্রাথমিক আশার সঞ্চারও করতে পারে।

সূচী : 
১৩ জুন : ব্রাজিল বনাম মরক্কো, হাইতি বনাম স্কটল্যান্ড
১৯ জুন : স্কটল্যান্ড বনাম মরক্কো, ব্রাজিল বনাম হাইতি
২৪ জুন : স্কটল্যান্ড বনাম ব্রাজিল, মরক্কো বনাম হাইতি
গ্রুপ-ডি : যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, তুরষ্ক

ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং অনুযায়ী গ্রুপ ‘ডি’ বিশ্বকাপের সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ গ্রুপ। তাই সহজেই কল্পনা করা যায় যে চারটি দলের যেকোনো একটি গ্রুপের শীর্ষে উঠতে পারে, আবার শেষ স্থানেও ছিটকে যেতে পারে। কোচ মরিসিও পোচেত্তিনোর অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর থাকবে স্বাগতিক দেশের বাড়তি চাপ এবং তাদের কাছ থেকে নকআউট পর্বে উল্লেখযোগ্য কিছু করার প্রত্যাশা থাকবে। বাস্তববাদী কোনও সমর্থকই হয়তো ফাইনাল পর্যন্ত যাওয়ার আশা করবেন না। তবে দলটি যদি পুরোপুরি ফিট থাকে এবং নিজেদের সেরা ফুটবল খেলতে পারে, তাহলে নকআউট পর্বে এক, দুই, এমনকি তিনটি ম্যাচও জিততে সক্ষম হতে পারে। তবে কাগজে-কলমে গ্রুপের সবচেয়ে শক্তিশালী দল সম্ভবত তুরষ্ক। তারা যদি গ্রুপে শীর্ষস্থান অর্জন করতে পারে, তাহলে শেষ ৩২-এ তুলনামূলক সহজ প্রতিপক্ষ পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। 
অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়েকেও কোনোভাবেই দুর্বল দল হিসেবে দেখা যাবে না। ‘সকারুজ’ নামে পরিচিত অস্ট্রেলিয়া ২০২২ সালে সব প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে নকআউট পর্বে পৌঁছেছিল এবং এবারও সেই সাফল্য পুনরাবৃত্তির আশা রাখে।

অন্যদিকে ‘লস গুয়ারানিয়েস’ নামে পরিচিত প্যারাগুয়ে টুর্নামেন্টে ফুটবলের জন্য আদর্শভাবে গড়ে ওঠা একটি দল বলে মনে হয়। কোচ গুস্তাভো আলফারোর শিষ্যরা বিশ্বকাপে যেকোনো দলের জন্যই কঠিন প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবে এবং শেষ ষোলোতে পৌঁছানোর জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ গুণাবলিও তাদের রয়েছে।

সূচী :
১২ জুন : যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে
১৩ জুন : অস্ট্রেলিয়া বনাম তুরষ্ক
১৯ জুন : যুক্তরাষ্ট্র বনাম অস্ট্রেলিয়া, তুরষ্ক বনাম প্যারাগুয়ে
২৫ জুন : তুরষ্ক বনাম যুক্তরাষ্ট্র, প্যারাগুয়ে বনাম অস্ট্রেলিয়া