শিরোনাম

ঢাকা, ২৮ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): দীর্ঘদিনের জল্পনার অবসান ঘটিয়ে মঙ্গলবার জিনেদিন জিদানকে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফরাসি ফুটবল ফেডারেশন (এফএফএফ) দিদিয়ের দেশ্যমের বিদায়ের পর এই ঘোষণা দেয়।
৫৪ বছর বয়সী জিদানকে দীর্ঘদিন ধরেই এই পদের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছিল। কয়েক বছর ধরে তিনি জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন।
বিশ্বকাপে ফ্রান্স চতুর্থ স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করার মাধ্যমে ২০১২ সালে শুরু হওয়া দেশ্যমের কোচিং অধ্যায় শেষ হয়। দেশ্যমের অধীনে ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল ফ্রান্স এবং চার বছর পরও দলটি বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল।
জিদান বলেন, “আমার জন্য এটি অপরিসীম আনন্দের... ফ্রান্স জাতীয় দলের কোচ হতে পারা। এ অনুভূতি প্রকাশ করার মতো আর কোনো শব্দ আমার নেই।”
তিনি ২০৩০ সালের স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কো আয়োজিত বিশ্বকাপ পর্যন্ত চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নিয়েছেন।
জিদান বলেন, “আমি নিজেকে সংযত রাখছি, কারণ আমার ভেতরে অনেক আবেগ কাজ করছে। আমি এই চ্যালেঞ্জের জন্য প্রস্তুত। এটাই আজ আমাকে অনুপ্রাণিত করছে।”
রিয়াল মাদ্রিদের সাবেক তারকা জিদান ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি দলে দেশ্যমের সতীর্থ ছিলে। ২০২১ সালে রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর থেকেই এই দায়িত্ব নেওয়ার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিলেন জিদান।
প্যারিসে আনুষ্ঠানিক পরিচিতি অনুষ্ঠানে নিয়োগ ঘোষণার পর এফএফএফ সদর দপ্তরের বাইরে অপেক্ষমাণ সমর্থকদের অটোগ্রাফ দেন এবং তাদের সঙ্গে ছবি তোলেন জিদান।
এসময় তিনি বলেন, “ফ্রান্সের কোচের চাকরিটাই ছিল একমাত্র দায়িত্ব, যা আমি চেয়েছিলাম।”
তিনি আরও বলেন, “গত চার-পাঁচ বছরে বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হওয়ার প্রস্তাব পেয়েছি, কিন্তু ফ্রান্স জাতীয় দলের জন্য আমি সবগুলোই ফিরিয়ে দিয়েছি।”
সাবেক এই ফরাসি প্লেমেকার ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্রাজিলের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন এবং ২০০০ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী দলের খেলোয়াড় ছিলেন। কোচ হিসেবে তিনি এখন পর্যন্ত শুধু রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব পালন করেছেন।
স্প্যানিশ জায়ান্ট রিয়াল মাদ্রিদের কোচ থাকাকালে জিদান ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৮ সালে টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা উপহার দিয়েছলেন, যা প্রতিযোগিতাটির আধুনিক যুগে নজিরবিহীন কীর্তি।
তিনি বলেন, “নিশ্চিতভাবেই এটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের কাজ। ক্লাব ফুটবলে কাজ করার অভিজ্ঞতা আমার আছে। এখন এটি আমার জন্য নতুন কিছু, কিন্তু নতুন এই দায়িত্বে আমি মোটেই ভীত নই।’’
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদান তার সাবেক আন্তর্জাতিক সতীর্থ লরেন্ট ব্ল্যাঙ্ক ও দিদিয়ের দেশ্যমের পথ অনুসরণ করবেন। ব্ল্যাঙ্ক ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত জাতীয় দলের কোচ ছিলেন।
জিদান বলেন, “এই দল যেন জয়ী হতে থাকে, সে জন্য আমি সর্বস্ব উজাড় করে দেব। এই ফ্রান্স দলের জন্য কাজ করা এবং দলকে জয়ের ধারায় রাখা আমার একমাত্র লক্ষ্য।”
এফএফএফ সভাপতি ফিলিপ দিয়ালো জানান, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি প্রথম জিদানের সঙ্গে বৈঠক করেন। এর কিছুদিন আগেই দেশ্যম ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, ২০২৬ বিশ্বকাপের পর তিনি দায়িত্ব ছেড়ে দিবেন।
দিয়ালো বলেন, “একটি বিষয় আমাকে খুবই মুগ্ধ করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। আমাদের আলোচনার সময় তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘সভাপতি, আমি জানি কীভাবে জিততে হয়।’‘
তিনি আরও বলেন, “ওই কথা শোনার পর আমি এমন একজনকে দেখেছি, যার মধ্যে ফ্রান্সকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় জয়ের আকাঙ্ক্ষা এবং আত্মবিশ্বাস দুটোই রয়েছে। আগামী বছরগুলোতে আমাদের জাতীয় দলকে সফল রাখতে ঠিক এমন মানুষই দরকার।”
ফ্রান্সের কোচ হিসেবে জিদানের প্রথম ম্যাচ হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর উয়েফা নেশন্স লিগে তুরস্কের মাঠে। আর নিজের মাটিতে ইতালির বিপক্ষে আগামী ২ অক্টোবর ডাগআউটে জিদানকে নিয়ে প্রথম ম্যাচ খেলবে ফ্রান্স।