বাসস
  ২৯ জুন ২০২৬, ১০:২৫

ইনজুরি টাইমের গোলে দক্ষিণ আফ্রিকাকে কাঁদিয়ে শেষ ষোলতে কানাডা

ঢাকা, ২৯ জুন, ২০২৬ (বাসস) : স্টিফেন ইউস্তাকিওর ইনজুরি টাইমের গোলে রোববার নক আউট পর্বে প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত করে প্রথম দল হিসেবে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে সহ-আয়োজক কানাডা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম কানাডা শেষ ষোলতে নাম লিখিয়েছে। 

দুই দলই প্রথমবারের মত নক আউট পর্বে খেলার যোগ্যতা করেছিল। লস এ্যাঞ্জেলসের ম্যাচটির আবহ দেখে মনে হচ্ছিল অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। কিন্তু ম্যাচ শেষের ঠিক আগ মুহূর্তে ইউস্তাকিও দক্ষিণ আফ্রিকানদের কাঁদিয়ে বক্সের বাইরে থেকে বল জালে জড়ান। 

নিজেদের গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করতে না পারায় সহ-আয়োজক হওয়া সত্ত্বেও কানাডাকে কাল যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে খেলতে হয়েছে। আগামী ৪ জুলাই হিউস্টোনে শেষ ১৬’তে তাদের প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস বনাম মরক্কো ম্যাচের বিজয়ী দল। 

কানাডা কোচ জেসি মার্শ ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমাদে মধ্যে আত্মবিশ্বাস ছিল। সেই মুহূর্তটা আসে ৯২ মিনিটে, এখন আমরা পরের রাউন্ডে।’

মার্শ অবশ্য স্বীকার করেছেন নিজেদের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচটা আরও সহজ হতো, ‘অবশ্যই গোলের সময় বিবেচনা করলে ম্যাচটা দারুন নাটকীয় ছিল। আমি মনে করি সমর্থকরা আজ যেভাবে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে তা অসাধারণ।’

ম্যাচের আগে মার্শ বলেছিলেন দলের ‘এক্স ফ্যাক্টর’ আলফোনসো ডেভিস হ্যামস্ট্রিং ইনজুরি কাটিয়ে একাদশে ফিরবেন। কিন্তু বায়ার্ন মিউনিখের এই উইং ব্যাক আরও একবার একাদশে অনুপস্থিত ছিলেন। তারপরও কানাডা শুরু থেকেই আধিপত্য দেখিয়েছে। ২২ মিনিটে ইউস্তাকিওর নিখুঁত ফ্রি-কিক ডেরেক করনেয়িসের কাছে গেলেও কানাডিয়ান এই সেন্টার ব্যাকের হেড জালের ঠিকানা খুঁজে পায়নি। 

দক্ষিণ আফ্রিকা বিশেষ করে কাউন্টার এ্যাটাকে বিপদজনক ছিল। কিন্তু বিরতির ঠিক আগে অল্পের জন্য এগিয়ে যাওয়া হয়নি কানাডার। কর্ণার থেকে মোয়েস বোমবিতোর হেড লাইনের উপর থেকে ক্লিয়ার করেন দক্ষিণ আফ্রিকান ডিফেন্ডার। ফিরতি বলে টায়োন বুকানরের শট রুখে দেন গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়াম। পরের মিনিটেই রিচি লারিয়াকে বক্সের মধ্যে আটকে দেন খুলিসো মাদাউ। এই ট্যাকেলে কানাডা পেনাল্টির আবেদন করে সফল হয়নি। 

বিরতির পর কানাডা আবারও গোলের খুব কাছাকাছি চলে গিয়েছিল। বদলী খেলোয়াড় নিকো সিগরের থ্রু বল থেকে টানি ওলুওয়াসির শট রুখে দেন উইলিয়ামস। ফিরতি বলে জোনাথন ডেভিডের শট দুর্দান্ত ভাবে ক্লিয়ার করেন ডিফেন্ডার এমবেকেজেই এমবোকাজাই। 

৭৫ মিনিটে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপে প্রথমবারের মত মাঠে নামেন ডেভিস। মাঠে নামার সাথে সাথেই তিনি আক্রমনের সূচনা করেন। লেফট উইং থেকে ডেভিসের বাড়ানো বলে জোনাথন ডেভিড সতীর্থ স্ট্রাইকার প্রমিস ডেভিডের দিকে দারুন এক পাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার বল পোস্টে পাশ দিয়ে বাইরে চলে যায়। পরের মিেিট আবারও ডেভিস বল বাড়িয়ে দেন জোনাথন ডেভিডের দিকে। এবার তার শট উইলিয়ামস রুখে দেন।

যোগ হওয়া সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে শেষ পর্যন্ত সফল হয় কানাডা। রাইট উইং থেকে জ্যাকব শাফেলবার্গের দুর্দান্ত ক্রসে পোর্তো মিডফিল্ডার ইউস্তাকিও বল জালে জড়ালে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। পুরো বদলী বেঞ্চ মাঠে গিয়ে ঐতিহাসিক এই গোল উদযাপন করতে থাকে। 

মার্শ বলেন, ‘ভ্যাঙ্কুভারে নিজেদের সমর্থকদের সামনে এই উদযাপন করতে না পারাটা লজ্জার। কিন্তু সবাই আজ আমাদের খেলোয়াড়দেও প্রতিভা, মানসিকতা দেখেছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকান কোচ হুগো ব্রুস বলেছেন, প্রথমবারের মত গ্রুপ পর্ব পার করাও আমাদের জন্য অনেক কিছু। আমরা সবাই সন্তুষ্ট। তারপরও আজকের ম্যাচে এভাবে পরাজিত হওয়াতে দলের সবাই হতাশ। আমরা আজ জিততে এসেছিলাম।