বাসস
  ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:৩৭

তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : ডা. বিধান রঞ্জন রায়

সোমবার সিরডাপে ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন—পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ২৬ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আইনে রূপান্তর করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে জনমত গঠন এবং ভবিষ্যতে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের বোঝাতে হবে—এই অধ্যাদেশ আইন হিসেবে কার্যকর হলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তা সুদূরপ্রসারী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। 

আজ সোমবার সিরডাপের ইন্টারন্যাশনাল হলে উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা (উবিনীগ) আয়োজিত ‘তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫: স্বাস্থ্য সুরক্ষায় যুগান্তকারী অর্জন—পরবর্তী করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, তামাক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন গোষ্ঠী পর্দার আড়ালে নানা কাজ করে। তামাক চাষ, বিপণন ও বিক্রির মাধ্যমে কীভাবে মানুষকে আসক্ত করা হয়, সেই বিষয়গুলো আজকের আলোচনায় উঠে এসেছে। নীতি নির্ধারকদের প্রভাবিত করার মাধ্যমেও তামাক কোম্পানিগুলো গোপনে কাজ করে থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি।

তিনি বলেন, কোনো কিছু তখনই আসক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়, যখন একজন ব্যক্তি জানে এটি তার জন্য ক্ষতিকর, তবুও সে তা ব্যবহার করে। ক্ষতি বুঝেও থামাতে না পারা, ব্যবহারে বাধা পেলে বিরক্ত হওয়া, বারবার ব্যবহার করার তাগিদ অনুভব করা এবং ব্যবহার বন্ধ করলে শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভোগা—এসবই আসক্তির লক্ষণ। এই অবস্থাকে উইথড্রয়াল ইফেক্ট বলা হয়, যার কারণে ব্যবহারকারী আবার মাদক বা সিগারেট গ্রহণে ফিরে যায়।

ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার আরও বলেন, মাদকের একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো বারবার ছাড়ার চেষ্টা করে আবার শুরু করা, যা তামাকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। আসক্তির সব লক্ষণ থাকা সত্ত্বেও তামাককে এখনও মাদক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর পেছনে রয়েছে আন্তর্জাতিক শ্রেণিবিন্যাস পদ্ধতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজেস (আইসিডি) এবং আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশনের ডায়াগনস্টিক অ্যান্ড স্ট্যাটিস্টিক্যাল ম্যানুয়াল (ডিএসএম) —এই দুই ফোরামের মাধ্যমে রোগের শ্রেণিবিন্যাস করা হয়।

সেমিনারে সবশেষে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়, আগামী জাতীয় সংসদ জনস্বাস্থ্যকে প্রাধান্য দিয়ে তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫ আইন আকারে পাস করবে। সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগ অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাস করতে যথাযথ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে সুশীল সমাজ, তরুণ সমাজ ও গণমাধ্যম অধ্যাদেশটি আইন আকারে পাস করতে জনমত সৃষ্টি এবং তামাক কোম্পানির হস্তক্ষেপ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে।

ড. এম. এ. সোবহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ রাশেদা কে. চৌধুরী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এবং জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেলের মহাপরিচালক মো. আখতারউজ-জামান। এছাড়া সেমিনারে বিভিন্ন পেশাজীবী, অংশীদার ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।