শিরোনাম

/ মুহাম্মদ আমিনুল হক /
সুনামগঞ্জ, ১৪ জুলাই ২০২৬ (বাসস) বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন (মামলা পূর্ব বিরোধ মীমাংসা) চালুর পর সুনামগঞ্জে আইনি সেবাপ্রাপ্তি ও বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এক বছরের ব্যবধানে লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস আবেদনের সংখ্যা শতকরা ৯৮১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে আপোষে আর্থিক আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ গুণেরও বেশি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায়।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এর মাধ্যমে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালু হওয়ার পর বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।
গত এক বছরের (জানুয়ারি-জুন ২০২৫ থেকে জানুয়ারি-জুন ২০২৬) প্রি-কেস আবেদন ১৭১টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৮৪৯টি (প্রবৃদ্ধি ৯৮১%)। প্রি-কেস মীমাংসা ৭৯টি থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬৬টি (প্রবৃদ্ধি ২৩৬%)। আপোষে আর্থিক আদায় ২ লাখ ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকা (প্রবৃদ্ধি ১২২৩%)। সরকারি আইনি সহায়তা গ্রহীতা ১৫৭ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৪৬ জন (প্রবৃদ্ধি ৩৭৫%)। আইনি পরামর্শ গ্রহীতা ৬২০ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ৭৫৭ জন (প্রবৃদ্ধি ২২%)।
সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান ৩টি থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৬টি (প্রবৃদ্ধি ১৪৩৩%)। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ৭৭ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ১৯৯৫ জন (প্রবৃদ্ধি ২৪৯০%)। মোট উপকারভোগী ৬৩৯ জন থেকে বেড়ে হয়েছে ২,৫১৩ জন (প্রবৃদ্ধি ২৯৩%)। মোট নিষ্পত্তি ১৮৫টি থেকে বেড়ে হয়েছে ১, ৮৩২টি (প্রবৃদ্ধি ৮৯০%)।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, অনেকের মাঝে ধারণা আছে, লিগ্যাল এইড অফিসের আপোষনামা হয়ত একটি অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়া মাত্র। যার কোনো আইনি বাধ্যবাধকতা নেই।
তিনি বলেন, প্রকৃতপক্ষে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইন অনুযায়ী এই আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমমর্যাদা লাভ করে। এটি আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য একটি দলিল। কোনো পক্ষ আপোষনামা অমান্য করলে অপরপক্ষ আইনি প্রতিকার লাভ করতে পারেন। এছাড়া, মীমাংসা চলাকালীন কোনো পক্ষের স্বার্থ বা সম্পত্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিলে প্রয়োজনীয় অন্তর্র্বতীকালীন আদেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে তা রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুরেষা বেগম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ছিল। সরকারের লিগ্যাল এইডের সাহায্যে আমাদের দুই পক্ষের আলোচনায় মীমাংসা হয়েছে। এতে আমরা দুইজনই ন্যায্য বিচার পেয়েছি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ ছিল। সরকারের আইন সহায়তা নিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এজন্যে আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়নি।’
লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় নাগরিকরা নানাবিধ সুফল পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন : সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকছে।
তারা বলেন, প্রি- কেস মেডিয়েশন চালু করায় আদালতে নতুন মামলার চাপ কমছে। আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত হচ্ছে। এতে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় হচ্ছে।
সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল মামলার সংখ্যা কমানো নয়, বরং মানুষের দোরগোড়ায় দ্রুত, সহজ ও কার্যকর ন্যায়বিচার পৌঁছে দেওয়া।