বাসস
  ২১ মে ২০২৬, ১২:৪৮

নারায়ণগঞ্জে চাহিদার চেয়ে গবাদি পশু বেশি 

জেলায় চাহিদার চেয়ে ১০ হাজার ৭০৭টি পশু বেশি রয়েছে। ছবি: বাসস

॥ নুসরাত সুপ্তি ॥

নারায়ণগঞ্জ, ২১ মে, ২০২৬ (বাসস) :  আসন্ন ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জের পশুর হাটগুলোতে ব্যস্ততা তুঙ্গে। তবে হাটের অপেক্ষায় না থেকে ক্রেতারা এখন ঝুঁকছেন জেলার বিভিন্ন খামারের দিকে। প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করায় খামারিদের কাছে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে অনেক। ফলে জেলার খামারগুলো থেকেই সিংহভাগ পশু আগেভাগে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে। প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের তথ্যমতে, এবার চাহিদার চেয়েও বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে নারায়ণগঞ্জে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ৬ হাজার ৫৩৭টি খামারে কোরবানির পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড়, বলদ, গাভী, মহিষ, ছাগল ও ভেড়াসহ সর্বমোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৭৫৪টি পশু রয়েছে। জেলায় এবার কোরবানির পশুর চাহিদা ১ লাখ ৩ হাজার ৪৭টি। সেই হিসেবে চাহিদার চেয়ে ১০ হাজার ৭০৭টি পশু বেশি রয়েছে। উপজেলা অনুযায়ী তথ্যে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ সদরে ২৮হাজার ১শ’টি, আড়াইহাজারে ২৬ হাজার ৮৭৪টি, সোনারগাঁয়ে ২০ হাজার ৪৫৮টি, বন্দরে ১৯ হাজার ৮২৭টি এবং রূপগঞ্জ উপজেলায় ১৮ হাজার ৪৯৫টি পশু কোরবানির জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সদর উপজেলার রাবেয়া এগ্রো ফার্মে গিয়ে দেখা যায়, ফার্মে ক্রেতাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের ভীড়। ফার্মের মালিক জিয়া উদ্দিন বাসস’কে জানান, তারা কোনো ধরনের ক্ষতিকর ওষুধ ছাড়াই নিজস্ব ঘাস ও দানাদার খাবার খাইয়ে গরু পালন করেন। 

তিনি বলেন, ‘পশুর সঙ্গে আমাদের এক ধরনের মায়াবী সম্পর্ক তৈরি হয়। সন্তানের মতো যত্ন নিয়ে পালন করি বলেই ক্রেতারা আমাদের খামারের ওপর আস্থা রাখেন। দুই মাস আগে থেকেই বুকিং শুরু হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ ভালো বেচাকেনা চলছে।

এদিকে কোরবানির পশুর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ। নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল মান্নান মিয়া বাসস’কে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ একটি জনবহুল এলাকা হওয়ায় এখানে পশুর চাহিদা প্রতি বছরই বেশি থাকে। তবে এবার উৎপাদন ভালো হওয়ায় কোনো সংকট নেই। কোরবানির হাটে অসুস্থ পশু যাতে বিক্রি না হয়, সেজন্য জেলার হাটগুলোতে আমাদের ২২টি ভেটেরিনারি টিম কাজ করবে। জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ ও প্রশাসনের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উৎসবমুখর পরিবেশে কোরবানির সকল কার্যক্রম যাতে নিরাপদে সম্পন্ন হয় সেটা নিশ্চিত করা হবে।

পশুর হাটের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সী বাসস’কে জানান, ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ প্রশাসন। 

তিনি বলেন, কোরবানির পশুর হাটসহ পুরো জেলাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। এসময় যেকোনো অপরাধমূলক কার্যক্রম রোধে হাটগুলোতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।