বাসস
  ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৩

রাজস্ব খাতের ‘উপবৃত্তির’ সংখ্যা ও টাকার হার বাড়াচ্ছে সরকার

নাজিউর রহমান সোহেল 

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস): দেশের রাজস্বখাতের বিভিন্ন ক্যাটাগরির উপবৃত্তির সংখ্যা ও মাসিক টাকার হার কয়েকগুণ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।

দীর্ঘ এক দশক পর দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, উপজাতি ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ-স্নাতক স্তর) উপবৃত্তির সংখ্যা বাড়তি ২০ শতাংশ এবং মাসিক টাকার পরিমাণ আগের তুলনায় অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

এর বাইরে বিভিন্ন শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজসহ পেশামূলক উপবৃত্তির সংখ্যা এবং মাসিক টাকার হার একই হারে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিদ্ধান্তের আলোকে রাজস্বখাতের উপবৃত্তি বাড়ানোর প্রস্তাব করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। এ সংক্রান্ত প্রস্তাবের খসড়া গত ৭ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। 

মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি. এম. আব্দুল হান্নান বাসসকে জানান, ২০১৫ সালের পর মাউশির আওতাধীন রাজস্বখাতের বিভিন্ন উপবৃত্তির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ বাড়ানো হয়নি। বর্তমান বাজারমূল্য বিবেচনায় এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এসব স্তরের উপবৃত্তির হার ও টাকার পরিমাণ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা থেকেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

মহাপরিচালক বলেন, মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পাঠানো প্রস্তাবটি অর্থ বিভাগের অনুমোদন পাওয়া গেলে আমরা সেটি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করব।

মন্ত্রণালয়ে পাঠানো খসড়া প্রস্তাবে মাউশি বলছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে রাজস্বখাতের সকল স্তরের উপবৃত্তির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমান বাজারদর এবং শিক্ষার্থীর সংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে টাকার হার ও সংখ্যা বৃদ্ধি করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভার কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্তের আলোকে মাউশির রাজস্বখাতভুক্ত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, উপজাতি ও বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ থেকে স্নাতক স্তর) উপবৃত্তির বর্ধিত সংখ্যা ও টাকার হার অনুযায়ী সম্ভাব্য ব্যয়ের একটি সার-সংক্ষেপ প্রস্তুত করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাবিনা ইয়াসমিন বাসসকে বলেন, সম্প্রতি মন্ত্রণালয়ে এ সংক্রান্ত এক সভার সিদ্ধান্তের আলোকে মাউশি কাছ থেকে রাজস্ব খাতের সকল উপবৃত্তি বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। মন্ত্রণালয়ের বাজেট শাখা থেকে প্রস্তাবের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। 

তিন ক্যাটাগরির উপবৃত্তি বাড়ছে : 

মাউশির প্রস্তাবনা অনুযায়ী, দেশের সংখ্যালঘু ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ক্যাটাগরিতে খ্রিষ্টান, বৌদ্ধ, তফশিলি হিন্দু, সশস্ত্র বাহিনী এবং উপজাতীয় শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৮ হাজার ৭৬০ থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৫১২ জনে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বার্ষিক সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৬০০ টাকা। বর্তমানে এ খাতে সরকারের ব্যয় হচ্ছে ১ কোটি ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা। 

প্রস্তাবনা মতে, অন্যদিকে প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থী ‘গ’ ক্যাটাগরিতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের (৬ষ্ঠ-স্নাতক) জন্য উপবৃত্তির সংখ্যা ১ হাজার ৭৩৫ জন থেকে বাড়িয়ে ২ হাজার ৮২ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। মাসিক টাকার হারের পাশাপাশি তাদের বার্ষিক এককালীন ভাতার পরিমাণও বৃদ্ধি পেয়েছে। এই খাতে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ১৩ লক্ষ ১৭ হাজার ৪০০ টাকা। বর্তমানে ব্যয় হচ্ছে কোটি ৪১ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা। 

মাউশির প্রস্তাবনা আরও বলা হয়, এছাড়া পেশামূলক উপবৃত্তি হিসেবে দেশের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজ (বিএড), চারুকলা (বিএফএ ও এমএফএ) এবং গার্হস্থ্য অর্থনীতির শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তির সংখ্যা ৭ হাজার ২৩০ জন থেকে বাড়িয়ে ৮ হাজার ৬৭৬ জন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৪২ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। বর্তমানে এখাতে ব্যয় হচ্ছে ৪ কোটি ৯৫ লাখ ১৮ হাজার টাকা। 

আর্থিক পরিবর্তনের চিত্র : 

প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগে যেখানে ৬ষ্ঠ-১০ম শ্রেণির উপবৃত্তি টাকা ছিল মাসিক ১৫০ টাকা, তা বাড়িয়ে ২০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। একইভাবে মাস্টার্স পর্যায়ের উপবৃত্তি ৪০০-৪৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০০ টাকা এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাস্টার্স পর্যায়ের হার ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৭৫ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

মাউশি জানিয়েছে, মাসিক হারের পাশাপাশি বাৎসরিক এককালীন অনুদানের পরিমাণও কয়েকগুণ বৃদ্ধির প্রস্তাব খসড়াতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। 

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার সহকারী পরিচালক কামরুন নাহার বাসসকে বলেন, ‘প্রস্তাবটি অনুমোদন হলে দেশের হাজার হাজার সুবিধাবঞ্চিত ও মেধাবী শিক্ষার্থী উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণে আরও বেশি উৎসাহী হবে। একই সঙ্গে তাদের পড়াশোনার আর্থিক ব্যয়ভার লাঘব হবে।’ 

তিনি জানান, নতুন এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে প্রায় সকল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরাই বর্তমান হারের চেয়ে অন্তত ২৫ শতাংশ বেশি উপবৃত্তির অর্থ সহায়তা পাবে।