বাসস
  ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৪
আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১৮:১৭

সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশে নীতিগত সংস্কার, কর-সহায়তা ও ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার আহ্বান

ছবি : স্কিনশর্ট

ঢাকা, ১১ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশের সৃজনশীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে করনীতি সংস্কার, কপিরাইট সুরক্ষা, লাইসেন্সিং সহজীকরণ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সহায়ক নীতিগত ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন এই খাতের উদ্যোক্তা, সংস্কৃতিকর্মী ও বিশেষজ্ঞরা।

শনিবার পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) ফেসবুক লাইভ আলোচনা ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি: স্লোগান অর আনট্যাপড পটেনশিয়াল?’-এ বক্তারা বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতিকে শুধু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে নয়, কর্মসংস্থান, বিনিয়োগ ও রপ্তানির সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক খাত হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।

আলোচনায় জানানো হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রথমবারের মতো সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৮০০ কোটি টাকার কর্মপরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩০০ কোটি টাকা সরাসরি বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সিএসআর তহবিল থেকে ৫০০ কোটি টাকা সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য জিডিপিতে খাতটির অবদান বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড গড়ে তোলা।

পিপিআরসির নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর, চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী, নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন এবং ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের (সিএইচপি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম।

চলচ্চিত্র নির্মাতা তানিম নূর বলেন, চলচ্চিত্রসহ সৃজনশীল শিল্পের জন্য পৃথক করনীতি ও কর-সুবিধা চালু করা হলে দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।

চরকির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেদওয়ান রনি বলেন, চলচ্চিত্র ও ওটিটি খাতের বিকাশে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি কর ও লাইসেন্সিং নীতির সংস্কার জরুরি। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ওটিটি প্ল্যাটফর্ম এবং দেশীয় প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমতাভিত্তিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী বলেন, দেশে সৃজনশীল প্রতিভার অভাব নেই, কিন্তু সেই প্রতিভাকে বিকশিত ও বাণিজ্যিকভাবে সফল করার জন্য প্রয়োজনীয় ইকোসিস্টেম এখনো গড়ে ওঠেনি। এ ক্ষেত্রে সরকারের কাঠামোগত সহায়তা প্রয়োজন।

নাট্যকার ও তারুয়ার ক্রিয়েটিভ ডিরেক্টর বাকার বকুল বলেন, নাটক ও অন্যান্য শিল্পকলাকে এখনো অর্থনৈতিক খাত হিসেবে যথাযথ মূল্যায়ন করা হয় না। শিল্পীদের শ্রমের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে টেকসই সৃজনশীল শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব হবে না।

ইউপিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহরুখ মহিউদ্দিন বলেন, প্রকাশনা শিল্প দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত। কপিরাইট আইন কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, পাইরেসি প্রতিরোধ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রকাশনা শিল্পকে তুলে ধরার উদ্যোগ বাড়ানোর ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ক্ল্যাসিক্যাল হ্যান্ডমেড প্রোডাক্টসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. তৌহিদ বিন আব্দুস সালাম বলেন, হস্তশিল্পসহ সৃজনশীল পণ্যের রপ্তানি বাড়াতে মান সনদ, কমপ্লায়েন্স এবং শক্তিশালী ব্র্যান্ডিং অপরিহার্য।

সমাপনী বক্তব্যে পিপিআরসির চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, শুধু অবকাঠামো নির্মাণ করলেই হবে না; সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য কার্যকর নীতি, কর-সহায়তা, রয়্যালটি বণ্টন, কপিরাইট সুরক্ষা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।