বাসস
  ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:০৭

সরকারি কর্মকমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশসহ কয়েকটি নীতিমালা অনুমোদন করেছে উপদেষ্টা পরিষদ 

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : পিআইডি

ঢাকা, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): উপদেষ্টা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে সরকারি কর্মকমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, বাংলাদেশ জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা, ২০২৬ এবং জাতীয় মৎস্য নীতিমালা, ২০২৬-এর খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সাথে কাতার ও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে কর্মকর্তা ও সামরিক সদস্য প্রেষণ সংক্রান্ত চুক্তির অনুমোদনের প্রস্তাব এবং কর্ণফুলী নদীর তীরে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল (ফ্রি ট্রেড জোন) স্থাপনের নীতিগত অনুমোদনও দেওয়া হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব অনুমোদন দেওয়া হয়।

বৈঠকের পর রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

জাতীয় যোগ্যতা কাঠামো নীতিমালা, ২০২৬ সম্পর্কে শফিকুল আলম বলেন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশন ফ্রেমওয়ার্ক (বিএনকিউএফ) একটি গতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কাঠামো। এর মাধ্যমে সাধারণ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষাসহ সব ধারার শিক্ষার মধ্যে যোগ্যতার সুস্পষ্ট সংজ্ঞা ও সমন্বয় নিশ্চিত করা হবে। 

তিনি বলেন, নীতিমালার লক্ষ্য হলো পূর্ব অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি দেওয়া, এক শিক্ষা ধারা থেকে অন্য ধারায় স্থানান্তর সহজ করা এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ও কর্মীদের যোগ্যতার স্বীকৃতি নিশ্চিত করা। এতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং শ্রমবাজারে কর্মীদের উল্লম্ব ও অনুভূমিক গতিশীলতা সহজ হবে।

শফিকুল আলম জানান, বিষয়টি মানবসম্পদ উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনের গতিধারা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা হিসেবে প্রণীত হয়েছে।

সরকারি কর্মকমিশন সংশোধন অধ্যাদেশ, ২০২৬ সম্পর্কে তিনি বলেন, নতুন সংশোধনীর মাধ্যমে কমিশনের বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ে সরকারের পূর্ব অনুমোদন আর বাধ্যতামূলক থাকবে না। এতে কমিশনের কাজের গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

জাতীয় মৎস্য নীতিমালা, ২০২৬ প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, এটি ১৯৯৮ সালের নীতির পরিবর্তে প্রণীত। নতুন নীতি জনগণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, প্রাণীজ প্রোটিনের চাহিদা পূরণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন, রপ্তানি বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং টেকসই মৎস্য উৎপাদনের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন ও সুনীল অর্থনীতির বিকাশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

তিনি বলেন, এই লক্ষ্য পূরণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার, মৎস্য খামার যান্ত্রিকীকরণ, মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্যের ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, ভ্যালু এডেড পণ্য উৎপাদন, মুক্ত জলাশয়ের টেকসই ও বাস্তুতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনা এবং গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কাতার আর্মড ফোর্সেস ও বাংলাদেশ আর্মড ফোর্সেসের মধ্যে কর্মকর্তা ও সামরিক সদস্য প্রেষণ সংক্রান্ত চুক্তি অনুমোদনের বিষয়ে শফিকুল আলম জানান, বাংলাদেশি কর্মকর্তারা কাতারে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হবে এবং ভবিষ্যতে প্রেষণের সংখ্যা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থাপন সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি জানান, প্রস্তাবিত জোনের জন্য কর্ণফুলী নদীর তীরে প্রায় ৬৫০ একর জমি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বর্তমানে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের মালিকানাধীন। এ জোনে বিশ্বের যে কোনো দেশের কোম্পানি পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি করতে পারবে।

বৈঠকে জাপানের সাথে সদ্য স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব চুক্তি (ইপিএ) নিয়েও আলোচনা হয়। শফিকুল আলম বলেন, প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই চুক্তিকে ‘যুগান্তকারী’ হিসেবে অভিহিত করেন। এর ফলে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি প্রায় ৭ হাজার ৪০০ পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হবে।