বাসস
  ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৩:৫৭

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। ফাইল ছবি

ঢাকা, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): অন্তর্বর্তী সরকারের স্বল্প সময়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উৎপাদন বৃদ্ধি, সম্পদ সংরক্ষণ জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থরক্ষায় যুগান্তকারী অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। 

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে গৃহীত কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরতে আজ মঙ্গলবার সকালে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

উৎপাদন ব্যয় কমাতে খামারিদের জন্য বিদ্যুৎ বিলে ২০ শতাংশ ছাড় (রিবেট) এবং এ খাতে ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রদানের নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের সংখ্যা ১৩ লাখ ২৬ হাজার ৪৮৬ থেকে বাড়িয়ে ১৫ লাখে উন্নীত করা হচ্ছে। প্রথমবারের মতো সুন্দরবন ও হাওর এলাকার জেলেরা নিষেধাজ্ঞার সময়ে ভিজিএফ (VGF) সুবিধার আওতায় আসছেন।

তিনি বলেন, ইলিশ রক্ষায় পদ্মা-মেঘনা অববাহিকায় ৬টি অভয়াশ্রম এবং বঙ্গোপসাগরে ৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা প্রজনন ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিলুপ্তপ্রায় দেশীয় মাছ সংরক্ষণে ৬৬৯টি অভয়াশ্রম পরিচালিত হচ্ছে। হালদা নদীকে ‘মৎস্য হেরিটেজ’ ঘোষণা করা হয়েছে, ফলে নদীটি জাতীয় অর্থনীতিতে বছরে ৮০০ কোটি টাকার বেশি অবদান রাখছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের ৭টি অভয়াশ্রমের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বাড়লেও এ লেকের অবৈধ দখল ও দূষণের শিকার হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।

গবাদিপশুর পিপিআর নির্মূলে ৩ কোটি ৬১ লাখের বেশি এবং ক্ষুরারোগ নিয়ন্ত্রণে প্রায় ৪৬ লাখের বেশি টিকা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুর ১৭টি বিভিন্ন রোগের বিরুদ্ধে প্রায় ৫৭ কোটি ডোজের বেশি টিকা উৎপাদন করা হয়েছে। অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (AMR) প্রতিরোধে স্টুয়ার্ডশিপ গাইডলাইন তৈরি, স্ট্যান্ডার্ড ট্রিটমেন্ট গাইডলাইন চালু এবং ‘জুনোটিক’ রোগ শনাক্তে একটি বিশেষায়িত ভেটেরিনারি পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে।

আসন্ন রমজান মাসে সাধারণ মানুষের স্বস্তির জন্য ২৬ দিন ভ্রাম্যমাণ কেন্দ্রের মাধ্যমে সুলভ মূল্যে পণ্য বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে ড্রেসড ব্রয়লার প্রতি কেজি ২৪৫ টাকা, গরুর মাংস ৬৫০ টাকা, দুধ প্রতি লিটার ৮০ টাকা এবং ডিম প্রতি পিস ৮ টাকা দরে বিক্রি করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই বিক্রয়কেন্দ্রের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কপ-৩০ (COP-30) সম্মেলনে প্রথমবারের মতো এই মন্ত্রণালয়ের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদের ওপর যে তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। 

তিনি আরও জানান, এই বিশাল খাতটি এতদিন ‘কৃষির উপখাত’ হিসেবে থাকায় অনেক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই একে ‘পূর্ণাঙ্গ খাতের’ মর্যাদা দেওয়ার জন্য প্রধান উপদেষ্টা ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।