বাসস
  ২৮ জুন ২০২৬, ১০:৫৬

মেসির গোলে শতভাগ জয় নিয়ে নক আউটে আর্জেন্টিনা

ঢাকা, ২৮ জুন, ২০২৬ (বাসস) : বদলী বেঞ্চ থেকে উঠে আসা লিওনেল মেসির গোলে আর্জেন্টিনা শনিবার গ্রুপের শেষ ম্যাচে জর্ডানকে ৩-১ ব্যবধানে পরাজিত করে তিন ম্যাচে শতভাগ জয় নিয়ে নক আউট পর্বে উঠেছে। শেষ ৩২’ রাউন্ডে তাদের প্রতিপক্ষ কেপ ভার্দে। 

এবারের বিশ্বকাপে এটি মেসি ষষ্ঠ গোল। এর মাধ্যমে মেসির বিশ্বকাপে গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৯। 

আগামী ৩ জুলাই মিয়ামিতে বিশ্ব চ্যামিম্পয়নদের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬৭ নম্বরে থাকা কেপ ভার্দেকে বাড়তি সতর্ক থাকতেই হবে। 

আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় লিওনেল মেসিকে এই ম্যাচে বেঞ্চে রেখেছিলেন কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে টেক্সাসে ম্যাচের এক ঘণ্টা পর মাঠে নামতেই গ্যালারিজুড়ে করতালির ঝড় ওঠে। ফ্রি-কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে আার্জেন্টিনার তৃতীয় গোলটি করেন মেসি।

জে-গ্রুপে আর্জেন্টিনা শতভাগ জয় নিয়ে শীর্ষস্থান নিশ্চিত করে। এর আগে তারা আলজেরিয়াকে ৩-০ এবং অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়েছিল। তিন ম্যাচেই গোল করেছেন মেসি।

বেশ কিছু পরিবর্তন নিয়ে মাটে নামা আর্জেন্টিনা প্রথমার্ধেই ২-০ এগিয়ে যায়। জিওভানি লো সেলসোর দুর্দান্ত ফ্রি-কিক এবং লটারো মার্টিনেজের পেনাল্টি থেকে আসে গোল দুটি।

দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিট পর জর্ডানের হয়ে মুসা আল-তামারি একটি গোল শোধ দেন।

আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জয়ী একাদশে নয়টি পরিবর্তন আনেন। সেই ম্যাচের একাদশ থেকে শুধু গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ এবং ফরোয়ার্ড লটারো মার্টিনেজকে রেখেছিলেন।

অন্যদিকে আলজেরিয়া ও অস্ট্রিয়ার কাছে হেরে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়ায় জর্ডানের জন্য এই ম্যাচটির টুর্নামেন্টের দিক থেকে আর কোনো গুরুত্ব ছিল না।

চমক জাগানো কেপ ভার্দের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর লড়াইয়ের আগে শক্তির বার্তা দিতে চেয়েছিল আর্জেন্টিনা। 

১৯৬২ সালের ব্রাজিলের পর প্রথম দল হিসেবে টানা দুটি বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে খেলছে আর্জেন্টিনা।

ডালাস কাউবয়েজ স্টেডিয়াম ছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকে পরিপূর্ণ। শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল তাদের হাতেই। ১৯তম মিনিটে লো সেলসো দারুণ এক বাঁকানো ফ্রি-কিক থেকে গোল করে উৎসবের সূচনা করেন। 

জর্ডানের গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা উল্টো দিকে সরে যাওয়ায় বলের নাগাল পাননি।

সাইডলাইনে দাঁড়িয়ে স্বস্তিতে থাকা মেসিকে তখন হাসতে দেখা যায়।

এর কিছুক্ষণ পরই বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা ব্যবধান দ্বিগুণ করে। ভিএআর পর্যালোচনার পর দেখা যায়, মার্কোস সেনেসি ডাইভিং হেড করতে গিয়ে প্রতিপক্ষের ফাউলের শিকার হন।

এই ঘটনায় পাওয়া পেনাল্টি থেকে জোরালো শটে গোল করেন লটারো মার্টিনেজ।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরু হওয়ার কযয়েক মিনিটের মধ্যেই বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসিকে মাঠে নামানোর দাবি জানাতে শুরু করেন দর্শকেরা। মেসি যখন মাঠে নামার প্রস্তুতিতে জার্সি বদলাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দিয়ে জর্ডানের হযয়ে ব্যবধান কমান আল-তামারি। এতে স্টেডিয়ামের বড় একটি অংশ স্তব্ধ হয়ে যায়।

এরপর ম্যাচটি অনেকটাই প্রীতি ম্যাচের আবহ তৈরি করে। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের ১০ মিনিট বাকি থাকতে মেসি একটি সহজ ফ্রি-কিক থেকে গোল করেন। এর আগে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক এবং অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর এই গোলটি ছিল গ্রুপপর্বে তার ষষ্ঠ গোল।