বাসস
  ০৯ মার্চ ২০২৬, ১৭:৪৮

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থীকে সমর্থনের আশ্বাস তুরস্কের

আজ ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: মন্ত্রণালয়

ঢাকা, ৯ মার্চ, ২০২৬ (বাসস): ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর প্রতি সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছে তুরস্ক।  

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিস সেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ আশ্বাস দেন।

বৈঠকে প্রতিমন্ত্রী ইউএনজিএ’র ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রার্থীর প্রতি তুরস্কের সমর্থন কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত সেন জানান, তুরস্ক প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশের প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দেবে।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নিযুক্ত হওয়ায় শামা ওবায়েদ ইসলামকে অভিনন্দন জানান তুরস্কের রাষ্ট্রদূত এবং দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব ও অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ও তুরস্কের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অভিন্ন মূল্যবোধ, সাংস্কৃতিক সাদৃশ্য এবং গভীর সভ্যতাগত বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

উভয় পক্ষ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর উপায় নিয়ে আলোচনা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে ইতিবাচক অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তারা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ বৃদ্ধির অভিন্ন লক্ষ্যের প্রতি জোর দেন।

প্রতিমন্ত্রী বাংলাদেশে তুরস্কের আরও বেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানান এবং এ ধরনের উদ্যোগকে সহজতর করার প্রস্তুতি ব্যক্ত করেন।

তিনি দুই দেশের ক্রমবর্ধমান প্রতিরক্ষা সহযোগিতার বিষয়টি তুলে ধরেন এবং সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রতিরক্ষা শিল্পে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয় গুরুত্বারোপ করেন।

শামা ওবায়েদ ইসলাম বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানের জন্য তুরস্ক সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ঢাকার প্রতি আঙ্কারার অব্যাহত সমর্থনের  প্রশংসা করেন।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে তুরস্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক ও শিক্ষা বিনিময়ের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশে তুর্কি সংস্কৃতি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।

তিনি সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও জোরদার করতে বাংলাদেশে একটি পূর্ণাঙ্গ তুর্কি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন।

জবাবে রাষ্ট্রদূত সেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউনুস এমরে ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার বিদ্যমান প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ প্রাথমিকভাবে একটি ভাষা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র হিসেবে শুরু হতে পারে এবং পরে বিস্তৃত সাংস্কৃতিক কর্মসূচিতে সম্প্রসারিত হতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী আরও আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় সংসদের অধিবেশন পুনরায় শুরু হলে বাংলাদেশ-তুরস্ক সংসদীয় বন্ধুত্ব গ্রুপকে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে আইনসভা ও দুদেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হয়।