শিরোনাম

\ ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন \
নাটোর, ১৫ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : জেলায় ভূমি উন্নয়ন কর আদায় লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা বেশী কর আদায় হয়েছে। কর আদায়ের হার ১১২.৩০ শতাংশ।
জেলা প্রশাসকের রাজস্ব শাখা সূত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত অর্থ বছরে জেলায় সাধারণ শ্রেণির বকেয়াসহ কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ ৪২ হাজার টাকা। এরমধ্যে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরের কর দাবী ৪ কোটি ৬০ লক্ষ ৯৮ হাজার টাকা এবং বকেয়া ৩ কোটি ৫ লক্ষ ৪৪ হাজার টাকা। পুঞ্জিভূত কর আদায় হয়েছে ৮ কোটি ৬০ লক্ষ ৬৭ হাজার টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯৪ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত কর আদায় হয়েছে।
তবে সংস্থা শ্রেণিতে ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে ১ কোটি ৩০ লক্ষ ৬৮ হাজার টাকা এবং বকেয়া ১ কোটি ৪৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকা অর্থাৎ মোট ২ কোটি ৭৪ লক্ষ ৮৯ হাজার টাকা লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়।
লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা।
সাধারণ এবং সংস্থা শ্রেণিতে জেলায় আদায়যোগ্য মোট করের পরিমাণ ছিলো ১০ কোটি ৪১ লক্ষ ৩২ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে মোট আদায় হয়েছে ১০ কোটি ৩৪ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ ৯৯. ৩০ শতাংশ কর আদায় হয়েছে।
পাশাপাশি একই অর্থ বছরে অর্পিত সম্পত্তি থেকে কর আদায়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৭৪ লক্ষ ৬৪ হাজার টাকা। লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয়েছে ৯৬ লক্ষ ৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ অর্পিত সম্পত্তির কর আদায়ের হার ১২৮. ৬৭ শতাংশ।
২০২৪-২০২৫ অর্থ বছরে জেলায় সাধারণ শ্রেণিতে ৭ কোটি ৮০ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে কর আদায় হয় ৮ কোটি ১৮ লক্ষ ১১ হাজার টাকা। কর আদায়ের হার ১০৪.৮১ শতাংশ। অন্যদিকে সংস্থা শ্রেণিতে ৩ কোটি ২৭ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে আদায় হয় ১ কোটি ৮৩ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা। কর আদায়ের হার ৫৫.৯৯ শতাংশ।
নাটোর সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফরহাদ আহমেদ বাসস’কে জানান, উপজেলার অধীন সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভা ভূমি অফিসে ভূমি উন্নয়ন কর আদায়সহ সকল ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রম অনলাইনে সম্পন্ন হচ্ছে। এখন আর ডিসিআর রশীদের জন্যে অপেক্ষায় থাকতে হয় না। তাই ভূমি উন্নয়ন কর আদায়ে গতিশীলতা এসেছে। লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে কর আদায় হচ্ছে।
নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আসমা খাতুন বাসস’কে বলেন, জেলার ৭ টি উপজেলা ভূমি অফিসের তত্ত্বাবধানে ৪৫টি ইউনিয়ন ভূমি অফিস এবং ৭ টি পৌরসভা ভূমি অফিসে কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া ভূমি সেবা সপ্তাহে প্রান্তিক পর্যায়ে করদাতাদের উদ্বুদ্ধ করতে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। ফলে সাধারণ শ্রেণির কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করেছে।
জেলা প্রশাসক আসমা শাহীন বাসস’কে বলেন, জেলার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সহজীকরণ করা হয়েছে। কর্মরত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছেন। পাশাপাশি প্রতি মাসে জেলাতে রাজস্ব সম্মেলন আয়োজনের মাধ্যমে কর আদায়ের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় দিক নিদের্শনা দেওয়া হয়। ফলশ্রুতিতে কর আদায়ে সফলতা অর্জিত হয়েছে।