বাসস
  ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১
আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:২৫

নারী ও শিশুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি : শারমীন এস মুরশিদ

সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ সোমবার রাজধানীর গুলশানে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিকতা এক্সপেনশন সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতা করেন। ছবি: পিআইডি

ঢাকা, ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ (বাসস) : সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেছেন- নারী ও শিশুরা আমাদের সমাজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলেও বাস্তবতায় তারাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকে। তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

সোমবার রাতে রাজধানীর গুলশানে লেকশোর হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘নাগরিকতা এক্সপেনশন সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, ১৬ কোটির বেশি মানুষের দেশ বাংলাদেশ সাম্প্রতিক দশকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করলেও শাসনব্যবস্থা, মানবাধিকার এবং জেন্ডার সমতার ক্ষেত্রে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

এসব চ্যালেঞ্জ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে এসডিজি-৫ (জেন্ডার সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন) এবং এসডিজি-১৬ (ন্যায়ভিত্তিক, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠন) বাস্তবায়নে আরও মনোযোগ ও সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ বলেন, ‘নাগরিকতা শুধু একটি আইনি পরিচয় নয়— এটি মর্যাদা, অধিকার এবং সম্ভাবনার প্রতীক। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে নাগরিকতার স্বীকৃতি তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, নিরাপত্তা ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির পথ সুগম করে।”

তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশুদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা সময়ের দাবি। এজন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট সব উদ্যোগে নারী ও শিশুদের অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি। সমাজকল্যাণ এবং নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘কোনো নারী বা শিশু যেন পরিচয়হীনতার কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা সামাজিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়—এটাই আমাদের লক্ষ্য। এই প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা স্থানীয় পর্যায়ে সেবা পৌঁছে দেওয়া, ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো এবং জনসচেতনতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছি।’ নারীর ক্ষমতায়ন ও শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত হলেই টেকসই উন্নয়ন সম্ভব—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকার, বেসরকারি সংস্থা ও কমিউনিটির সমন্বিত প্রচেষ্টায় নাগরিকতা প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে। এই প্রেক্ষাপটে ‘নাগরিকতা: সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড (সিইএফ)’ একটি সময়োপযোগী ও কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো নাগরিক সমাজকে সক্রিয় করা এবং গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ইস্যুতে সরকারের সঙ্গে জবাবদিহিমূলক ও কার্যকর সম্পর্ক গড়ে তোলা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- বাংলাদেশে কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং, সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি। এছাড়া বক্তব্য দেন- মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহিন আনাম, নারী অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা এবং এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর পরিচালক ড. কে এম মামুন উজ্জামান।