শিরোনাম

/ আনোয়ার হোসেন শামীম /
গাইবান্ধা, ১৮ জুলাই ২০২৬ (বাসস): জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরে কমপক্ষে ৫০টি বসতভিটা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখ থেকে বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত চরের বাসিন্দারা। এদিকে পানি বাড়তে থাকায় তিস্তা নদী বেষ্টিত চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। ভাঙনকবলিত এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে আজ শনিবার পর্যন্ত ভোরের পাখি চর এলাকায় অর্ধশতাধিক বসতভিটা, স্কুল, মসজিদ, চার শতাধিক একর ফসলি জমিসহ রাস্তাঘাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনের মুখে পড়েছে পাঁচ শতাধিক বসতভিটা, শত শত একর ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে উপজেলার কাপাসিয়া, হরিপুর, বেলকা, চন্ডিপুর ও শ্রীপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে ভাঙন চরম আকার ধারণ করেছে।
সরেজমিনে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামার, ফুলমিয়ার মোড়, উজান বোচাগাড়ি, ভাটি বোচাগাড়ি ও কাপাসিয়া ঘুরে দেখা যায়, ওই সব এলাকায় ব্যাপক আকারে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নিমেষের মধ্যে ফসলি জমি, বসতভিটা, গাছপালা, রাস্তাঘাট নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর কষ্টের সীমা নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘জিও বার হয়ে যাবার ধরছে ভাই। হামারে সক কিছু নদীত পড়ে যাচ্ছে। ’

ভোরের পাখি চরের বাসিন্দা মোমেনা বেগম বাসসকে বলেন, ‘নদীত হামাহেরে আবাদি জমিগুলো ধপস ধপস করে পড়ে যাচ্ছে। এবার যে ভাবে ভাঙছে, বাঁচে থাকার জন্য কিছু থাকপালয় মনে হয়।’
নদী ভাঙনে ভুক্তভোগী আব্দুল হালিম বলেন, ‘সারা রাত জাগে থাকি। কখন যে বাড়ি ঘর সক নদীত পড়ে যায়। বিঘার পর বিঘা ফসলের জমি নদীর মধ্য ভাঙে পড়ছে।’ সারা বছরই এভাবে ভাঙনের শিকার হতে হয় চরের মানুষদের।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের মুখ থেকে বসতঘর সরিয়ে নিতে দিশেহারা চরবাসী। সরকারিভাবে নদী ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলা হলেও তা দিয়ে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। গত বৃহস্পতিবার সারারাত জেগে চরবাসী বসতভিটার গাছপালা, ঘরবাড়ি সরিয়ে নিয়েছেন।
কছিম বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নুরুল হক বাসসকে বলেন, অনেক আগেই তিস্তার গতিপথ পরিবর্তন হয়েছে। এ কারণে তিস্তা অসংখ্য শাখা নদীতে ভাগ হয়েছে। যার জন্য সময় এবং অসময়ে নদী ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মঞ্জু মিয়া বলেন, আমার ইউনিয়নের সবগুলো ওয়ার্ড নদীর চরে। গত ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে কাপাসিয়া ইউনিয়নের ভোরের পাখি চরে ৫০টি বসতভিটা, হাজারও গাছপালা, স্কুল, মসজিদ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। আমি বর্তমানে ভোরের পাখি চরে অবস্থান করছি।
কাপাসিয়া ইউনিয়ন বিএনপির নেতা মোজাহারুল ইসলাম বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে তার ইউনিয়নের কানিচরিতাবাড়ি গ্রামে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী খনন, ড্রেজিং, সংরক্ষণ, মেরামত এবং শাসন ছাড়া তিস্তার ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিয়ার রহমান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে কাপাসিয়া ও হরিপুর ইউনিয়নের কয়েকটি চরে ভাঙন দেখা দিয়েছে। চেয়াম্যানদের কাছ থেকে তালিকা চাওয়া হয়েছে। বরাদ্দ সাপেক্ষে বিতরণ করা হবে।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শরিফুল ইসলাম বাসসকে বলেন, জেলার সুন্দরগঞ্জ চর এলাকায় বেশ কিছু বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়েছে। দ্রুত জিও ব্যাগ ডাম্পিংসহ ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।