শিরোনাম

॥ মুহাম্মদ নূরুজ্জামান॥
খুলনা, ১৩ মে, ২০২৬ (বাসস) : আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির পশু বিক্রির জন্য খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় মোট ১৭০টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা হচ্ছে। ঈদের আর দুই সপ্তাহ বাকি থাকতেই পশু ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই তাদের খামার থেকে এ হাটগুলোতে পশু আনতে শুরু করেছেন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ হাটগুলো স্থাপন করছে। যা ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত চালু থাকবে। খুলনা বিভাগের এ ১৭০টি হাটের মধ্যে খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি)’র জোড়াগেটসহ অন্তত ২৭টি পশুর হাট খুলনা মহানগর ও জেলায় স্থাপন করা হচ্ছে।
এছাড়াও বাগেরহাটে ২৯টি, সাতক্ষীরায় ১৬টি, যশোরে ২০টি, ঝিনাইদহে ২২টি, মাগুরায় ১৫টি, নড়াইলে ১০টি, কুষ্টিয়ায় ১৭টি, চুয়াডাঙ্গায় ৮টি এবং মেহেরপুরে ৬টি হাট স্থাপন করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ১০.৮০ লাখ। তবে, খামারিরা ঈদকে সামনে রেখে চাহিদার ১৪.৪৭ লাখেরও বেশি পশু পালন করেছেন।
বিভাগটিতে পালিত পশুগুলোর মধ্যে রয়েছে ৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৬১টি গরু, ৪ হাজার ৮৯টি মহিষ, ৮ লাখ ৫১ হাজার ৩৭০টি ছাগল, ৫১ হাজার ১৭৩টি ভেড়া এবং ২১৬টি অন্যান্য প্রাণী। গত বছর বিভাগে মোট ১৬৯টি পশুর হাট এবং ১৫২টি পশুচিকিৎসা দল মোতায়েন করা হয়েছিল। ১০.৪৬ লাখ চাহিদার বিপরীতে মোট ১৪.৩৪ লাখ কোরবানির পশু পালন করা হয়েছিল।
এদিকে, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ বাসস’কে বলেন, কেসিসির তত্ত্বাবধানে প্রচলিত নগরীর জোড়াগেট পশুর হাটের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের তত্ত্বাবধানে সিসিটিভি স্থাপন, মেডিকেল টিম মোতায়েন এবং জাল মুদ্রা শনাক্তকরণ সেবা প্রদান করা হবে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর ঈদুল আজহার আগেই ১১ লাখেরও বেশি কোরবানির পশু বিক্রি হয়েছিল।
ডুমুরিয়া উপজেলার বালিয়াখালী গ্রামের পশুপালক নজরুল ইসলাম বাসস’কে বলেন, পশুখাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছরের তুলনায় এবছর আমাদের পশু পালনে খরচ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলার টিপনা গ্রামের দুগ্ধ খামারের মালিক মিন্টু খান বাসস’কে বলেন, আমি এ বছর ১৮টি গরু ও ২৬টি ছাগল পালন করেছি। এ সব পশু বিক্রি করে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা লাভের আশা করছি। এ বছর পশুখাদ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গরুর দাম কিছুটা বেশি হতে পারে।"
খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. গোলাম হায়দার বাসস’কে বলেন, বিভাগের ১০টি জেলার ৫৯টি উপজেলাসহ কেসিসি-র আওতায়ও গবাদি পশুর হাট স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়াও পশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪২টি পশুচিকিৎসা দল নিয়োজিত থাকবে।
তিনি বলেন, এ বছর খুলনা বিভাগে কোরবানির পশুর চাহিদার পুরোটাই স্থানীয়ভাবে পালিত পশু দিয়ে মেটানো হবে।