বাসস
  ০৪ জুলাই ২০২৬, ১৯:৫২

শিল্প পুলিশের জন্য পাঁচটি পৃথক পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব

ঢাকা, ৪ জুলাই, ২০২৬ (বাসস) : দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালনের লক্ষ্যে শিল্প পুলিশের জন্য পাঁচটি পৃথক পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ পুলিশ।

শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) গাজী জসীম উদ্দিন আজ বাসসকে জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহে পৃথক পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে শিল্প পুলিশ গঠিত হলেও এখন পর্যন্ত এ বাহিনীর নিজস্ব কোনো পুলিশ লাইন নেই। এ বাস্তবতায় বিশেষায়িত এ বাহিনীর জন্য পুলিশ লাইন স্থাপনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, জমি বরাদ্দের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে স্থাপত্য অধিদপ্তর পুলিশ লাইনগুলোর নকশা প্রণয়নের কাজ করছে।

শিল্প পুলিশ প্রধান বলেন, খুলনায় বাহিনীর একটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট গঠনেরও প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে মংলা ও যশোর উপ-ইউনিটসহ খুলনা ইউনিটটি একটি পাটকলের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

জসীম উদ্দিন বলেন, বর্তমানে শিল্প পুলিশের সদস্যসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। বাহিনীর নয়টি ইউনিটের অনুমোদিত জনবল ৪ হাজার ২০০।

তিনি জানান, বর্তমানে আশুলিয়া-সাভার, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে শিল্প পুলিশের চারটি পূর্ণাঙ্গ ইউনিট রয়েছে। এছাড়া খুলনা, সিলেট, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে অতিরিক্ত ইউনিট পরিচালিত হচ্ছে।

সিলেট ও কুমিল্লা ইউনিটে পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তারা অন্য ইউনিট থেকে প্রেষণে দায়িত্ব পালন করছেন। ময়মনসিংহ ইউনিটও জনবল সংকটে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিল্প পুলিশ সদর দপ্তর ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে।

বাহিনীর কার্যক্রম আরও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিল্প পুলিশের একটি স্থায়ী সদর দপ্তর প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন জসীম উদ্দিন।

তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাইয়ে নতুন শিল্প পুলিশ ইউনিটটি চলতি মাসেই কার্যক্রম শুরু করতে পারে। এ ইউনিটের জন্য ১ হাজার ৬০০ সদস্য চাওয়া হলেও সরকার ১৬০ জন পুলিশ সদস্য বরাদ্দ দিয়েছে।

দেশের উত্তরাঞ্চলে শিল্প পুলিশের কার্যক্রম সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশেষ করে রংপুর ও নীলফামারী এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ দেখা দিলে দ্রুত সাড়া দেওয়ার প্রয়োজন হয়।

তিনি বলেন, ‘বগুড়া জেলায় একটি পৃথক শিল্প পুলিশ ইউনিট স্থাপনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো এ বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘উত্তরাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলায় এ ধরনের একটি ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সরকারকে বোঝানোর চেষ্টা করছি।’

বাহিনীর প্রধান চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে জসীম উদ্দিন বলেন, ‘এত কম জনবল নিয়ে দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ মোকাবিলা করা অত্যন্ত কঠিন।’

প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশে প্রায় ৬ হাজার তৈরি পোশাক (আরএমজি) কারখানাসহ বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ৪০ লাখের বেশি শ্রমিক কাজ করেন। এসব শিল্প থেকে বছরে প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয় হয়।

২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত শিল্প পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। শিল্পাঞ্চলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, শ্রমিক ও বিনিয়োগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার দায়িত্ব পালন করছে এ বাহিনী।

বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে ক্রমবর্ধমান শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিল্প পুলিশ গঠন করা হয়। ঢাকার উত্তরায় সদর দপ্তর থাকা এ বাহিনী বর্তমানে শিল্প পুলিশ বিধিমালা, ২০১৭ অনুযায়ী দেশের প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।