শিরোনাম

ঢাকা, ৭ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : মেধা পাচারকে পরিকল্পিত জ্ঞান বিনিময়ে রূপান্তরের লক্ষ্যে এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে বিদেশে কর্মরত উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের যুক্ত করতে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ (মেধার আবর্তন) কৌশল প্রণয়ন করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে এই উদ্যোগের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো—প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সংযোগ সৃষ্টি করা। এর মাধ্যমে দেশের একাডেমিক সহযোগিতা, গবেষণার সক্ষমতা ও উদ্ভাবন আরো শক্তিশালী হবে।
এই কৌশলের আওতায় বৈশ্বিক জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
এর মধ্যে রয়েছে ‘ভিজিটিং স্কলার’ কর্মসূচি। এর অধীনে বিদেশি বিশেষজ্ঞদের দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষকতা ও গবেষণার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হবে। পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষকদের সঙ্গে দেশের গবেষক ও শিক্ষার্থীদের যৌথ গবেষণা কর্মসূচিও চালু করা হবে।
এই উদ্যোগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রেডিট ট্রান্সফার ব্যবস্থা, শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি এবং সামার স্কুলও (গ্রীষ্মকালীন কোর্স) অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এগুলো শিক্ষার্থীদের একাডেমিক গতিশীলতা বৃদ্ধিতে এবং বৈশ্বিক মান অর্জনে সহায়তা করবে।
এসব পদক্ষেপের ফলে দেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকরা দেশেই অবস্থান করে আন্তর্জাতিক একাডেমিক ও পেশাদারী অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পাবেন। একইসঙ্গে তারা জাতীয় উন্নয়নের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ গবেষণা কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় বলেন, ‘আমরা ব্রেইন ড্রেনকে ব্রেইন সার্কুলেশনে রূপ দিতে কাজ করছি। বৈশ্বিক জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন বিদেশে বসবাসরত উচ্চশিক্ষিত বাংলাদেশিদের দেশের শিক্ষা ও গবেষণা খাতে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
তিনি আরো জানান, ক্রেডিট ট্রান্সফার ব্যবস্থা, বিনিময় কর্মসূচি, সামার স্কুল, ভিজিটিং স্কলার উদ্যোগ এবং যৌথ গবেষণা কর্মসূচি চালুর ফলে দেশের শিক্ষার্থীরা সরাসরি বৈশ্বিক একাডেমিক ও পেশাগত মান অর্জনের সুযোগ পাবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার দেশীয় গবেষণা ও উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দেবে এবং কার্যকর পৃষ্ঠপোষকতা নিশ্চিত করবে। আমাদের লক্ষ্য হবে দেশের আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জগুলোর বাস্তবমুখী ও টেকসই সমাধান খুঁজে বের করা।’
বাজেট নথি অনুযায়ী, এই কৌশল ‘মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ’ গড়ার বৃহত্তর প্রচেষ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেখানে শাসন প্রক্রিয়া ও জনসেবায় মেধা, সততা, যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাখাতে বড় ধরনের বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাব করেছে সরকার। আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ বাড়িয়ে জিডিপি’র ২ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যার পরিমাণ ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা, যা ছিল জিডিপি’র ১.৩৯ শতাংশ।
কর্মকর্তারা বলছেন, বর্ধিত শিক্ষা বরাদ্দের উদ্দেশ্য একাডেমিক অবকাঠামো, গবেষণা সক্ষমতা ও দক্ষতা উন্নয়নে সংস্কারকে সহায়তা করা। ব্রেইন সার্কুলেশনের মতো উদ্যোগ বাস্তবায়নে এটি প্রয়োজন।
কৌশলটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্ঞান নেটওয়ার্কের সংযোগ বাড়াবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি এটি গবেষণা, উদ্ভাবন ও সমস্যা সমাধানের জাতীয় সক্ষমতাকে শক্তিশালী করবে।
বৃহত্তর এই লক্ষ্যের কথা তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা শুধু নিজেদের ভবিষ্যৎই গড়বে না, বরং সমাজ ও দেশের জন্য সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেবে। এমন এক প্রজন্ম, যারা সুযোগের জন্য অপেক্ষা করবে না, বরং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে; যারা কেবল সময়ের অনুসারী হবে না, বরং পরিবর্তনের নেতৃত্ব দেবে।’
প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে বাংলাদেশের শিক্ষা ও উদ্ভাবন ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করতে কৌশলটি দীর্ঘমেয়াদি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।