বাসস
  ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২৩:০৫

র‌্যাব বিলুপ্ত হয়ে পুলিশের আওতায় গঠন হবে এসআরবি

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: পিএমও

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

এ আইনের আওতায় র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর অধীনে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে আজ সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। 

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৈঠকে কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন, বাংলাদেশের অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত, ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লিড ফ্রি বাংলাদেশ (২০২৬-২০৩৫’)-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মন্ত্রিসভায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬-এর খসড়া লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের ভেটিং সাপেক্ষে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত আইনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো- বিদ্যমান র‌্যাব বিলুপ্ত করে পুলিশ বাহিনীর আওতায় স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রতিষ্ঠা করা।

এছাড়া, নাগরিকদের অভিযোগ এবং ইউনিটের সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য একটি বহুপক্ষীয় অভিযোগ প্রতিকার কমিটি গঠন করা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে,  র‌্যাব সংক্রান্ত জনবল, আদেশ, ক্ষমতা, কর্তৃত্ব, সুবিধা, তহবিল, সম্পত্তি, হিসাব, রেকর্ড ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট সম্পদ এসআরবি ‘র কাছে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি, নতুন বিধিমালা প্রণীত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান র‌্যাব সংক্রান্ত বিভাগীয় কার্যধারার বিধিমালা প্রয়োজনীয় অভিযোজনসহ বহাল রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিসভা কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানিতে শুল্ক-কর অব্যাহতির প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং সাধারণ ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা সুরক্ষার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সময়ে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে।

আরও বলা হয়, কাঁচা মরিচ ও টমেটো দেশের অন্যতম বহুল ব্যবহৃত নিত্যপ্রয়োজনীয় কৃষি পণ্য। তবে মৌসুমি উৎপাদন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, প্রতিকূল আবহাওয়া, সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন এবং উৎপাদন ঘাটতির কারণে অনেক সময় এ সকল পণ্যের বাজারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়, যা সাধারণ জনগণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।

জনস্বার্থে এবং বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণ ও মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাঁচা মরিচ ও টমেটো আমদানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শুল্ক-কর অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে, বিদ্যমান মোট করভার ৬১ শতাংশ থেকে কমিয়ে প্রজ্ঞাপন জারির পর প্রথম মাসে ২০.৫ শতাংশ এবং পরের মাসে ৩১ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা-বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থবছরের সময় পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত হিসাব করা হয়। সরকারের বিবেচনায়, এর ফলে জুলাই ও আগস্ট মাসে, অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। এতে বর্ষার কারণে উন্নয়নকাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।

মন্ত্রিসভা বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অর্থবছর ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করা হলে বর্ষা শুরুর আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম শেষ করার সুযোগ তৈরি হবে। এ কারণে নতুন সময়কালকে যুক্তিযুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে।

এছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সকল কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এ দিকে, সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি কমাতে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লিড ফ্রি বাংলাদেশ (২০২৬-২০৩৫)’-এর খসড়া অনুমোদন করা হয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য দেশে সিসা দূষণ রোধ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত করা।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিসা বিষক্রিয়ার ঝুঁকি হ্রাসে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর (শিশু, গর্ভবতী নারী ও শ্রমিক) সুরক্ষা এবং সিসা দূষণ বা বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ একান্ত জরুরি। সিসা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যার কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই।

আরও বলা হয়, সিসা বিষক্রিয়ার ফলে স্নায়ুতন্ত্র ও মস্তিষ্কের ক্ষতি যেমন স্মৃতিশক্তি হ্রাস, বুদ্ধিবৃত্তি কমে যাওয়া, আচরণগত সমস্যা, রক্তশূন্যতা বা অ্যানিমিয়া, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপ, প্রজনন স্বাস্থ্য ও গর্ভাবস্থায় ঝুঁকি, হাড় ও দাঁতের সমস্যা, পাচনতন্ত্রের সমস্যা হতে পারে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) অধীনে পরিচালিত মাল্টি ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সারভে (এমআইসিএস) জরিপে দেখা গেছে, ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুদের ৩৮.৩৪ শতাংশ এবং গর্ভবতী নারীদের প্রায় ৭.৫৪ শতাংশের রক্তে উদ্বেগজনক মাত্রার সিসা রয়েছে।

বিভিন্ন জেলায় সিসা বিষক্রিয়ার তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঢাকা জেলায় ৬৫.২ শতাংশ শিশুরা সিসা বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া, আইসিডিডিআর,বি-এর সম্প্রতি গবেষণায় ঢাকার ২ থেকে ৪ বছর বয়সী ৫০০ শিশুর মধ্যে ৯৮ শতাংশ শিশুর ক্ষেত্রে রক্তে সিসার মাত্রা উদ্বেগজনকভাবে বেশি পাওয়া গেছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে টেকসই ও সবুজ প্রবৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সিসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, সিসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা ও কার্যক্রম গ্রহণের উদ্দেশ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড মাল্টি-ইয়ার অ্যাকশন প্ল্যান ফর এ লিড ফ্রি বাংলাদেশ’-এর খসড়া প্রণয়ন করা হয়েছে।

এ কৌশলপত্রে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা তথা শিশুদের কল্যাণ ও সুস্থতা বিধানে সিসার উপস্থিতি শনাক্তকরণ, সিসার বিষক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ ও অবসানের লক্ষ্যে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নজরদারি ও শনাক্তকরণ, নীতি ও প্রবিধান, পর্যবেক্ষণ ও প্রয়োগ, বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা, সচেতনতা, আচরণগত পরিবর্তন ও শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবন, বহু-খাতভিত্তিক সম্পৃক্ততা, সমন্বয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় বা বিভাগ, সংস্থা ও অংশীজনদের দায়িত্ব নির্ধারণপূর্বক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কৌশলপত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের ৫০ শতাংশ শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা হ্রাস এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে ভিত্তিমানের ৯৫ শতাংশ শিশুদের রক্তে সিসার মাত্রা কমানোর লক্ষ্য নির্ধারিত হয়েছে।

এছাড়া মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয়ে অভিনন্দন প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল, দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড়, কোচ, সাপোর্ট স্টাফ, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে মন্ত্রিসভা আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেছে।

গত ১৩ থেকে ১৭ আগস্ট অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম টেস্টে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া জাতীয় ক্রিকেট দলকে ৯ উইকেটে পরাজিত করেছে। বাংলাদেশ দলের এ সাফল্য কেবল একটি ম্যাচের জয় নয়; বরং আন্তর্জাতিক টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান সক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত সংহতি ও প্রতিযোগিতামূলক মানসিকতার একটি উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ।

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের এ ঐতিহাসিক সাফল্য, দেশের তরুণ ও উদীয়মান প্রজন্মকে খেলাধুলায় আরও উৎসাহিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গণে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি আরও সুদৃঢ় করবে।

মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের বিষয়ে ২০২৬ সালের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিক (মে-জুলাই) প্রতিবেদন মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১৭টি মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ৮৪টি সারসংক্ষেপ উপস্থাপন করা হয়েছে। উক্ত বৈঠকসমূহে গৃহীত ১০৮টি সিদ্ধান্তের মধ্যে বাস্তবায়িত হয়েছে ৮০টি (৭৪ শতাংশ) এবং বাস্তবায়নাধীন রয়েছে ২৮টি (২৬ শতাংশ)।

মন্ত্রিসভা-বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উদ্যোগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৬ মেয়াদে সর্বমোট ৪৩টি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উক্ত মেয়াদে ৭টি নীতি বা কর্মকৌশল বা কর্মপরিকল্পনা মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে।

এছাড়া প্রতিবেদনাধীন মেয়াদে ৩টি আন্তর্জাতিক চুক্তি/প্রটোকলের খসড়া স্বাক্ষর বা অনুসমর্থনের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে, যার মধ্যে ১টি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং ২টি বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ১০৪টি আইন পাস করা হয়েছে।