শিরোনাম

ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানো এবং জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে ছাদভিত্তিক (রুফটপ) সৌরবিদ্যুৎ থেকে উৎপাদিত প্রায় ৫ মেগাওয়াট (মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিম বুধবার বাসসকে বলেন, নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়াতে সরকারের কৌশলের অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে নতুন রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, ‘জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণ নিশ্চিত করতে আমরা সারা দেশে আরও বেশি সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি, যাতে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।’
বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, সংস্থাটির নিজস্ব পাওয়ার সেক্টর ডেভেলপমেন্ট ফান্ড থেকে অর্থায়নে দেশের ১৯টি স্থানে মোট ৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার গ্রিড-সংযুক্ত রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হচ্ছে।
এসব প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঘোড়াশালে ১ দশমিক ৩ মেগাওয়াট, খুলনায় শূন্য দশমিক ২৬ মেগাওয়াট, রাজশাহী প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শূন্য দশমিক ১২ মেগাওয়াট, চট্টগ্রাম প্রশিক্ষণকেন্দ্রে শূন্য দশমিক ১৩ মেগাওয়াট, বিবিয়ানায় শূন্য দশমিক ৪০ মেগাওয়াট, বড়পুকুরিয়ায় শূন্য দশমিক ২৫ মেগাওয়াট এবং দেশের আরও কয়েকটি স্থানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনা।
রুফটপ প্রকল্পের পাশাপাশি বিপিডিবি মোট ৭৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার তিনটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজও এগিয়ে নিচ্ছে। ৫০, ২০ এবং ৭ দশমিক ৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার এসব প্রকল্পের দরপত্র ২৩, ২৪ ও ২৫ জুন খোলা হয়েছে এবং বর্তমানে কারিগরি ও আর্থিক মূল্যায়ন চলছে।
আগামী মাসে মূল্যায়ন প্রতিবেদন বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দেওয়া হবে। এরপর চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য তা সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হবে।
বিপিডিবির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে স্থাপিত সৌরবিদ্যুতের মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৮০৭ দশমিক ৭৫ মেগাওয়াট, যা দেশের মোট স্থাপিত বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার প্রায় ৫ দশমিক ০১ শতাংশ।
এ ছাড়া ১২টি স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের (আইপিপি) সঙ্গে মোট ৯১৮ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চুক্তি করেছে বিপিডিবি। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে ৭ দশমিক ৮০ মার্কিন সেন্ট, যা আগের তুলনায় প্রায় আড়াই সেন্ট কম। সাধারণত চুক্তি স্বাক্ষরের ২৪ মাসের মধ্যে গ্রিড-সংযুক্ত সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প উৎপাদনে আসে।
এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আনিন্দ্য ইসলাম অমিত পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
সরকার আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি রূপান্তর পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।