শিরোনাম

ঢাকা, ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ জাতীয় ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে আরও ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু করেছে। এর ফলে ন্যাশনাল ডেটা সেন্টার (এনডিসি)-এর ক্লাউড ফ্যাসিলিটির বিভিন্ন কম্পোনেন্টের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ভৌত অবকাঠামো, স্টোরেজ, মেমোরি ও প্রসেসিং পাওয়ার, সিকিউরিটি এবং মনিটরিং এই পাঁচটি মূল কম্পোনেন্টের সক্ষমতা কয়েকগুণ সম্প্রসারণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমানে জাতীয় ডেটা সেন্টারের আওতায় পরিচালিত বিদ্যমান ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টারের সক্ষমতা বাস্তব চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান এবং ভবিষ্যৎ চাহিদা বিবেচনায় যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কে একটি নতুন তিনতলাবিশিষ্ট টায়ার-৩ সার্টিফায়েড পূর্ণাঙ্গ ডিজাস্টার রিকভারি ডেটা সেন্টার নির্মাণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নতুন ডেটা সেন্টারে উচ্চ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন দুই শতাধিক আইটি কেবিনেট ও রেক স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যেখানে কম্পিউটিং ওয়ার্কলোডের পাশাপাশি এআই ওয়ার্কলোডও হোস্ট করা যাবে। বর্তমানে এ সক্ষমতা মাত্র ১৬টি সাধারণ বিদ্যুৎ সক্ষমতাসম্পন্ন রেকে সীমাবদ্ধ।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সরকারের ছয় শতাধিক সংস্থার ই-মেইল সিস্টেম এবং ক্লাউড স্টোরেজ হোস্টিং সেবা প্রদানের লক্ষ্যে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কম্পিউটিং অবকাঠামো হিসেবে নিউটানিক্স প্রাইভেট ক্লাউড ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্থাপন করা হয়েছে। এ অবকাঠামোর আওতায় আধুনিক জিপিইউ সেবাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এতে সরকারি বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) ওয়ার্কলোড পরিচালনার পাশাপাশি জেনারেটিভ এআই এবং লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) ভিত্তিক উদ্ভাবনী সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
এছাড়া, গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সরকারি ডিজিটাল অ্যাপ্লিকেশনসমূহ আধুনিকায়ন এবং সফটওয়্যার জীবনচক্র ব্যবস্থাপনায় ডেভওপস ও ডেভসেকওপস প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।
এসব কার্যক্রমের ফলে বর্তমানে জাতীয় ডেটা সেন্টারের ক্লাউড অবকাঠামোর প্রসেসিং সক্ষমতা প্রায় ৪০ হাজার ভার্চুয়াল কোর, মেমোরি সক্ষমতা ১৭০ টেরাবাইট এবং প্রায় ৪০ পেটাফ্লপ এআই সক্ষমতা অর্জিত হয়েছে। এর একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাংলা লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল (এলএলএম) উন্নয়নে ব্যবহৃত হচ্ছে।
একই সঙ্গে প্রায় ৮ পেটাবাইট স্টোরেজ সক্ষমতা সম্প্রসারণ করা হয়েছে, যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যাকআপের জন্য ফিজিক্যাল আইসোলেশন সুবিধাসহ এন্টি-র্যানসমওয়্যার স্টোরেজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ছোট ও মাঝারি আকারের এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য এনভিডিয়া ভোল্টা আর্কিটেকচার টেনসর কোর জিপিইউ ভিত্তিক ক্লাউড রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট প্ল্যাটফর্ম স্থাপন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাতীয় ডেটা সেন্টারে ২০১৯ সালে প্রথমবারের মতো সরকারি ক্লাউড সেবা চালু হলেও সে সময় মাত্র ১১টি ক্যাটাগরিতে ক্লাউড সেবা দেয়া হতো। ধারাবাহিক উন্নয়নের অংশ হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা, তথ্য সুরক্ষা, পারফরম্যান্স মনিটরিং এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন অগ্রাধিকারমূলক খাতে বর্তমানে এই ১৯টি নতুন ক্লাউড সেবা চালু করা হয়েছে।