শিরোনাম

ঢাকা, ১৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, সরকারের ১৮০ দিনের বড় সাফল্য হচ্ছে ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনি অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়ন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ছয় মাসে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী দেশের যেখানেই গেছেন ঠিক জনগণের ঢল নেমে এসেছে। জনগণের আস্থা এবং বিশ্বাসকে ধারণ করে বর্তমানে সরকার দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব এবং দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে চলেছে।’
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, ‘সরকারের এই ছয় মাসে সবচাইতে ডিফারেন্ট ও চোখে লাগার মত বিষয় হচ্ছে, নির্বাচন ইশতেহারকে ধারণ করে প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের জন্য অবিরত কাজ চালিয়ে যাওয়া। আমরা দেখেছি গত ছয় মাসে সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ কিভাবে সরকারের প্রতিটি কার্যক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।’
আজ (সোমবার) দুপুরে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র এসব মন্তব্য করেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘গত ছয় মাসে বাক্ স্বাধীনতা, আইন অনুশাসন এবং মানবাধিকারের ক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ মানদণ্ড স্থাপন করতে দেখেছি, যেখানে একবারের জন্যও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়ন হয়নি। আমরা দেখেছি সর্বোচ্চ বাক্ স্বাধীনতার চর্চা, অনেক সময় সেটি সীমাও লঙ্ঘন করেছে। উস্কানি দেওয়া হয়েছে, আবার অশোভন আচরণ করা হয়েছে। তারপরও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, সর্বোচ্চ ধৈর্য এবং সহনশীলতার মাধ্যমে সেটিকে ধারণ করে এগিয়ে যাচ্ছে বর্তমান জনগণের সরকার।’
তিনি বলেন, ‘গত ছয় মাসে জাতীয় সংসদে অত্যন্ত প্রাণবন্ত এবং সৎস্ফূর্ত অধিবেশনে এমপিরা একে অপরের আলোচনা-সমালোচনা করেছেন, যৌক্তিকভাবে বিভিন্ন বিষয় উপস্থাপন করেছেন। এই সরকারের গঠনের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সে আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তর করা হয়েছে, যা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।’
তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবিরোধী সংশোধিত অধ্যাদেশকে সংসদে আইনে রূপান্তরের মাধ্যমে ফ্যাসিবাদ কায়েম করা সন্ত্রাসী একটি রাজনৈতিক সংগঠনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।’
তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র ‘শাপলা’য় সরকারের ১৮০ দিন উপলক্ষ্যে এক মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখপাত্র সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম এবং সাফল্যের পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
পরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা।
মাহদী আমিন বলেন, সরকারের অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো-অভূতপূর্ব জনসমর্থন, সুদৃঢ় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সাফল্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন, সকল শ্রেণি পেশার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন, আর্থিক খাতে সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অবকাঠামো, পরিবেশ ও টেকসই উন্নয়ন, রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও মর্যাদাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি এবং প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র ভিন্নমাত্রিক নেতৃত্ব।
সরকারের ১৮০ দিনের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে যে বাংলাদেশকে আমরা নতুন করে পুনর্গঠন করছি। সেখানে মাত্র ছয় মাসে সব সমস্যার শতভাগ সমাধান করে ফেলা কিছুটা দুরূহ। তবে একটি বিষয় আজ নিশ্চিতভাবে বলা যায়, প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নির্বাচিত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সরকারের রয়েছে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, সর্বোচ্চ দায়বদ্ধতা ও দায়িত্বশীলতা।’
তিনি বলেন, ‘সবাই মিলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক আকাক্সক্ষাকে ধারণ করে একটি সমৃদ্ধ, স্বনির্ভর, মানবিক, নিরাপদ, মেধাভিত্তিক ও জনকল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তুলব। জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত এই সরকারের ক্ষমতা ও অনুপ্রেরণার উৎস তারাই। এই সরকার প্রকৃত অর্থেই জনগণের সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর স্বতন্ত্র নেতৃত্বে কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি সম্পূর্ণ ভেঙে সাধারণ মানুষের কাতারে নেমে এসেছেন। আমরা দেখেছি, তিনি তৃণমূলের মানুষের কাছে ছুটে যাচ্ছেন, কোদাল হাতে খালখনন কর্মসূচিতে নেমে পড়ছেন এবং স্কুলের কোমলমতি শিশুদের পরম স্নেহে কোলে তুলে নিচ্ছেন। ’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রতিনিয়ত তাঁর অত্যন্ত সাদাসিধে ও মিতব্যয়ী জীবনাচার প্রত্যক্ষ করেছি। সামগ্রিকভাবে দীর্ঘদিন পর আমরা এমন একটি সরকার পেয়েছি, যেটিকে দেশের প্রতিটি মানুষ গভীর আবেগ, অনুভূতি ও ভালোবাসা দিয়ে হৃদয়ে ধারণ করে।’
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপ্ট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ উপস্থিত ছিলেন।