শিরোনাম

॥ আল-আমিন শাহরিয়ার ॥
ভোলা, ১০ জুলাই,২০২৬ (বাসস) : বঙ্গোপসাগরের সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা ভোলায় গত একসপ্তাহ ধরে টানা বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।
আজ শুক্রবারও সকাল থেকে ভোলার আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার পাশাপাশি থেমে থেমে কখনো হালকা আবার কখনো মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড।
এদিকে, ভোলার মূল ভূ-খন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলসমূহ জোয়ার ও বৃষ্টির পানিতে প্লাবিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া,দক্ষিণ সাকুচিয়া, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। এছাড়াও সেখানকার চরকলাতলী, ঢালচর ও কাজীর চরেও জোয়ারের পানিতে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে এবং চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ,পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবু মুছা বাসস’কে জানান, জলাবদ্ধতা নিষ্কাশন ও পানিবন্দী মানুষকে রক্ষায় আমরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাসিন্দাদের সমন্বয়ে কাজ করছি। অসহায় সম্বলহীনদের তালিকা প্রনয়ণের কাজ শেষে তাদের সহযোগিতা করারও চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
এছাড়াও জেলার চরফ্যাশনের ঢাল চর কুকরী-মুকরী, চর পাতিলা,কচ্ছপিয়া, ভোলা সদরের ইলিশা, রামদাসপুর, মাঝের চর, বরাইপুর, দৌলতখানের মদনপুর, হাজীপুর চর নেয়ামতপুরে প্লাবিত এলাকাগুলোর পানির উচ্চতা এখন কমতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সেখানকার অধিবাসী ও জনপ্রতিনিধিগণ। পানির এই প্রবাহ এখন নিম্মমূখী হওয়ায় সেখানকার চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলের মানুষেরা এখন শঙ্কামুক্ত বলে খবর মিলেছে।
ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বাসস’কে বলেন, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে সমুদ্রবন্দরগুলোতে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এর প্রভাবে গত কয়েকদিন ভোলায় আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল এবং বৃষ্টিপাত হয়েছে।
তিনি জানান, গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় সর্বমোট ৩৪ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। তবে আজ শুক্রবার দুপুরের পর থেকে এই বৃষ্টিপাত উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে।
এদিকে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ হাসানুজ্জামান বাসস’কে জানিয়েছেন, টানা বর্ষণ ও জোয়ারের কারণে গত কয়েকদিন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হলেও বর্তমানে জোয়ার ও বৃষ্টির পানি কমতে শুরু করেছে।
এতে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক দিনে পানি আরও কমে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা.শামীম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, দুর্গত জনপদগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। ওইসব এলাকার অসহায় মানুষের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য ও প্রয়োজনীয় ব্যবহার্য্য উপকরণ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কোনো মানুষ যেন সাহায্য-সহযোগিতা থেকে বাদ না পড়েন, সেজন্য তার প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছেন বলেও জানান তিনি।
আজ শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটা নাগাদ এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জেলাজুড়ে থেমে থেমে ঝড়ো হাওয়া ও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল।