বাসস
  ১০ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৬

বাংলাদেশ-মালদ্বীপ বন্দি বিনিময় চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে : হাইকমিশন

বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল মালদ্বীপের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করে। ছবি: বাসস

ঢাকা, ১০ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে মালদ্বীপের বিভিন্ন কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিরা মানবিক বিবেচনায় নিজ দেশে ফিরে বাকি সাজা ভোগের সুযোগ পাবেন।

আজ শুক্রবার দেশটিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

হাইকমিশন জানিয়েছে, উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করতে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করছে। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হওয়ার পর চুক্তিটি শিগগিরই সই ও কার্যকর হবে। এর ফলে দুই দেশের আইনি ও মানবিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্তের সূচনা হবে, যা বন্দিদের মানসিক উন্নয়ন ও সামাজিক পুনর্বাসনে অত্যন্ত ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

এদিকে, মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের কল্যাণ, অধিকার ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সম্প্রতি বাংলাদেশ হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সে দেশের মাফুশি কারাগার পরিদর্শন করে।

পরিদর্শনকালে কারাগারে আটক ৪৪ জন বাংলাদেশি বন্দির সাথে সাক্ষাৎ করে তাদের সার্বিক অবস্থার খোঁজখবর নেন।

হাইকমিশন জানায়, বর্তমানে মাফুশি কারাগারে আটক বাংলাদেশি বন্দিদের মধ্যে ৩৪ জন বিভিন্ন মেয়াদে দণ্ডপ্রাপ্ত এবং ১০ জন বিচারাধীন রয়েছেন।

পরিদর্শনের সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা প্রত্যেক বন্দির সাথে পৃথকভাবে কথা বলেন এবং তাদের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য, পোশাক, আবাসন ও সামগ্রিক কারা-পরিবেশের খোঁজ নেন।

পরবর্তীতে, মালদ্বীপের কারা কর্তৃপক্ষের সাথে এক বৈঠকে বন্দিদের বিভিন্ন সমস্যা ও অভিযোগের বিষয়গুলো তুলে ধরে তাদের প্রাপ্য সুবিধাসমূহ দ্রুত নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

পরিদর্শন শেষে হাইকমিশনার ড. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে অবস্থানরত প্রতিটি বাংলাদেশি নাগরিকের মানবিক মর্যাদা ও মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্বের অংশ। প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিক।’

তিনি আরও বলেন, বন্দি বিনিময় চুক্তিটি বাস্তবায়িত হলে বন্দিরা নিজ দেশে থেকে সাজা ভোগ পারবেন, যা প্রবাসে আটক নাগরিকদের প্রতি রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।