বাসস
  ১৬ মে ২০২৬, ১৬:১৩

বরিশাল বিভাগে স্থানীয় পশুতেই মিটবে কোরবানির চাহিদা, উদ্বৃত্ত থাকবে ৬৮ হাজার

ছবি: বাসস

বরিশাল, ১৬ মে, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন ঈদ উল আযহায় বরিশাল বিভাগে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। স্থানীয় পশুতেই মিটবে জেলার কোরবানির চাহিদা। এ বছর কোরবানির পশুর কোন সংকট হবেনা বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। চাহিদা মেটানোর পরও উদ্বৃত্ত থাকবে ৬৮ হাজার পশু। আর বরিশাল জেলায় চাহিদা ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৯টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪টি পশু।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি থাকায় স্থানীয় পশুতেই পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব হবে। সে হিসাব অনুযায়ী চাহিদার তুলনায় প্রায় ৬৮ হাজার পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বিভাগের ৩ হাজার ৯১৫ জন ছোট-বড় খামারির কাছে বর্তমানে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ৪৪৫টি কোরবানিযোগ্য পশু প্রস্তুত রয়েছে। অন্যদিকে সম্ভাব্য চাহিদা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৮৩টি। সে হিসাবে উদ্বৃত্ত থাকবে ৬৭ হাজার ৬৬২টি পশু।
মজুত পশুর মধ্যে রয়েছে ২ লাখ ৮৩টি ষাঁড় গরু, ৬৮ হাজার ২৭৮টি বলদ, ৯৮ হাজার ৫টি মহিষ, ১ লাখ ১৯ হাজার ৮৯০টি ছাগল এবং অন্যান্য পশু ১৫০টি।

জেলাভিত্তিক হিসাবেও দেখা গেছে, প্রায় সব জেলাতেই চাহিদার তুলনায় পশুর সংখ্যা বেশি। বরিশাল জেলায় চাহিদা ১ লাখ ২৬ হাজার ৫৭৯টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৪৪টি পশু। পটুয়াখালীতে চাহিদা ১ লাখ ১১ হাজার ৮৭৪টির বিপরীতে রয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৭১৮টি। ঝালকাঠিতে চাহিদা ৩০ হাজার ২৮টি, সেখানে প্রস্তুত ৩০ হাজার ৫৮৮টি পশু।

এ ছাড়া বরগুনায় চাহিদা ৩০ হাজার ১৮২টি হলেও মজুত রয়েছে ৪৩ হাজার ৪২৬টি পশু। ভোলায় চাহিদা ৮০ হাজার ৭৪৩টির বিপরীতে মজুত আছে ১ লাখ ৩ হাজার ১৭টি। পিরোজপুরে ২১ হাজার ৫৭৭টি পশুর চাহিদার বিপরীতে প্রস্তুত রয়েছে ২৮ হাজার ৬৫২টি।

বরিশাল বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক মো.মাহফুজুল হক বাসস’কে বলেন, আগের তুলনায় গ্রামাঞ্চলে অনেক পরিবার ছোট পরিসরে গরু-ছাগল পালন করায় স্থানীয় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

ফলে বিদেশি পশুর ওপর নির্ভরতার প্রয়োজন হবে না বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে খামারিরা বলছেন, এবার পশুর উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় কোরবানির পশুর দামও কিছুটা বাড়তে পারে। তাছাড়া ভারতীয় গরু বাজারে না এলে স্থানীয় খামারিদের পশুই বাজার নিয়ন্ত্রণ করবে।

বরিশালের এমইপি অ্যাগ্রো ফার্মের তত্ত্বাবধায়ক রাফিউর রহমান বাসস’কে জানান, গো-খাদ্য ও পরিবহন খরচ বাড়ায় আগের বছরের তুলনায় এবার দাম বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে অনেক খামারি আগেভাগেই পশু বিক্রি শুরু করায় হাটের তুলনায় এখন কিছুটা কম দামে পশু কেনার সুযোগ পাচ্ছেন ক্রেতারা।

বরিশাল সাদ সাঈদ এগ্রো ফার্মের মালিক সাঈদ বিন মিরাজ বাসস’কে বলেন, অনেকেই ইতোমধ্যে খামার থেকে গরু কেনা শুরু করছেন। হাটের চেয়ে খামার থেকে গরু কেনায় সুযোগ সুবিধা বেশি থাকায় অনেকে খামার থেকে গরু কিনতে আগ্রহী হচ্ছেন। হাটে গরু কিনলে নানান ধরনের ঝামেলা পোহাতে হয়, যেমন হাটে দালাল, খাজনা, পরিবহন খরচের একটা বাড়তি বোঝা কাঁধে চাপে। 

তিনি বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সংকটের কারণে ক্রেতাদের অতিরিক্ত পরিবহন খরচ করতে হবে। সেক্ষেত্রে এগ্রো ফার্ম থেকে গরু কিনলে ওইসব ঝামেলা পোহাতে হবে না। এগ্রোর নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থায় ক্রেতাদের বাড়ি পর্যন্ত গরু পৌঁছে দেয়া হয়।

বরিশাল নগরীর টিয়া খালি এলাকার চৌধুরী বাড়ির সাধারণ খামারি নাসির উদ্দিন বাসস’কে বলেন, এখন গো খাদ্যের দাম আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে, পশুর লালন পালনে ব্যয়ও আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। সে হিসেবে গরু হাটে নিয়ে দাম নির্ধারণ করা হবে। তবে ধারণা করা হচ্ছে আগের তুলনায় এ বছর গরুর দাম বেশি হবে।

ওই এলাকার আরেক খামারি লিটন বলেন, ইতিমধ্যে অনেক গরু খামার থেকে বিক্রি হয়ে গেছে। অবশিষ্ট যা থাকবে সেগুলো হাটে নিয়ে বিক্রি করবো। তবে এবার গরু পালনে আগের চেয়ে অনেক খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে। 

তাই বাজার দর মাথায় রেখে ও লালন পালন খরচ হিসেব করে দাম নির্ধারণ করা হচ্ছে।

এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কৃত্রিমভাবে পশু মোটাতাজাকরণ বন্ধে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও বাজার তদারকিতে ভেটেরিনারি মেডিকেল টিমও মাঠে সক্রিয় থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।