শিরোনাম

ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৬ (বাসস) : টেক্সাসে অনুষ্ঠিত গ্রুপ-এল’র প্রথম ম্যাচে হ্যারি কেনের প্রথমার্ধের দুই গোলে ক্রোয়েশিয়াকে ৪-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে বিশ্বকাপে দূরন্ত সূচনা করেছে ইংল্যান্ড।
জুড বেলিংহ্যাম বিরতির পরপর এবং মার্কোস রাশফোর্ড ম্যাচ শেষের পাঁচ মিনিট আগে ইংল্যান্ডের হয়ে আরো দুই গোল করেন। একসময় ক্রোয়েশিয়া দারুনভাবে লড়াই করে ২-২ সমতায় ফিরলেও শেষ পর্যন্ত থমাস টাচেলের দলের আর পেরে উঠেনি।
ইংলিশ অধিনায়ক কেন প্রথমার্ধে একটি পেনাল্টি থেকে এক গোল করেন। ২০১৮ রানার্স-আপ ক্রোয়েশিয়ার হয়ে গোল করেছেন মার্টিন বাতুরিয়া ও পিটার মুসা।
দুই দলেরই রক্ষনভাগ কাল কিছুটা নার্ভাস ছিল। যে কারনে কোন দলই প্রথমার্ধে লিড নিতে পারেনি। ইংল্যান্ডের গোলের পরপরই ক্রোয়েশিয়া গোল শোধ করে ম্যাচে ফিরেছে। বিরতির দুই মিনিট পর বেলিংহ্যামের গোলে আবারও এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড।
৭০ হাজার ধারণক্ষমতা সম্পন্ন আর্লিংটন স্টেডিয়ামে ইংল্যান্ডই বেশী সুযোগ পেয়েছে। যদিও রাশফোর্ডের গোলের আগ পর্যন্ত ইংলিশ শিবিরে স্বস্তি ফিরেনি।
অধিনায়ক কেন ম্যাচ শেষে বলেছেন, ‘আমি মনে করেছিলাম প্রথমার্ধে আমরা মোটামুটি খেলেছি। যেভাবে দুই গোল হজম করেছি তা ছিল হতাশার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সব কৃতিত্ব কোচের। বিরতির সময় তিনি আমাদের উজ্জীবিত করে বলেছিলেন, আজ যদি হেরে যাই তবে বিশ^কাপে আমরা পথ হারাবো। দ্বিতীয়ার্ধে আমরা দারুনভাবে ম্যাচে ফিরে এসেছি।’
কালকের ম্যাচটি ছিল ২০১৮ সেমিফাইনালে পুনরাবৃত্তি। ম্যাচটিতে ক্রোয়েশিয়া অতিরিক্ত সময়ের গোলে জয় ছিনিয়ে নিয়েছিল। সাম্প্রতিক সময়ে ক্রোয়েশিয়ার সব সাফল্যের মূল কারিগর কোচ জ্লাটকো ডালিচ। বিশ্বকাপের সবচেয়ে বেশী বয়সী খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া দলটির অভিজ্ঞতাকে তিনি মাঠে কাজে লাগাতে চেয়েছেন।
১৯৬৬ সালের পর প্রথম বড় কোন টুর্নামেন্টের শিরোপা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নেমেছে ইংল্যান্ড। ১২ মিনিটে ক্রোয়েশিয়ান তারকা-অধিনয়ক লুকা মদ্রিচ ডি বক্সের ভিতর নোনি মাদুয়েকেকে আটকাতে গিয়ে ফাউল করলে পেনাল্টি আদায় করে নেয় ইংল্যান্ড। স্পট কিক থেকে কেনের শট প্রথমে রুখে দেন গোলরক্ষক ডোমিনিক লিভাকোভিচ। কিন্তু ভিডি রিপ্লেতে দেখা যায় শট নেবার আগে লিভাকোভিচ তার লাইন থেকে এগিয়ে এসেছিলেন। দ্বিতীয় শটে আর কোন ভুল করেননি বায়ার্ন মিউনিখ তারকা কেন। ৩৬ মিনিটে ইংল্যান্ডের এলেমেলো মিডফিল্ডের সুযোগে পিটার সুসিচের পাস থেকে বাতুরিনা ক্রোয়েশিয়াকে সমতায় ফেরান। ২৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডকে আটকাতে পারেননি ইংলিশ গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ৪২ মিনিটে ডিক্লান রাইসের কর্ণার থেকে ফাঁকায় দাঁড়ানো কেন বল জালে জাড়িয়ে আবারও ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন। এর মাধ্যমে বিশ^কাপে কেনের গোলসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১০। প্রথমার্ধে ইনজুরি টাইমে ইংল্যান্ডের রক্ষনভাগের ভুলে মুসা ক্রোয়েশিয়াকে স্বস্তির সমতা এনে দেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ইংল্যান্ড অনেকটাই অপ্রতিরোধ্য ছিল। যার ফলাফল আরও দুই গোল। দুই মিনিটের মধ্যে বেলিংহ্যামের গোলের পর ৮৫ মিনিটে রাশফোর্ড ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত করেন।