শিরোনাম

\ মামুন রশিদ \
রংপুর, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সবুজায়ন সম্প্রসারণে রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে সামাজিক সংগঠন ‘শাফওয়ান স্বপ্ন যাত্রা সংস্থা’ (এসএসএস)। সংস্থাটির অর্থায়নে ১,২০০টি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা বিতরণ ও রোপণের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এই কর্মসূচিতে সংস্থার স্বেচ্ছাসেবীরা রংপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কৃষক, শিক্ষার্থী, সামাজিক সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ মানুষের হাতে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা তুলে দেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে চারা রোপণ করে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।
আয়োজক তমাল হোসেন জানান, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন, বায়ুদূষণ এবং পরিবেশের অবক্ষয়ের প্রেক্ষাপটে বৃক্ষরোপণ এখন সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন। একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না, বরং মাটি সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, কার্বন শোষণ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তারা বলেন, ফলদ গাছ মানুষের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিতে সহায়ক, বনজ গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর এবং ঔষধি গাছ প্রাচীন ভেষজ চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। এই কারণে প্রতিটি পরিবারকে অন্তত একটি গাছ রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার আহ্বান জানানো হয়।
শাফওয়ান স্বপ্ন যাত্রা সংস্থা (এসএসএস)-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়, পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তুলতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। ভবিষ্যতেও পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক উন্নয়ন, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং টেকসই সবুজায়নের লক্ষ্যে এই ধরনের কর্মসূচি ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দা হামিদুর লিমন এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, বৃক্ষরোপণ শুধু একটি কর্মসূচি নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার বিনিয়োগ। তারা মনে করেন, সরকারি কর্মসূচির পাশাপাশি বেসরকারি ও সামাজিক সংগঠনগুলোর এমন উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হলে সবুজায়ন আন্দোলন শক্তিশালী হবে এবং পরিবেশ রক্ষায় সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণও বাড়বে।
পরিবেশবিদদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ এবং বিদ্যমান গাছের সুরক্ষা এখন সময়ের দাবি। এই ধরনের সামাজিক উদ্যোগ পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে দায়িত্ববোধ সৃষ্টি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।