বাসস
  ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:১৪
আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৬, ১৭:৫০

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে দুই বাসের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯, পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত

ছবি: কোলাজ বাসস

সিলেট, ৭ আগস্ট, ২০২৬ (বাসস) : ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর এলাকায় দু’টি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে। সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজন মারা গেছেন।

এ ঘটনায় আহত ৪ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন, ১০ জন বর্তমানে হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

ওসমানীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ গোলাম মোস্তফা জানান, আজ শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর কাশিকাপন এলাকায় ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দু’টি বাসের মধ্যে এই সংঘর্ষ ঘটে।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আবুল হোসেন (৪৫), সিলেট নগরের সোবহানীঘাটের উত্তম রায়ের ছেলে সপ্তম রায় প্রীয়ম (২২), ঢাকার বিক্রমপুরের জাহাঙ্গীর শেখের শিশুকন্যা খোজাইফা (৪), কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরের ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবের পেহেলি ভৈরবী।

তিনি জানান, সকালের দিকে ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাস (ঢাকা মেট্রো-ব ১৫-২৫৬৩) এবং সিলেটগামী বেঙ্গল স্লিপার কোচের (ঢাকা মেট্রো-ব ১২-৫৯৮৭) মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় ইউনিক পরিবহনের বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইউনিক পরিবহনের ৭ জন যাত্রী প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহত ৩ বছরের এক শিশুকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত আরও একজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নিহতদের সবাই ইউনিক পরিবহনের যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০-২৫ জন।

ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ, ওসমানীনগর থানা পুলিশ এবং ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ নিজেদের হেফাজতে বালাগঞ্জ হাসপাতালে রেখেছে।

বর্তমানে দুর্ঘটনা এলাকার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এদিকে, আহতদের হাসপাতালে দেখতে গেছেন সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন। তিনি জানান, আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তৎপর রয়েছেন। আহতদের চিকিৎসা ও নিহতদের দাফনের জন্য সরকারি সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।

সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির জানান, হাসপাতালে একটি শিশুকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে, অন্যজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। ১৬ জনকে হাসপাতালে আনা হলে ৪ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি গেছেন। বর্তমানে একজনের অবস্থা গুরুতর, আইসিইউ সাপোর্ট দিয়ে তাকে রাখা হয়েছে।