বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১৫:২১

আল হিলাল ক্লাবকে পরাজিত করে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে চেলসি, প্রতিপক্ষ পালমেইরাস

আবু ধাবী, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২২ (বাসস) : রোমেলু লুকাকুর একমাত্র গোলে সৌদি আরবের আল হিলাল ক্লাবকে পরাজিত করে ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চিত করেছে চেলসি। শনিবার ফাইনালে ব্লুজদের প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আমেরিকান চ্যাম্পিয়ন  ব্রাজিলের পালমেইরাস। আবু ধাবীর মোহাম্মদ বিন জায়েদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৩২ মিনিটে জয়সূচক গোলটি করেন লুকাকু। টুর্ণামেন্টে এশিয়ান ক্লাবের বিপক্ষে ইউরোপীয়ান কোন ক্লাবের এটি ১২ ম্যাচে ১২তম জয়।
আবু ধাবীতে আসার আগে চেলসির ক্লাব রেকর্ড চুক্তিভূক্ত বেলজিয়ান তারকা লুকাকু পাঁচ ম্যাচে কোন গোল পাননি। মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে এসে ২৮ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকারের কাছ থেকে সেরা ফর্মটাই আশা করছে চেলসি। রক্ষনভাগের ভুলে প্রথমার্ধের পাওয়া সুযোগটি অবশ্য শতভাগ কাজে লাগিয়েছেন লুকাকু। এরই মাধ্যমে তিন বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মত ক্লাব বিশ্বকাপের ফাইনালে দেখা যাবে ইংলিশ ক্লাব ও ব্রাজিলিয়ান ক্লাবের মধ্যকার জমাট লড়াই।
ক্লাব বিশ্বকাপ জয়ে তৃতীয় ইংলিশ ক্লাব হিসেবে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও লিভারপুলের পর চেলসিও নাম লেখাতে মরিয়া হয়ে আছে। ২০১২ সালে প্রথমবারের মত খেলতে এসে করিন্থিয়ান্সের কাছে পরাজিত হয়ে রানার্স-আপ হয়েছিল চেলসি। কোভিড পজিটিভ হয়ে বাড়িতে আইসোলেশনে এখনো চেলসির ডাগ আউটে ফিরতে পারেননি কোচ থমাস টাচেল। 
মিশরীয় ক্লাব আল আহলিকে গতকাল আরেক সেমিফাইনালে ২-০ গোলে পরাজিত করে ফাইনাল নিশ্চিত করেছিল পালমেইরাস। সাবেক মোনাকো বস লিওনার্দো জার্দিমের অধীনে আল হিলাল এখন তৃতীয় স্থান নির্ধারনী ম্যাচে আল আহলির মোকাবেলা করবে। 
ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও ওয়ার্টাফোর্ডের সাবেক ফরোয়ার্ড ওডিয়ন ইগালোর সাথে পোর্তোর সাবেক স্ট্রাইকার মুসা মারেগা আক্রমনভাগে থাকা সত্তেও আল হিলাল ক্লাব চেলসির গোলরক্ষক কেপা আরিজাবালাগাকে খুব কমই বিপদে ফেলতে পেরেছে। সেনেগালকে বিজয়ী করে এডুয়ার্ডো মেন্ডি দলে ফিরলেও কাল স্প্যানিয়ার্ড আরিজাবালাগার ওপরই আস্থা রেখেছিল চেলসি। হাকিম জিয়েচের শট অল্পের জন্য পোস্টে ঠিকানা খুঁজে পায়নি। সিজার আজপিলিকুয়েটার লো ক্রস থেকে লুকাকু ঠিকমত বলটি ধরতে পারেননি। কিন্তু পুরো ম্যাচে লুকাকুর প্রচেষ্টার কোন অভাব ছিলনা। তার প্রথম শটটি সহজেই রুখে দেন আল হিলালের গোলরক্ষক আল-মেয়ুফ। কিন্তু ৩২ মিনিটে একটি বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন ডিফেন্ডার ইয়াসির আল-শাহারানি। সেই সুযোগে লুকাকু বল জালে পাঠিয়ে চেলসিকে এগিয়ে দেন। মূলত এই গোলের যোগানদাতা ছিলেন কেই হাভার্টজ। জার্মান এই স্ট্রাইকারের ক্রসেই লুকাকু গোলের সুযোগ কাজে লাগান। 
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই জিয়েচের একটি শট দারুন দক্ষতায় রুখে দেন আল-মেয়ুফ। আগের ম্যাচে আল জাজিরাকে ৬-১ গোলে উড়িয়ে দেয়া আল হিলাল অবশ্য কাল পুরো ম্যাচেই ছিল নিষ্প্রভ। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা আক্রমনের চেষ্টা করেছিল সৌদি আরবের ক্লাবটি। ২০ মিটার থেকে মোহাম্মদ কানোর কার্লিং শট একহাতে রক্ষা করে চেলসিকে বাঁচিয়ে দেন আরিজাবালাগা। এর আগে মারেগার শট লাইনের উপর থেকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এই স্প্যানিয়ার্ড। গত মৌসুমে ওয়েস্ট ব্রুমের হয়ে চেলসির বিপক্ষে দারুন খেলা ব্রাজিলিয়ান ম্যাথিয়াস পেরেইরাকে ৮২ মিনিটে বদলী বেঞ্চ থেকে উঠিয়ে এনেও সফল হতে পারেনি আল হিলাল। শেষ পর্যন্ত লুকাকুর ঐ এক গোলেই হতাশ হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে চারবারের রেকর্ড এশিয়ান লিগ বিজয়ীদের।