বাসস
  ১০ মে ২০২৬, ১১:৩২
আপডেট : ১০ মে ২০২৬, ১১:৩৩

হাম, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গুর টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করবে ইডিসিএল

ছবি : সংগৃহীত

॥ বরুন কুমার দাশ ॥

ঢাকা, ১০ মে, ২০২৬ (বাসস) : দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং সাপের কামড়ের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড (ইডিসিএল)। 

সরকারের এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের টিকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রফতানির সুযোগও তৈরি হবে। 
এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আঃ সামাদ মৃধা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস’কে এমন তথ্য জানিয়েছেন। 
তিনি আরো জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে কোম্পানিটি জরুরি ভিত্তিতে এ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। দেশের জনস্বাস্থ্যের বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক, সাপের কামড় ও হাম বড় ধরনের উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব রোগ প্রতিরোধে দেশে টিকা উৎপাদন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

দেশের বাজারে এসব টিকার ব্যাপক চাহিদা থাকায় এগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এক বছরের মধ্যে এই চারটি টিকার উৎপাদনে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। আশা করছি আগামী বছরের জুনের মধ্যে উৎপাদন শুরু করে সরকারের কাছে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।’

তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটির যে অবকাঠামো রয়েছে, তা ব্যবহার করেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে এক কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

সামাদ মৃধা বাসস’কে বলেন, বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সরকার যে দামে এসব টিকা বিদেশ থেকে আমদানি করে, তার প্রায় অর্ধেক মূল্যে স্থানীয়ভাবে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এছাড়া দেশের চাহিদা মিটিয়ে টিকা রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে এ বছর হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। গত ৯ মে পর্যন্ত  দেশে হামে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় ৪৭ হাজার ৬৫৬ জন শিশু। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়মতো টিকা না পাওয়ায় এ প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে দেশের হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম এবং জলাতঙ্ক নিরোধী টিকার কিছুটা সংকট রয়েছে। প্রতি বছর অ্যান্টিভেনমের অভাবে সাপের কামড়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, দেশে প্রতি বছর প্রায় ৪ লাখ মানুষ সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জনের বেশি মারা যায়। 

এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাসস’কে আরও বলেন, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে প্রায় সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন ও রিসার্চ কমপ্লেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এই কমপ্লেক্সে সব ধরনের ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা, নতুন বায়োটেকনোলজি পণ্য উন্নয়ন এবং জেনারেল ফার্মাসিউটিক্যাল উৎপাদন ইউনিট স্থাপন করা হবে। 

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেখানে প্রায় ১০ একর জমির ওপর এই সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। আগামী ২০৩২ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণই নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবে।

এছাড়াও সংস্থাটির হাতে অ্যান্টিভেনম, জলাতঙ্ক-প্রতিরোধী, জেনেরিক ওষুধ এবং গবেষণা ও ডায়াগনস্টিকসহ মোট চারটি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারের ওষুধ ও টিকার চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে এসেনশিয়াল ড্রাগস।