বাসস
  ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৬

পূজার বাকি ৩৮ দিন: কুড়িগ্রামে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত মৃৎশিল্পীরা

ছবি : বাসস

কুড়িগ্রাম, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস) : সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ও অন্যতম বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আর এ দুর্গোৎসবের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই ব্যস্ততা বাড়ছে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার মৃৎশিল্পীদের। মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে প্রতিমা গড়ার কাজ। 

খড়, বাঁশ আর কাদা-মাটির নিপুণ ছোঁয়ায় রূপ পাচ্ছে দেবী দুর্গা ও তার সন্তানরা।

উপজেলার চন্দ্রখানা পালপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা গেছে, বাঁশ, খড় আর কাদা-মাটি দিয়ে প্রতিমা গড়ার উৎসবে মৃৎশিল্পীদের আগাম প্রস্তুতি নিতে। 

বাড়ির আঙিনায় বসে এক মনে দেবী দুর্গার অবয়ব গড়ে তুলছেন মৃৎশিল্পী দ্বীনেশ চন্দ্র পাল। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তার দম ফেলার ফুরসত নেই। বাপ-দাদার ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রাখা দ্বীনেশ গত ১৩ বছর ধরে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করে আসছেন।

দ্বীনেশ চন্দ্র পাল বাসসকে বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও পূজার প্রায় তিন মাস আগে থেকে প্রতিমা তৈরির প্রস্তুতি শুরু করেছেন। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিমার প্রাথমিক কাজ শেষ পর্যায়ে। তবে প্রতিমা তৈরির কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় তিনি উদ্বেগে আছেন।

‘প্রতিটি প্রতিমা তৈরিতে খরচ হচ্ছে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা। এ পর্যন্ত পাঁচটি প্রতিমার জন্য প্রায় ৯০ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে’, বলে জানান দ্বীনেশ। 

তিনি বলেন, ‘বাঁশ, খড়, মাটি ও রঙের দাম আগের চেয়ে অনেক বেশি। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতিটি প্রতিমা ১২-১৪ কিংবা ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি করতে পারলে কিছুটা লাভ থাকবে। এর চেয়ে কমে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে।’

একই চিত্র উপজেলার অন্যান্য মৃৎশিল্পীদের ঘরেও। কোথাও বাঁশ ও খড় দিয়ে তৈরি হচ্ছে প্রতিমার ভেতরের কাঠামো, আবার কোথাও চলছে মাটির প্রলেপ দেওয়ার কাজ। পূজা ঘনিয়ে এলে তাদের এ ব্যস্ততা আরও কয়েক গুণ বাড়বে বলে জানান কারিগররা।

স্থানীয় পূজারি বীরেন্দ্র নাথ রায় বাসসকে বলেন, বাংলা ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ২৮ আশ্বিন (ইংরেজি ১৬ অক্টোবর ২০২৬) ষষ্ঠী পূজার মধ্য দিয়ে সূচনা ঘটবে পাঁচ দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গোৎসবের।

উৎসব ঘিরে উপজেলাজুড়ে ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। 

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ ফুলবাড়ী উপজেলা শাখার সভাপতি কার্তিক চন্দ্র সরকার এবং হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের উপজেলা সভাপতি সুনীল চন্দ্র রায় বাসসকে বলেন, উপজেলার বিভিন্ন মণ্ডপে প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে চূড়ান্ত পূজামণ্ডপের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

তারা জানান, গত বছর উপজেলায় ৭৪ টি মণ্ডপে আনন্দঘন ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গোৎসব পালিত হয়েছিল। 

এবারও মণ্ডপের সংখ্যা প্রায় একই থাকবে। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রেখে উৎসবমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তারা।