বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৬:০৪
আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৭:২০

ভূমি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ১০টি মাইলফলক অর্জন: এক ছাতার নিচে সব সেবা

মঙ্গলবার ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন। ছবি : পিআইডি

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : ভূমিসেবা কার্যক্রমকে সাধারণ মানুষের জন্য সহজ, স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকার দশটি বড় মাইলফলক অর্জন করেছে।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের ১০টি প্রধান অর্জনের বিস্তারিত প্রতিবেদন তুলে ধরে ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, বিগত কয়েক মাসে প্রশাসনিক সংস্কার, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে ভূমিসেবা এখন সাধারণ মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে গেছে।

আজ সকালে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ, খাদ্য সচিব মো. ফিরোজ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমি বিষয়ক অর্জন নিয়ে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ভূমিসেবা এক ছাতার নিচে আনতে জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ‘land.gov.bd’ প্ল্যাটফর্ম চালু করা হয়েছে। এর ফলে ল্যান্ড সার্ভিস গেটওয়ে (এলএসজি) ব্যবহার করে নাগরিকরা একটিমাত্র লগইনেই মিউটেশন, কর ও ম্যাপসহ সব সেবা পাচ্ছেন।

এতে বলা হয়, ই-মিউটেশন ২.১ ভার্সন চালুর ফলে জমি কেনাবেচার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয়ভাবে হোল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এতে তথ্য গোপন করে একই জমি বারবার বিক্রির জালিয়াতি পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে। নাগরিকদের এখন শুনানির জন্য মাত্র একবার ভূমি অফিসে আসতে হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, কর ব্যবস্থার ২য় ভার্সনে ডুপ্লিকেশন চেক ও ই-পর্চা ভেরিফিকেশন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। হোল্ডিং স্থগিত হওয়ার কারণ এখন নাগরিকরা সরাসরি তাদের প্রোফাইলে দেখতে পারছেন। ২য় ভার্সনের মাধ্যমে খতিয়ানের ইতিহাস সংরক্ষণ শুরু হয়েছে, যা মালিকানা যাচাই সহজ করেছে। এছাড়া ই-পোস্টের মাধ্যমে ঘরে বসেই খতিয়ান ডেলিভারি নেওয়ার ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ভূমি উপদেষ্টা জানান, ভূমি কর্মকর্তাদের বদলি ও ইনভেন্টরি ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জিইএমএস সিস্টেমের সঙ্গে আন্তঃসংযোগ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে অনলাইনে আবেদন ও ফি প্রদানে সহায়তা করতে সারাদেশে ৮৮৯টি সহায়তা কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই পাইলটিং এখন তিন পার্বত্য জেলা বাদে সারাদেশে বিস্তৃত করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে চালু হওয়া এই অ্যাপের মাধ্যমে স্মার্টফোন ব্যবহার করেই ভূমি উন্নয়ন কর, জিসিআর, খতিয়ান এবং মৌজা ম্যাপ সংগ্রহ করা যাচ্ছে। ইউএনডিপির সহায়তায় সারাদেশে ডাটাবেজের ভুল সংশোধনের কাজ শুরু হয়েছে। ফেনী জেলা থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম বর্তমানে ৮টি জেলায় পাইলটিং শেষে সারাদেশে বাস্তবায়নের পথে।

সংবাদ সম্মেলনে অর্জন সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও কৃষি জমি সুরক্ষায় ‘ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষি ভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৬’ এবং ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিধিমালা ২০২৪’ সহ মোট ছয়টি নতুন আইন ও নির্দেশিকা প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে ডিজিটাইজড জরিপ এবং রাজউকের পূর্বাচল প্রকল্পে ‘পেন্টাগ্রাফ’ পদ্ধতির মাধ্যমে লিজ দলিলের জটিলতা নিরসন করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টার ১৬১২২-এর মাধ্যমে ২০২৫ সালে ৫ লক্ষাধিক নাগরিককে সেবা দেওয়া হয়েছে এবং নাগরিক সন্তুষ্টির হার বর্তমানে ৯০ শতাংশের উপরে।