বাসস
  ১০ জুলাই ২০২৬, ১৩:০৩

সাজেকে আটকেপড়া ৪২১ জনকে সরিয়ে নিয়েছে সেনাবাহিনী

ছবি: বাসস

রাঙামাটি, ১০ জুলাই, ২০২৬, (বাসস): গত কয়েকদিনের  টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে জেলার বাঘাইছড়ি, লংগদু ও বিলাইছড়িসহ কয়েকটি উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

অপরদিকে, সাজেকে আটকেপড়া ৪২১ পর্যটককে আজ শুক্রবার সকালে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে নিয়ে আসা হয়েছে।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ‎বাঘাইছড়ি-দীঘিনালা, লংগদু-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন অংশ এবং বাঘাইছড়ি উপজেলার বঙ্গলতলী ইউনিয়নের করেঙ্গাতলী ও পৌর এলাকার উগলছড়ি সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে এবং বাঘাইছড়ি-মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের ৩ কিলোমিটার এলাকায় রাস্তা ধসে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

পাহাড় ধস ও টানা বর্ষণে রাঙামাটি সদর উপজেলার মগবান ইউনিয়নে দলমনি চাকমা নামে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার তিনি নদী পার হতে গিয়ে ভেসে যায়। অন্যদিকে, বিলাইছড়িতে বহিরাগত এক ব্যবসায়ী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানা গেছে।

রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বাসসকে জানিয়েছেন, আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে ৩ হাজার ৫২৪ জন মানুষ আশ্রয়গ্রহণ করেছেন। গতকাল থেকেই জেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পাহাড় ধস বা টানা বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের জন্য স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো সম্ভাব্য আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নাজমা আশরাফী আরও জানান, সাজেকে আটকাপড়া দেড় শতাধিক পর্যটক গতকাল বৃহস্পতিবার  সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি পর্যন্ত নিয়ে আসা হলেও আজ শুক্রবার সকালে সাজেকে আটকেপড়া আরও ৪২১ পর্যটককে সেনাবাহিনী ও পুলিশের সহযোগিতায় খাগড়াছড়িতে নিরাপদে  নিয়ে আসা হয়েছে।

তিনি জানান, দুর্যোগ মোকাবিলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে খাদ্যশস্য এবং নগদ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দকৃত খাদ্যশস্য এবং অর্থ জেলা সদরসহ ১০টি উপজেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী  বন্টন করা হয়েছে  বলে জানান তিনি।

পাহাড় ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় জেলা-উপজেলার বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিচ্ছে জেলা প্রশাসন।

এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাঙামাটি শহর এবং কাপ্তাইয়ের কয়েকটি আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন স্থানীয় সাংসদ দীপেন দেওয়ান এমপি। দুর্যোগে তিনি সকলকে ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ জানান এবং বিএনপির দলীয় সকলকে নেতৃবৃন্দকে অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।  এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করা মানুষদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন।

আবহাওয়ার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে জেলা প্রশাসন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে মাইকিংসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সতর্ক করা হচ্ছে।

দুর্যোগকালীন কোনো জান মালের যাতে ক্ষতি না হয় সেই দিকে লক্ষ্য রেখে দুর্যোগের সময় সবাইকে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে চলে আসতে আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।