BSS-BNhrch_cat_news-24-5
বাসস
  ০৬ আগস্ট ২০২১, ১৩:১৬
আপডেট  : ০৬ আগস্ট ২০২১, ২১:২২

নাটোরে নাগরিক সেবায় গতিশীলতা এনেছে ডিজিটাল নথি

॥ ফারাজী আহম্মদ রফিক বাবন ॥
নাটোর, ৬ আগস্ট, ২০২১ (বাসস) : উত্তরাঞ্চলীয় জেলা নাটোরে নাগরিক সেবাকে আরো গতিশীল করতে ডিজিটাল নথি সিস্টেম এর ব্যবহার বেড়েছে। এতে প্রশাসনসহ জেলার সব সরকারি দপ্তরে কর্মর্তাদের মধ্যে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ এবং সমন্বয় সহজ হয়েছে। এ পদ্ধতিতে যেকোনো ফাইলের দ্রুত নিষ্পত্তি সম্ভব হচ্ছে। সাধারণ মানুষ হাতের নাগালে পাচ্ছেন সরকারি সেবা। তাদের সময় ও খরচ দুইই সাশ্রয় হচ্ছে। এভাবেই ডিজিটাল বাংলাদেশের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য বাস্তবায়নের পথে পেপারলেস হচ্ছে অফিস।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, ডিজিটাল নথি সিস্টেমে অন লাইনে ড্যাশ বোর্ডের মাধ্যমে যে কোন চিঠি ও ফাইলের অবস্থান পরিবীক্ষণ করা হয়। প্রতি ৩ ঘন্টা পর পর ড্যাশ বোর্ড আপডেট করা হচ্ছে। এই ড্যাশ বোর্ডে যে কোন ডাক গ্রহণ থেকে শুরু করে নথি উপস্থাপন, ডাকে সৃজিত নোট, পত্র জারিতে নিষ্পন্ন নোট, নোটে নিষ্পন্ন এবং জারিকৃত পত্রের সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যাচ্ছে। ড্যাশ বোর্ডে আজ, গতকাল এবং অদ্যাবধি-এই তিনটি কলামে ডাকের অবস্থান উপস্থাপন করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এ বছরের ২৫ মে পর্যন্ত ৮০ হাজার ২৭৯টি ডাক গ্রহণ করা হয়। তার মধ্যে ৭৮ হাজার ৮১টি ডাক নিষ্পত্তি করা হয় এবং ১৭ হাজার ৭৬১টি পত্র জারি করা হয়। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন দপ্তরকে ডিজিটাল নথি সিস্টেমের আওতায় আনার কারণে এর ব্যবহার ক্রমশ:বাড়ছে। বিশেষ করে করোনা পরিস্থিতিতে সামাজিক দূরত্বের শর্ত পালন এবং অফিস সময়ের পরে সরকারি জরুরি নির্দেশনা পালনে ডিজিটাল নথি সিস্টেম অনন্য।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের আইসিটি শাখার সহকারি কমিশনার শরীফ শাওন জানান, এই কার্যালয়ের ২৪টি শাখার সব কর্মকর্তা-কর্মচারি ডিজিটাল নথি সিস্টেমে সংযুক্ত। এসব শাখায় কর্মরত কর্মকর্তাসহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল নথি সিস্টেম সম্পর্কে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত তিন মাস সময়ে মোট ১৬০ জনকে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ছাড়াও জেলার সাতটি উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পর্যায়ের সব দপ্তর ইতোমধ্যে ডিজিটাল নথি সিস্টেমের আওতায় এসেছে। তবে, ডিজিটাল নথি সিস্টেম ব্যবহারে জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়, প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে।
জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, জেলা কার্যালয়ের সকল কার্যক্রম ডিজিটাল নথি সিস্টেমে রূপান্তর চলছে। জেলার ছয়টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়, শহর সমাজসেবা কার্যালয় ও সরকারি শিশু পরিবার ইতোমধ্যে ডিজিটাল নথি সিস্টেমের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই ব্যবস্থাপনায় ৩১ আগস্ট, ২০২০ পর্যন্ত সর্বশেষ দাপ্তরিক মূল্যায়নে সারাদেশের মধ্যে নাটোর জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের অবস্থান সপ্তম।
তিনি জানান, চিঠিপত্র আদান প্রদান থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ পর্যন্ত সকল কার্যক্রম এবং পত্রজারি ডিজিটাল নথি’র মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এই দপ্তরে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৪২৯টি ডাক ডিজিটাল নথিতে গ্রহণ করা হয় এবং ৩ হাজার ৪১৪টি ডাক নিষ্পত্তি করা হয়েছে। এছাড়াও এসময়ে ২ হাজার ৬১৫টি পত্র জারি করা হয়েছে।
এটুআই-এর ন্যাশনাল কনসালটেন্ট নিলুফা ইয়াসমিন বাসসকে বলেন, মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের বাস্তবায়নাধীন ও ইউএনডিপি এর সহায়তায় এ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) ২০১৬ সালের মার্চ মাসে ‘ই-নথি’ ব্যবস্থা চালু করে। প্রশাসনিক কর্মকান্ডে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে এই ব্যবস্থা শুরু করা হয়।
তিনি জানান, ‘ই-নথি তে  আধুনিক প্রযুক্তির সংযোজন, পরিমার্জন করে এ বছর জুন মাসে ‘ডিজিটাল নথি সিস্টেম’ নামে ই-নথি’র হালনাগাদ সংস্করণটি চালু করা হয়েছে।   
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের ১১,০০০ সরকারি দফতর ডিজিটাল নথি সিস্টেমের আওতায় এসেছে এবং প্রায় ১,০০,০০০ লাখ লোক এই সিস্টেম ব্যবহার করছে। ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সব সরকারি দফতর ডিজিটাল নথি সিস্টেমের আওতায় আনা হবে। তিনি আরো বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে এ সিস্টেম কার্যকর করার লক্ষ্যে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের ডিজিটাল নথি সিস্টেম ব্যবহারে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।       
তিনি আরো জানান, তৃণমূল পর্যায়ে উদ্যোগটি সম্পাদনের লক্ষ্যে মন্ত্রণালয় থেকে উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদের এটুআই পরিচালিত প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
নাটোরের সাবেক জেলা প্রশাসক মো. শাহরিয়াজ বলেন, এই কার্যালয়সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য সরকারি দপ্তরে ডিজিটাল নথি সিস্টেম চলমান রয়েছে। এসব দপ্তরে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কাজ করার পরিধি ক্রমশঃ বাড়ছে। শুধু সরকারি দপ্তরই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের মত প্রতিষ্ঠানগুলোও তাদের কার্যক্রমের রিপোর্ট অন লাইনে আপলোড করলে কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সেবা প্রদানে গতিশীলতা আসবে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি বলেন, পেপারলেস অফিস প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ধাপ হিসেবে ডিজিটাল নথি সিস্টেম ব্যবহারের পরিধি বাড়াতে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও কাজের মূল্যায়নসহ অন্যান্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়কে পেপারলেস অফিসে রুপান্তরের লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বাসসকে বলেন, সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও গতিশীলতা নিশ্চিত করতে সরকারি সকল দপ্তরকে ডিজিটাল নথি সিস্টেমের আওতায় আনছে সরকার। অফলাইনে কাজের সুবিধাসহ ডিজিটাল নথির কর্মক্ষেত্রকে আরো সম্প্রসারিত করার জন্যে সরকার আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ই-ফাইলকে ডিজিটাল নথী পদ্ধতিতে রুপান্তরের কাজও করছে। আধুনিক নথি ব্যবস্থাপনাসহ প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে দেশ পৌঁছে যাচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশের কাংখিত গন্তব্যে। 

 

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়