শিরোনাম

ঢাকা, ২৭ মে, ২০২৬ (বাসস) : দীর্ঘ ১৭ বছর পর এক বিশাল রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতৃত্বাধীন সরকার। রাজনৈতিক মেরুকরণের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকারের প্রথম ১০০ দিন পূর্ণ হয়েছে।
রাজনৈতিক অচলাবস্থা, ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল আইনশৃঙ্খলা ও গভীর সামাজিক বিভাজনের মধ্যে চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে সরকার গঠন করে বিএনপি। দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই এই সরকারকে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের বড় চ্যালেঞ্জ নিতে হয়েছে। তবে এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর দায়িত্ববোধ ও আন্তরিকতা দিয়ে জনমানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাচ্ছেন এবং বাস্তবায়ন করেছেন জনকল্যাণমুখী একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি।
সরকারের উল্লেখযোগ্য অর্জন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম ও গৃহীত উদ্যোগ তুলে ধরে আজ বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি ই-বুক প্রকাশ করা হয়েছে। ই-বুকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সরকারের প্রথম ১০০ দিনে অর্জিত প্রধান প্রধান সাফল্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ:
সরকারের ১০০ দিনে ইতোমধ্যে ৫৩ হাজার ৯৬টি পরিবার ‘ফ্যামিলি কার্ড’ এবং ২০ হাজার ৭৪৮টি পরিবার ‘কৃষক কার্ড’ পেয়েছে। ৫৫ লাখ পরিবারকে ১৫ টাকা কেজি দরে মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রবীণ ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য মেট্রোরেল ও ট্রেনের ভাড়ায় ২৫ শতাংশ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জুলাই গণ-আন্দোলনের ১৫২ জন আহত যোদ্ধাকে রাশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে সরকার।
অর্থনীতি ও রাজস্ব খাত:
অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে। গত ২০ মে পর্যন্ত দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪.৩৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে এবং মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রাজস্ব আদায়ে ১৩.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। এ ছাড়া তীব্র সংকটের মধ্যেও ভর্তুকির মাধ্যমে ভোজ্যতেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে রেখেছে সরকার।
কৃষি, অবকাঠামো ও যোগাযোগ:
সারাদেশে ৬৬৬টি খাল পুনঃখননের কাজ শুরু হয়েছে। চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের, যার মাধ্যমে দেশের ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন। বিমান বহর সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ যুক্ত করার চুক্তি সই হয়েছে। পাশাপাশি ভূমিসেবা সম্পূর্ণ অটোমেশন বা ডিজিটাল করা হয়েছে।
শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান:
স্বাস্থ্য খাতে দেশের ২ কোটিরও বেশি (শতভাগ) শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে দেশের ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়েছে। শ্রম খাতে সব শিল্পকারখানায় ঈদের আগেই শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে।
ক্রীড়া ও ধর্মীয় খাত:
১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী ক্রীড়াশিক্ষার্থীদের জন্য ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কর্মসূচি চালু রয়েছে। এ ছাড়া ৫৫০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ক্লাবে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। ধর্মীয় ক্ষেত্রে প্রায় ৬ হাজার ধর্মীয় উপাসনালয়ের প্রধানরা (ইমাম-মুয়াজ্জিন ও অন্যান্য) সরকারের পক্ষ থেকে মাসিক ভাতা পাচ্ছেন। পশুর চামড়া সুরক্ষায় ১৫ হাজার ৪৪৪ জন পেশাদার এবং ২২ হাজার ৯১৮ জন অপেশাদার কসাইকে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চামড়া ছাড়ানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
সার্বভৌমত্ব, প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতি:
আকাশসীমা সুরক্ষায় ঢাকা থেকে ৬৫০ কিলোমিটার এবং বঙ্গোপসাগরের ৮৩৩ কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারির ক্ষমতাসম্পন্ন অত্যাধুনিক ‘গ্রাউন্ড মাস্টার-৪০০’ রাডার চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের পাসপোর্টে আবারও যুক্ত করা হচ্ছে ‘ইসরাইল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধটি, যা ক্ষমতাচ্যুত সরকারের আমলে বাদ দেওয়া হয়েছিল।
দুর্নীতি দমন ও সুশাসন:
দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে বহুল আলোচিত এস আলম গ্রুপের ৪ হাজার ২৬৪ কোটি টাকার স্থাবর সম্পদ সফলভাবে জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া টাকা ফেরত আনতে ১০টি দেশের মধ্যে ৩টি দেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক চুক্তি সই হয়েছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গেও চুক্তি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
ই-বুকে জানানো হয়, গত ২৪ মে পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ১০টি মন্ত্রিসভা (কেবিনেট) সভায় মোট ৬০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইতিমধ্যে ৩৭টি বাস্তবায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং বাকি ২৩টি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।