বাসস
  ৩০ জুন ২০২৬, ১২:২৭
আপডেট : ৩০ জুন ২০২৬, ১২:৪৭

চাকরি ও দক্ষতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরিতে জেলা-উপজেলায় ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালুর পরিকল্পনা

ঢাকা, ৩০ জুন, ২০২৬ (বাসস): চাকরিপ্রার্থী ও কর্মসংস্থানের সুযোগের মধ্যে সংযোগ তৈরি এবং দেশজুড়ে দক্ষতার ঘাটতি দূর করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ বা ‘কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র’ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। মেধাভিত্তিক ও ন্যায্য কর্মসংস্থান ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুযায়ী, খাতভিত্তিক ও আঞ্চলিক অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সারা দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের বৃহত্তর কৌশলের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠা করা হবে। এসব কেন্দ্র স্থানীয় পর্যায়ে চাকরি ও দক্ষতার সমন্বয় ঘটানোর অবকাঠামো হিসেবে কাজ করবে। সেখানে নিবন্ধিত প্রার্থীরা তাদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা পাবেন।

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘কাজ করব, দেশ গড়ব’-নীতির ভিত্তিতে খাতভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা বাস্তবায়ন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের একটি।’

তিনি আরও বলেন, ‘দেশব্যাপী ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে প্রতিটি পরিবারের সমৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরতা নিশ্চিত করাই আমাদের সরকারের অঙ্গীকার।

প্রস্তাবিত এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জগুলো শুধু চাকরিপ্রার্থীদের শূন্য পদের সঙ্গে সংযুক্ত করবে না, বরং শ্রমবাজারের চাহিদা ও কর্মীদের সক্ষমতার মধ্যে ব্যবধানও কমাবে।

বাজেট বক্তৃতা অনুযায়ী, কোনো চাকরিপ্রার্থীর প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকলে এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে তাকে উপযুক্ত প্রশিক্ষণকেন্দ্রে পাঠানো হবে। প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তাদের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা বাড়ানোই এ উদ্যোগের লক্ষ্য।

কর্মসূচিটি বাস্তবায়নের জন্য সরকার ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় কর্মপরিকল্পনা ও নীতিগত কাঠামো প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে। একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সেবা ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে একটি কার্যকর সংযোগ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা ব্যাখ্যা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায্য ও মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার দেশব্যাপী জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।’ 

তিনি বলেন, ‘এখানে নিবন্ধিত প্রার্থীদের মেধা ও দক্ষতার ভিত্তিতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।’

শুধু বড় শহরেই নয়, কর্মসংস্থানসেবা দেশের প্রান্তিক পর্যায়েও পৌঁছে দিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এতে গ্রামীণ জনগোষ্ঠী, গৃহিণী এবং দীর্ঘদিন বেকার থাকা ব্যক্তিদের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ উদ্যোগ থাকবে, যাতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো যায়।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ঘোষিত বৃহত্তর কর্মসংস্থান লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গেও এই কর্মসূচি সামঞ্জস্যপূর্ণ। সরকার তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রতি বছর ২ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ফ্রিল্যান্সিং ও সৃজনশীল শিল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আট লাখ পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। 

এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রোবটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।

এছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

উদ্যোগটির পেছনের বৃহত্তর অর্থনৈতিক দর্শন তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক কৌশলের মূলে রয়েছে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, বিনিয়োগের প্রসার, উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সর্বোপরি অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার। সমাজের সর্বস্তরে অর্থনৈতিক সুযোগের বিস্তার ঘটিয়ে আমরা জনমিতিক সুফলকে (ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড) কাজে লাগানো চাই।’

নীতিগত কাঠামো ও বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হওয়ায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।