বাসস
  ০৬ জুলাই ২০২৬, ১৬:১৯

গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া জাহাজ রিসাইক্লিং ব্যবসার সুযোগ থাকবে না: শিল্পমন্ত্রী

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ রিসাইক্লিং পরিদর্শন ও শিল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন। ছবি : বাসস

চট্টগ্রাম, ৬ জুলাই, ২০২৬ (বাসস): শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দেশের সব জাহাজ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডকে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন হতে হবে। গ্রিন লাইসেন্স ছাড়া জাহাজ রিসাইক্লিং ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। যারা এ খাতে নতুন করে ব্যবসা করতে চান, তাদেরও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে।

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে জাহাজ রিসাইক্লিং পরিদর্শন ও শিল্প-সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

শিল্পমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশে ৩১টি গ্রিন লাইসেন্সধারী জাহাজ রিসাইক্লিং ইয়ার্ড রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মতো অন্য সব ইয়ার্ডকেও আন্তর্জাতিক মানের কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করে গ্রিন লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।

তিনি বলেন, একসময় জাহাজ রিসাইক্লিং শিল্পকে পরিবেশবিরোধী, শ্রমিক শোষণনির্ভর এবং অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশের খাত হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু বর্তমানে গ্রীন ইয়ার্ডগুলোতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে কাজ হচ্ছে এবং উচ্চমানের পরিবেশ ও নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ করা হচ্ছে, যা দেশের জন্য গর্বের বিষয়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দুই বছর আগেও বিশ্বের মোট জাহাজ রিসাইক্লিংয়ের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ বাংলাদেশে হতো। সাময়িকভাবে সেই অবস্থান থেকে পিছিয়ে গেলেও দ্রুত আবারও শীর্ষ অবস্থানে ফিরে যাওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক খাত চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূল কেন্দ্রিক জাহাজভাঙা শিল্পের আধুনিকায়ন ও আন্তর্জাতিক মান অর্জনের লক্ষ্যে সরকার উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত ও কারিগরি সহায়তা দেবে জানিয়ে  শিল্পমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে পুনরায় বিশ্বে জাহাজভাঙা শিল্পের শীর্ষ অবস্থানে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে। এ শিল্পে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। তবে বৈশ্বিক মানদণ্ড অনুযায়ী শিল্প পরিচালনার জন্য উদ্যোক্তাদের গ্রিন সার্টিফিকেশন নিতে হবে। 

খাত সংশ্লিষ্টদের সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক, নীতিগত বা প্রশাসনিক যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো বিষয় থাকলে তা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা হবে।

জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বর্তমানে দেশে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৬০০ এমএমসিএফডি গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে। বিদ্যমান অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব না হলেও সরকার নতুন প্রকল্প ও সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছে।

এসময় বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী, জাহাজ রিসাইক্লিং (শিপ ব্রেকিং) শিল্প মালিক সমিতির সদস্য ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।