বাসস
  ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০৫

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল চৌধুরী বললেন, দায়িত্ব আরো বেড়ে গেছে

প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল চৌধুরী। ফাইল ছবি

শুয়াইবুল ইসলাম

সিলেট, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ (বাসস): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী আরিফুল চৌধুরীর মাত্র ২০ বছর বয়সে ছাত্রজীবন থেকে রাজনীতির হাতেখড়ি। ছাত্রদল ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করে একে একে সব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। জনপ্রিতিনিধি হিসেবেও তাঁর হারার রেকর্ড নেই। ওয়ার্ড কমিশনার থেকে তার যাত্রা শুরু। এরপর দু’বার মেয়র, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি গঠিত মন্ত্রিসভায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি।

আরিফুল হক চৌধুরী ২০১৩ সালে সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন। নিজের যোগ্যতা ও কাজের মধ্য দিয়ে তুমুল জনপ্রিয় হয়ে ওঠা আরিফ ২০১৮ সালের নির্বাচনে শত ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে জনগণের ভালোবাসায় সিক্ত হন এবং পুনরায় মেয়র নির্বাচিত হন। তৎকালীন বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাটুকুও পাননি। এবার সিলেট-৪ আসনে মাত্র কয়েকদিনে সাধারণ মানুষের ব্যাপক ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। গতকাল মঙ্গলবার গঠিত মন্ত্রিসভায় তাঁকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেন দলের চেয়ারম্যান ও নবগঠিত বিএনপি সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে সিলেট-৪ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে আরিফুল হক চৌধুরী পান এক লাখ ৮৮ হাজার ৩৪৬ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৬৯ হাজার ৯৭৫ ভোট। 

এর আগে ২০০৩ সালে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফুল। 

বিএনপি সরকারের পতনের পর ওয়ান-ইলেভেনের পটভূমিতে আরিফুল হক কারাবরণ করেন। তবে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির বাধা ডিঙিয়ে তিনি ফের নিজের অবস্থান শক্ত করেন।

২০১৩ সালে সিলেট সিটি করপোশেন নির্বাচনে তৎকালীন সিটি মেয়র বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের বিপরীতে প্রার্থী হন। সিসিকের প্রতিষ্ঠাকালীন মেয়র ও একাধিকবারের নির্বাচিত জনপ্রিয় পৌর মেয়র এবং পরবর্তীতে সিটি মেয়র বদরউদ্দিন কামরানকে হারিয়ে রীতিমতো সবাইকে চমকে দেন আরিফুল হক চৌধুরী।

মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে আরিফুল হক চৌধুরী আমূল পরিবর্তন আনেন সিলেট নগর উন্নয়নে। তাঁর নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ততম সড়কগুলো সম্প্রসারণের পাশাপাশি নগরের ব্যাপক অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়। দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ছড়া ও খাল উদ্ধারসহ নানা কাজ করে ব্যাপক প্রসংশিত ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ২০২৩ সালের সিসিক নির্বাচনে তাঁর প্রার্থী হওয়ার কথা থাকলেও দলের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে তিনি মেয়র পদ থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন।

আরিফুল হক চৌধুরী ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা সফিকুল হক চৌধুরী এবং মা আমিনা খাতুন। তিন সন্তানের জনক আরিফুল হক ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠালগ্নে জাতীয়বাদী ছাত্রদলের রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তিনি সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য, সিলেট জেলা বিএনিপর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, সিলেট মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক, এরপর মহানগর বিএনপির সভাপতি, জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সাবেক বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

নিজের এতদূর আসার পেছনে জনগণের ভালোবাসাকেই সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মনে করেন আরিফুল। 

তিনি বাসসকে বলেন, মানুষ আমাকে ভালোবাসে। তাঁদের ভালোবাসাই আমার শক্তি। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি। মানুষ যে বিপুল সমর্থন দিয়ে আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছে, এই ঋণ শোধ করার মতো ক্ষমতা আমার নেই।

তিনি আরও বলেন, আমি জনগণের সেবক হতে চেয়েছি। যখনই তাদের কাছে গেছি, তারা অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়েছেন, আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আজ আমি যতটুকু হতে পেরেছি, তার পেছনে সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব আমার দল ও জনগণের। তাদের কাছে আমি আজীবন ঋণী।

মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় নিজের দায়িত্ব বেড়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার দায়িত্ব এখন আরও বেড়ে গেছে। সারাদেশের প্রবাসীদের সুখ-দুঃখ ও সমস্যা-সম্ভাবনার কথা আমাকে ভাবতে হবে। আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব যেন যথাযথভাবে পালন করতে পারি সে জন্য মহান আল্লাহর কাছে সবার প্রার্থনা ও সহযোগিতা কামনা করছি।