শিরোনাম

ঢাকা, ৮ জুন, ২০২৬ (বাসস): ব্যাংকিং খাতে চলমান সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্বল ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।
সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে সম্পাদক পরিষদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, সাধারণ সম্পাদক ও বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ, মানবজমিন সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী, প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান, ইনকিলাব সম্পাদক এ এম এম বাহাউদ্দীন, সমকাল সম্পাদক শাহেদ মোহাম্মদ আলী এবং দৈনিক আগামীর সময় সম্পাদক মোস্তফা মামুন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নররাও উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গভর্নর ব্যাংকিং খাতের চলমান সংস্কার কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলেন, দুর্বল ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, খেলাপি ঋণ হ্রাস, ডিজিটাল রূপান্তর এবং আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে।
তিনি জানান, দুর্বল ব্যাংকগুলোর একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে কিছু প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। ব্যাংকগুলোর কোর ব্যাংকিং সিস্টেম (সিবিএস) উন্নয়ন ও সমন্বয় সম্পন্ন হলে পুনর্গঠন কার্যক্রম আরও গতি পাবে।
খেলাপি ঋণ দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে অর্থঋণ আদালত আইন সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান। পাশাপাশি আদায়-অযোগ্য ঋণ ব্যবস্থাপনার জন্য ‘ডিস্ট্রেসড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি আইন’ প্রণয়নের কাজ চলছে।
গভর্নর বলেন, বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যে প্রায় ২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে, যা দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলছে।
তিনি ব্যাংকিং খাতকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ব্যাংক পরিচালনা ও ঋণ বিতরণে পেশাদারিত্ব, জবাবদিহিতা এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই বর্তমান সংস্কার কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
গভর্নর আরও জানান, কয়েকটি বড় ব্যাংক, বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ পুনর্গঠন, ব্যবস্থাপনা পরিবর্তন এবং আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
ডিজিটাল রূপান্তরের বিষয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি সমন্বিত ডিজিটাল আর্থিক ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে কাজ করছে। এর আওতায় ডিজিটাল ন্যানো-ঋণ ব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ঋণ মূল্যায়ন এবং ক্রেডিট ব্যুরোর অনুমোদন প্রক্রিয়া আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান আইডেন্টিটি, ওয়ান ওয়ালেট’ ধারণা বাস্তবায়নের মাধ্যমে ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রসার আরও ত্বরান্বিত হবে।
গভর্নর বলেন, ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণ এবং লেনদেন রিপোর্টিং ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
বিদেশে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা প্রাপ্তির বিষয়ে তিনি জানান, অনুমোদিত সীমার বাইরে অতিরিক্ত ডলারের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের আবেদনের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংক দ্রুত অনুমোদন দিচ্ছে।
এ ছাড়া, ইউপিএএস সুবিধার আওতায় বিল ডিসকাউন্টিংয়ের জন্য ব্যবহৃত তহবিলের সুদের হার কমানো হয়েছে, যা আমদানিকৃত পণ্যের মূল্য হ্রাসে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সাক্ষাৎকালে সম্পাদক পরিষদের সদস্যরা ব্যাংকিং ও আর্থিক খাত সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন। উভয় পক্ষ দেশের ব্যাংকিং খাতের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।