শিরোনাম

তানজিম আনোয়ার
ঢাকা, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স আগামী ২৭ জুলাই থেকে ঢাকা-নারিতা-ঢাকা সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু করতে চলেছে। জাপান এয়ারলাইন্স (জেএএল) এবং এয়ার কানাডার সাথে একটি প্রস্তাবিত কোডশেয়ার অংশীদারিত্বের মাধ্যমে এই পুনরুজ্জীবিত রুটটিকে উত্তর আমেরিকায় যাওয়ার প্রবেশদ্বার হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এক বছরেরও বেশি সময় স্থগিত থাকার পর জাপানের সাথে বাংলাদেশের একমাত্র নন-স্টপ বিমান সংযোগটি পুনরায় চালু করার জন্য জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. রশিদুজ্জামান মিল্লাত আজ বাসসকে বলেন, “নারিতা ফ্লাইট পুনরায় চালুর জন্য বিমান সব প্রস্তুতি নিয়েছে।”
তিনি বলেন, শিক্ষার্থী ও কর্মীসহ ৪০ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশি এখন জাপানে বসবাস করছেন এবং এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
তিনি আরও বলেন, "সরাসরি ফ্লাইট পুনরায় চালু হওয়ায় ঢাকায় নিযুক্ত জাপানি রাষ্ট্রদূত সহ জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।"
এই রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিষেবাটি স্থগিত করার আগেই লাভজনক হয়ে উঠেছিল।
তিনি বলেন, “শুরুতে লোকসান হলেও তিন থেকে চার মাসের মধ্যে এটি লাভ-লোকসান সমান করে লাভজনক হয়ে ওঠেছিল। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এটি স্থগিত করা হয়েছিল।”
মিল¬াত আরো বলেন, “এটা আশ্চর্যজনক যে, পূর্ববর্তী সরকার একটি লাভজনক রুট চালু রাখেনি। আমরা এখন সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছি।”
বিমানের পরিচালক (বিপণন ও বিক্রয়) আশরাফুল আলম বলেন, যাত্রীদের সাড়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক।
তিনি বলেন, "আমরা খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। সব আসন ইতোমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে, বিশেষ করে নারিতা থেকে ঢাকা ফিরতি ফ্লাইটের।"
প্রাথমিকভাবে, বিমান সংস্থাটি তাদের বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার বিমান দিয়ে সপ্তাহে একটি ফ্লাইট পরিচালনা করবে, এবং যাত্রীর চাহিদা ও বিমানের প্রাপ্যতার ওপর নির্ভর করে পর্যায়ক্রমে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানো হবে।
মূলত ৩০ জুন পুনরায় চালুর কথা থাকলেও, জাপান সিভিল এভিয়েশন ব্যুরো (জেসিএবি) চূড়ান্ত পরিচালন অনুমোদন দেওয়ার আগে একটি পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা নিরীক্ষা চাওয়ায় তা বিলম্বিত হয়।
বিমানের ঘাটতি, পরিচালন ব্যয় এবং বাণিজ্যিক বিবেচনার কথা উলে¬খ করে বিমান ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ঢাকা-নরিতা রুটে ফ্লাইট স্থগিত করে।
বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহনের পর বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক, বাণিজ্য ও জনগণের মধ্যে সম্পর্ক গভীর করার বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিমান সংস্থাটিকে এই পরিষেবা পুনরায় চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুনরুজ্জীবিত এই রুটটি বিমানের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে একটি কৌশলগত ভূমিকা পালন করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।
বিমানের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিমান সংস্থাটি জেএএল এবং এয়ার কানাডার সাথে একটি কোডশেয়ার অংশীদারিত্ব চালুর জন্য কাজ করছে, যার মাধ্যমে যাত্রীরা একটিমাত্র টিকিট, বোর্ডিং পাস এবং ব্যাগেজ চেক-থ্রু ব্যবহার করে নারিতা হয়ে ঢাকা থেকে ভ্যাঙ্কুভার এবং লস অ্যাঞ্জেলেসে নির্বিঘ্নে ভ্রমণ করতে পারবেন।
প্রস্তাবিত এই চুক্তির অধীনে, নারিতাগামী বিমানের ফ্লাইটে ভ্রমণকারী যাত্রীরা আলাদা টিকিট না কিনেই জেএএল এবং এয়ার কানাডার কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়াগামী ফ্লাইটে সংযোগ স্থাপন করতে পারবেন।
বিমান সংস্থার কর্মকর্তারা মনে করেন, এই ব্যবস্থাটি কানাডার পশ্চিম উপকূল এবং পশ্চিম মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণকারী যাত্রীদের আকৃষ্ট করার মাধ্যমে নারিতা রুটকে উলে¬খযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে, যেখানে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশী প্রবাসী বসবাস করেন।
গত বছর জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীর সঙ্গে এক বৈঠকে জেএএল-এর ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবে মোতোহিসা বলেন, প্রতি বছর প্রায় ৭০,০০০ যাত্রী কানেক্টিং ফ্লাইটের মাধ্যমে টোকিও ও ঢাকার মধ্যে যাতায়াত করেন, যা সরাসরি পরিষেবার জন্য শক্তিশালী বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ইঙ্গিত দেয়।
বিমান ১৭ বছরের বিরতির পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে প্রথম ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট চালু করে।