শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : চলমান ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারে উল্লেখযোগ্য গতি এসেছে। পাঁচ মাসে ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়েছে ৫০ লাখ ৮০ হাজার।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিশ্বকাপ চলাকালে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাওয়াসহ কয়েকটি কারণে ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১২ কোটি ৮৯ লাখ। মে মাস শেষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩ কোটি ৪১ লাখে।
একই সময়ে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহকের সংখ্যা ১৮ কোটি ৫৮ লাখ থেকে বেড়ে ১৮ কোটি ৮৬ লাখে পৌঁছেছে। এ সময়ে নতুন সক্রিয় গ্রাহক যুক্ত হয়েছে ২৮ লাখ।
খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমী মোবাইল ফোনে বিশ্বকাপের ম্যাচ স্ট্রিমিং করায়, ইন্টারনেট ট্রাফিক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহও ইন্টারনেট ব্যবহারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সহায়তা করেছে।
তাদের মতে, ঈদের ছুটিতে ডিজিটাল মাধ্যমে যোগাযোগ বৃদ্ধি, এইচএসসি পরীক্ষা-সংশ্লিষ্ট অনলাইন কার্যক্রম ও মোবাইল ফোনের সিমে আরোপিত ৩০০ টাকার কর পুরোপুরি প্রত্যাহার করাও নতুন মোবাইল সংযোগ বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
রবি’র কর্পোরেট ও রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান শাহেদ আলম বাসসকে বলেন, চলমান ফিফা বিশ্বকাপের পাশাপাশি আরও কয়েকটি কারণে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ বেড়েছে। এর ফলে ইন্টারনেট ট্রাফিকও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা-সুইজারল্যান্ড কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ চলাকালে বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইন্টারনেট ট্রাফিক রেকর্ড করা হয়েছে।’
শাহেদ আলম আরও বলেন, সিম কর পুরোপুরি প্রত্যাহার হওয়াও গ্রাহক সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
জুন ও পরবর্তী মাসগুলোতে এর ইতিবাচক প্রভাব আরও দেখা যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিটিআরসি’র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মোট ইন্টারনেট গ্রাহকের প্রায় ৮৯ শতাংশই মোবাইল ইন্টারনেট ব্যবহারকারী।
মে মাসে নিবন্ধিত ১৩ কোটি ৪১ লাখ ইন্টারনেট গ্রাহকের মধ্যে ১১ কোটি ৯১ লাখ মোবাইল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করেছেন।
বাকি ১ কোটি ৪৯ লাখ গ্রাহক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান (আইএসপি) ও পিএসটিএন অপারেটরদের ফিক্সড ব্রডব্যান্ড সেবা ব্যবহার করেছেন।
তথ্যে দেখা যায়, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ইন্টারনেট গ্রাহক বৃদ্ধির প্রায় পুরোটা এসেছে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহকদের মাধ্যমে।
এ সময়ে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক ১১ কোটি ৪২ লাখ থেকে বেড়ে ১১ কোটি ৯১ লাখে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রায় ৪৯ লাখ নতুন গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন।
অন্যদিকে, জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত ফিক্সড ব্রডব্যান্ড গ্রাহক ছিল ১ কোটি ৪৭ লাখ। এপ্রিলে তা বেড়ে ১ কোটি ৪৯ লাখে ওঠে ও মে মাসেও একই অবস্থায় থাকে।
সর্বশেষ পরিসংখ্যানে, ফেব্রুয়ারিতে সাময়িকভাবে ইন্টারনেট গ্রাহক কমে যাওয়ার চিত্রও উঠে এসেছে।
ওই মাসে মোট ইন্টারনেট গ্রাহক নেমে আসে ১২ কোটি ৮২ লাখে এবং মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক কমে দাঁড়ায় ১১ কোটি ৩৫ লাখে।
যদিও মার্চে আবার প্রবৃদ্ধি শুরু হয়। ওই মাসে মোবাইল ইন্টারনেট গ্রাহক বেড়ে হয় ১১ কোটি ৪৮ লাখ। এপ্রিলে তা ১১ কোটি ৬৪ লাখ ও মে মাসে ১১ কোটি ৯১ লাখে পৌঁছে।
বিটিআরসি’র তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকা সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে সময়ে আবার বাড়তে শুরু করেছে।
২০২৫ সালের আগস্টে সক্রিয় মোবাইল গ্রাহক ছিল ১৮ কোটি ৮৫ লাখ। পরে তা ধারাবাহিকভাবে কমে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৮ কোটি ৫৮ লাখে নেমে আসে।
মে মাস শেষে দেশের সবচেয়ে বড় মোবাইল অপারেটর হিসেবে গ্রামীণফোনের গ্রাহক ছিল ৮ কোটি ৫৯ লাখ। এরপর রয়েছে রবি আজিয়াটা ৫ কোটি ৮২ লাখ, বাংলালিংক ৩ কোটি ৭৭ লাখ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিটক ৬৮ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক নিয়ে।
জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়ে টেলিটকই একমাত্র অপারেটর, যার গ্রাহক সংখ্যা কিছুটা কমেছে।
জানুয়ারিতে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক ছিল ৬৮ লাখ ৩০ হাজার। মে মাসে তা কমে ৬৮ লাখ ১০ হাজারে দাঁড়ায়।
বিটিআরসির সংজ্ঞা অনুযায়ী, গত ৯০ দিনের মধ্যে অন্তত একটি ভয়েস কল, এসএমএস বা ইন্টারনেট সেশন ব্যবহার করা হয়েছে— এমন সিমকেই সক্রিয় গ্রাহক হিসেবে গণ্য করা হয়।