বাসস
  ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৬:৫৭

আগামী বাংলাদেশ হবে ক্রীড়াবান্ধব : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

ছবি : বাসস

ঢাকা, ৬ এপ্রিল ২০২৬ (বাসস) : জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মোঃ আমিনুল হক দেশের ক্রীড়াঙ্গনের আমূল পরিবর্তন ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে সরকারের নানামুখী পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্পষ্টভাবে বলেছেন আগামী দিনের বাংলাদেশ হবে একটি পূর্ণাঙ্গ ক্রীড়াবান্ধব দেশ, যেখানে খেলাধুলার মাধ্যমেই সকল ভেদাভেদ ভুলে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করা হবে।

খেলোয়াড়দের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ১২৯ জন খেলোয়াড়কে বেতন কাঠামোর আওতায় এনে ক্রীড়া ভাতা ও ক্রীড়া কার্ড প্রদান করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে অবশিষ্টদের প্রদান করা হবে। এই পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার সাথে সম্পন্ন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি চার মাস অন্তর খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও পারফরম্যান্স রিভিউ করা হবে। এর মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ের খেলোয়াড়দের পরিবারে রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার বিষয়ে বিশেষ আস্থা ও ভরসা তৈরি হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোর মানোন্নয়নে কর্পোরেট সংশ্লিষ্টতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাতেগোনা দুই-একটি প্রতিষ্ঠান বাদে অধিকাংশ ফেডারেশনের অবস্থা বর্তমানে নাজুক। ফেডারেশনগুলোকে শক্তিশালী করতে ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সাথে আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ছোট ছোট ফেডারেশনগুলোর পরিচালনার দায়িত্ব একেকটি কর্পোরেট হাউসের ওপর ন্যস্ত করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

আগামী ৩০ এপ্রিল সিলেট থেকে দেশব্যাপী একযোগে 'নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস' কর্মসূচির যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে বলে প্রতিমন্ত্রী সভায় নিশ্চিত করেন।ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডি এবং দাবাসহ মোট সাতটি ভিন্ন ভিন্ন ইভেন্টে এই কর্মসূচি পরিচালিত হবে। স্পোর্টস ডিপ্লোমেসি বা ক্রীড়া কূটনীতিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, খেলার মাঠে দল-মত নির্বিশেষে সকলে একাত্ম হয়ে যায়, আর এই ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে কাজে লাগিয়েই আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার।

পরিশেষে অবকাঠামো নির্মাণের চেয়ে দক্ষ খেলোয়াড় তৈরির ওপর অধিক জোর দেওয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত সময়ের সাবেক খেলোয়াড়দের অভিজ্ঞতা ও অবদানকে মূল্যায়ন করে তাদের নিয়েও সরকারের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা রয়েছে।