বাসস
  ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭:১২

ডিএনসিসি’র নির্দেশিকা: ২ বছরের আগে বাড়ি ভাড়া বাড়ানো যাবে না

ঢাকা, ২০ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): রাজধানী ঢাকার ভাড়াটিয়াদের অধিকার সুরক্ষা এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যকার বিরোধ নিষ্পত্তিতে বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)।

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, কোনো অবস্থাতেই দুই বছরের আগে বাড়ির ভাড়া বাড়ানো যাবে না। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার ক্ষেত্রে তিন মাসের বেশি অগ্রিম গ্রহণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপত্তার স্বার্থে ভাড়াটিয়াকে বাড়ির ছাদ ও মূল গেটের চাবি প্রদান করতে হবে।

ডিএনসিসি’র প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা স্বাক্ষরিত ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৯১’-এর আলোকে ১৬ দফার এই নির্দেশিকা জারি করা হয়।

আজ ডিএনসিসির প্রশাসক মোহাম্মাদ এজাজ এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার বাড়ি ভাড়া সংক্রান্ত নতুন নির্দেশিকা প্রকাশ করেন। ডিএনসিসির ভবনে ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

ডিএনসিসির নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনো বাড়িতে ভাড়া নির্ধারণের পর তা পরবর্তী দুই বছর পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। দুই বছর অতিবাহিত হওয়ার পর দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ভিত্তিতে ভাড়া পরিবর্তন করা যাবে। তবে বার্ষিক ভাড়ার পরিমাণ কোনোভাবেই সংশ্লিষ্ট বাজার মূল্যের ১৫ শতাংশের বেশি হতে পারবে না। এছাড়া, বাড়ি ভাড়ার ক্ষেত্রে ১ থেকে ৩ মাসের বেশি অগ্রিম গ্রহণ করা যাবে না।

নিরাপত্তা ও প্রবেশাধিকার :

সাম্প্রতিক সময়ে অগ্নিকাণ্ড, ভূমিকম্পসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বাড়িওয়ালা তার প্রতিটি ভাড়াটিয়াকে ছাদের ও মূল গেটের চাবি শর্তসাপেক্ষে প্রদান করবেন বলে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে।

নির্দেশিকায় অনুযায়ী, বাড়িতে ভাড়াটিয়ার যেকোনো সময়ে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত থাকবে। বাড়ির সার্বিক নিরাপত্তা বা শৃঙ্খলা নিশ্চিতে বাড়িওয়ালা কোনো পদক্ষেপ নিলে তা অবশ্যই ভাড়াটিয়াকে অবগত করতে হবে। একই সঙ্গে তা বাস্তবায়নের আগে মতামত গ্রহণ করতে হবে।

চুক্তি ও রসিদ বাধ্যবাধকতা :

নির্দেশনা বলা হয়েছে, বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে অবশ্যই লিখিত চুক্তি থাকতে হবে। ভাড়াটিয়া প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে ভাড়া পরিশোধ করবেন এবং বাড়িওয়ালা এর বিপরীতে স্বাক্ষরযুক্ত লিখিত রসিদ প্রদান করতে বাধ্য থাকবেন।

নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাড়ির মালিককে অবশ্যই ঘর বসবাসের উপযোগী রাখতে হবে। যেমন- গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানিসহ গৃহস্থালি বর্জ্য সংগ্রহের নিরবচ্ছিন্ন সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া মালিক ও ভাড়াটিয়া উভয় পক্ষকে ছাদ ও বারান্দায় সবুজায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

বিরোধ নিষ্পত্তি :

নির্দেশিকা মতে, কোনো ভাড়াটিয়া নিয়মিত ভাড়া দিতে ব্যর্থ হলে সরাসরি উচ্ছেদ না করে প্রথমে মৌখিক এবং পরবর্তীতে দুই মাসের লিখিত সতর্কতামূলক নোটিশ দিতে হবে। এছাড়া আবাসিক ভবনের ক্ষেত্রে চুক্তি বাতিলের জন্য উভয় পক্ষকে দুই মাসের নোটিশ প্রদান করতে হবে।

ভাড়া সংক্রান্ত যেকোনো বিবাদ মেটানোর জন্য ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়া সমিতি গঠনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে সমাধান না হলে সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার (জেডও) মাধ্যমে বিষয়টি নিষ্পত্তি করার বিধান রাখা হয়েছে নির্দেশিকায়।

ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, এই নির্দেশিকা মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করতে ভবিষ্যতে জোনভিত্তিক মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হবে।