শিরোনাম

নিউইয়র্ক, ১২ এপ্রিল, ২০২৬ (বাসস): নিউইয়র্কের টাইমস স্কয়ার শনিবার নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দিনব্যাপী এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এনআরবি ওয়ার্ল্ডওয়াইড-এর আয়োজনে এবং নিউ ইয়র্ক স্টেট সিনেট-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশী, শিল্পী, সাহিত্যিক এবং মার্কিন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা অংশ নেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ২৭টি পর্বে সাজানো কর্মসূচি দর্শকদের আকর্ষণ করে।
অনুষ্ঠানের সূচনায় অংশ নেন বিশ্বজিত সাহা, রোকেয়া হায়দার, হোসাইন কবির ও মহিতোষ তালুকদার তাপসসহ বিশিষ্টজনেরা। বড় ডিজিটাল স্ক্রিনে প্রদর্শিত শুভেচ্ছা বার্তায় অংশ নেন ব্র্যাড হোয়েলম্যান-সিগাল, ডোনোভান রিচার্ডস জুনিয়র, গ্রেস মেং এবং জন লিউ।
পরে কথাসাহিত্যিক শামসুদ্দিন আবুল কালামের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। তোফাজ্জল লিটনের উপস্থাপনায় এ পর্বে সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধনী সংগীতে কার্তিক চন্দ্র পরিবেশনা করেন।
দিনের প্রথমভাগে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংগীত, শিশুদের একক পরিবেশনা, অ্যালভান চৌধুরীর গান, রঞ্জনীর নৃত্য এবং চিত্রর পরিবেশনা দর্শকদের আকৃষ্ট করে। জীবন চৌধুরীর পরিবেশনায় “ময়মনসিংহ গীতিকা” উপস্থাপন করা হয়।

অনুষ্ঠানে নেপাল, লাওস ও থাই কমিউনিটির শিল্পীরাও অংশ নেন। তাদের পরিবেশনায় বিভিন্ন দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য তুলে ধরা হয়। “ছয় ঋতু” শিরোনামের একটি পরিবেশনাও অনুষ্ঠিত হয়।
মধ্যাহ্নে সম্মাননা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিদেশি অতিথি ও বিভিন্ন কমিউনিটির প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ড. কল্লোল বসুর উপস্থাপনায় এ পর্বে আয়োজনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। পরবর্তীতে রোকেয়া হায়দার ও বিশ্বজিত সাহার অংশগ্রহণে স্মারকগ্রন্থ উন্মোচন করা হয়।
বিকেলে নাটক “জ্যোতি সংহিতা” মঞ্চস্থ হয়। এছাড়া শোভাযাত্রা, সলিল চৌধুরী স্মরণে সংগীত, রহমান টিটোর “দ্রোহের গান”, আড্ডা ও সৃষ্টি একাডেমির নৃত্য, শাহ মাহবুবের লোকগান এবং ওড়িশি ডান্স একাডেমির পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। উত্তম কুমারকে স্মরণে বিশেষ পরিবেশনাও ছিল।
সন্ধ্যায় শিশুদের “শতকণ্ঠে বর্ষবরণ” এবং পরে সিনিয়র শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।
সবশেষে কলকাতার ঋতুপর্ণা ব্যানার্জি এবং ঢাকার নকুল কুমার বিশ্বাসের সমাপনী সংগীতের মাধ্যমে রাত ১০টায় অনুষ্ঠান শেষ হয়।
সমাপনী বক্তব্যে আয়োজকরা বলেন, টাইমস স্কয়ারে এ আয়োজন আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে পরিণত হয়েছে।